শ্যামনগরে যাত্রার নামে চলছে নগ্ননৃত্য: বসছে জমজমাট মদ গাজা ও জুয়ার আসর!

ক্রাইমবার্তা রিপোট:জেলার শ্যামনগর থানা থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দুরে সোনারমোড় নামক স্থানে যাত্রার নামে চলছে যুবতীদের নগ্ননৃত্য।

31

বসছে মদ, গাজা ও জুয়ার জমজমাট আসর। স্থানীয় প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের করা হয়েছে ম্যানেজ। পাশাপাশি অনৈতিক এই আসর নির্বিঘেœ পরিচালনার জন্য নিরাপত্তায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
প্রাপ্ত তথ্যে জানাগেছে, যাত্রা গানের অনুমতি নিয়ে শ্যামনগরের সোনারমোড়ে যাত্রার নামে চলছে যুবতী নগ্ন নৃত্য, মদ, গাজা ও জুয়ার আসর। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় রামী, তিন গুটি ফ্লাশ, ৩ তাস ফড়সহ নানা ধরনের জুয়া খেলা। এরপর রাত একটু গভীর হলেই চলে নগ্ন নৃত্য। উঠতি বয়সের যুবকরা এর দর্শক। যৌন উত্তেজক গানের তালে তালে নগ্ন নৃত্য চলে আরও চলে জোড়ায় জোড়ায় করতালি। এই নৃত্য চলার সময় ফ্রিস্টাইলে চলে মদ, গাজা, ফেনসিডিলসহ নানা নেশার দ্রব্যের ব্যবহার। এছাড়া কিছু কিছু অসাধু ব্যক্তি সুযোগ বুঝে নেশার সামগ্রী বিক্রি করছে ফেরি করে। থানা প্রশাসনের  কয়েকজন কর্তব্যরত দারোগা সেখানে সার্বক্ষনিক নিয়োজিত থেকে সব কিছু উপভোগ করতে দেখা যায়।
স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ এসব আপত্তিকর কর্মকান্ডের সুযোগ দিয়ে প্রতি রাতে মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে চলেছেন। একই সাথে স্থানীয় গনমাধ্যম কর্মীরাও কম নয়। তারাও পাচ্ছেন যথেষ্ঠ সুযোগ সুবিধা। নিয়মিত এই নগ্ননৃত্যের জন্য উঠতি বয়সের যুবকরা আসক্ত হয়ে টাকার অভাবে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
উপজেলার ধুমঘাট গ্রমের সাধু রঞ্জন জানান, গত মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে মুরগীর চিৎকারের শব্দে ঘুম থেকে উঠে দেখতে পায় ৫/৬ জন যুবক অস্ত্র হাতে নিয়ে ১০টি মুরগী চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি চিৎকার করার চেষ্টা করলে তাকে ভয় দেখিয়ে ত্রাস সৃস্টি করে চলে যান তারা। রমজান নগর গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী সাধন মাঝি জানান, মাছ বিক্রি করে টাকা নিয়ে যাওয়ার সময় রাত দেড় টার দিকে চিংড়ি খালী বিলে পৌছালে কয়েক যুবক তার গতিরোধ করে ১৭ হাজার টাকা কেড়ে নেয়।
এই অপসংস্কৃতি বন্ধে সচেতন এলাকাবাসী উর্দ্ধতন পুলিশ কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার সুধি মহল।
তবে এসব অভিযোগ শ্যামনগর থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান অস্বীকার করে বলেন, যাত্রা গানের অনুমতি দেয়া হয়েছে ১৫দিনের। এরমধ্যে ২/৩দিন হচ্ছে। বাকি দিনগুলো সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করার লক্ষে সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, কোন ধরনের অনৈতিক কিছু হওয়ার সুযোগ নেই। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবং পুলিশের পক্ষ থেকে সেখানে নিয়মিত মনিটরিং করার জন্য লোকবল দেয়া হয়েছে। তেমন অনৈতিক কার্যক্রমের অভিযোগ পেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Please follow and like us:
Facebook Comments