আল্লাহু আল্লাহু ধ্বনিতে মুখরিত ইজতেমা ময়দান আজ চট্টগ্রামের আঞ্চলিক বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু

ক্রাইমবার্তা রিপোট: মোঃ আলাউদ্দীন,হাটহাজারী(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার চারিয়ায়  ২৯শে ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বাদে ফজর হতে আম বয়ানের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মত শুরু  হলো মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমাবেশ বিশ্ব ইজতেমার অংশ চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ইজতেমার প্রথম পর্ব। এতে লক্ষ লক্ষ আগত মুসল্লিগন মনোযোগ সহকারে নছিহতগুলো শ্রবণ করছেন। ২৯ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ৩১শে ডিসেম্বর শনিবার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ আঞ্চলিক ইজতেমা। হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়া নামক স্থানে বিশাল জায়গা জুড়ে তৈরী করা ইজতেমা ময়দানে তিনদিনের প্রথমদিনের ইজতেমার বয়ান চলছে। ইজতেমার বিশাল ময়দান জুড়ে টাঙানো হয়েছে চটের সামিয়ানা। জেলা ওয়ারি খিত্তার ভাগসহ বিদেশি মেহমানদের জন্য ইজতেমা ময়দানের পাশে নির্মাণ করা হয়েছে টিনসেডের আলাদা থাকার জায়গা। ইজতেমা সফলভাবে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি ব্যবস্থা। বিশ্ব ইজতেমার সমন্বয়ক মাওলানা মুফতি জসিম উদ্দিন জানান, স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইজতেমা মাঠের কাজ সম্পন্ন করছেন। ধর্মপ্রান মুসল্লিরা এখানে তাবলীগ জামাতের শীর্ষ আলেমদের বয়ান শোনে ইসলামের দাওয়াতি কাজ বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য জামাতবদ্ধ হন।7
সরেজমিনে পরিদর্শনে জানা যায়, ৪০ লক্ষ স্কয়ার ফিট বিশাল সামিয়ানা তৈরীর আগে মাত্র ৩ দিনে নির্মিত হয়েছিলো মদিনা মসজিদ। যার আয়তন ২৩৪০০বর্গ ফিট। এতে প্রায় দশ হাজার মুসল্লি একসাথে জামাত আদায় করতে পারবেন। প্রস্তুুত করা হয়েছে ১৫ থেকে ২০ লক্ষ মুসল্লির ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন প্রায় দুই কিলোমিটার শামিয়ানা। বিশাল সংখ্যক মুসল্লিদের জন্য ময়দানে নির্মাণ করা হয়েছে ২৫০০শৌচাঘার, খনন করা হয়েছে ১৫টি পুকুর ও ১২টি হাউজ। বিশাল এই ইজতেমার নিরাপত্তা নির্বিঘœ করতে হাটহাজারী উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা নাসির উদ্দীন মুনীর এর সমন্বয়ে করা হয়েছে নিরাপত্তা কমিটি। নিরাপত্তা কমিটির উদ্দোগে সরকারীভাবে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সহ চার স্তরের নিরাপত্তা বেস্টনিতে সাজানো হয়েছে ইজতেমা ময়দান। সেনিটেশন, বিদ্যুৎ, চিকিৎসা সেবাসহ পানির সুবিধার্থে করা হয়েছে ৫টি ঝর্ণা, ১০টি গভীর ডিপকল এবং মেডিকেল ক্যাম্পের ব্যবস্থা । অপরদিকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর পক্ষ থেকেও চারটি ক্যাম্প করা হয়েছে। মুসল্লিদের অজু ও স্নানের সুবিধার জন্য ময়দানের দক্ষিণ পাশের আনিস খালকে উন্মুক্ত করে বেধে দেয়া হয়েছে ঘাটলা।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) শামসুল আরেফিন জানান, ইজতেমা সফল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর মধ্যে রয়েছে ইজতেমা এলাকার পরিবেশ উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মুসল্লিদের চিকিৎসা সেবায় পর্যাপ্ত সংখ্যক অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইজতেমা স্থলের সার্বিক নিরাপত্তা বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা সাংবাদিকদের বলেন, ইজতেমায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য মুসল্লীসহ তাবলীগ জামাতের পাশাপাশি দেশী-বিদেশী মেহমান, ভিআইপি ও ভক্তবৃন্দরা এসে আখেরী মোনাজাতে অংশ নেবেন।
এর আগে ইজতেমা সফল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইজতেমা মাঠ পরিদর্শনসহ তাদের প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন করেছিলেন। চট্টগ্রাম আঞ্চলিক বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের প্রবেশ পথে তল্লাশির ব্যবস্থা ছাড়াও র‌্যাব ও পুলিশের ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ,সিসিটিভি স্থাপন, খিত্তাওয়ারি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ কাজ করছে। আঞ্চলিক বিশ্ব ইজতেমার চট্টগ্রামে  অংশ নেওয়া জেলাগুলো হলো-কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালি,লক্ষীপুর,ফেনী,চাঁদপুর,কুমিল্লা,ব্রাহ্মণবাড়ীয়া।

উল্লেখ্য ১৯৬৭ সাল থেকে নিয়মিত বিশ্ব ইজতেমা টঙ্গির তুরাগ নদীর তীরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের স্থান সংকুলান না হওয়ায় এবার থেকে কয়েকটি বিভাগে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করা হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতাই চট্টগ্রামের অংশ হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়া গ্রামে প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত হচ্ছে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক বিশ্ব ইজতেমা।

Facebook Comments
Please follow and like us: