সাতক্ষীরায় সরকার দলিয় লোক জনের জনতার রোষানলে গলা ধাক্কা খেলেন জেলা পরিষদ কর্মকর্তা

ক্রাইমবার্তা রিপোট: জেলা পরিষদের নির্বাচনী ফলাফল পেয়েই বৃহস্পতিবার সকালে পাঁচ শতাধিক নারী পুরুষ, দলবদ্ধ হয়ে জেলা পরিষদ ঘিরে ফেলে প্রশাসনিক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানকে কক্ষ থেকে টেনে বের করে আনে। এ সময় তারা তাকে  দিয়ে গেট খুলিয়ে জেলা পরিষদের পুকুর ঘাট ও একাধিক কক্ষ ঝাড়ু দিয়ে নেন। এসময় তাকে শাররীকভাবে লাঞ্ছিত করে ও গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া হয়।16

এই হামলার কারণ হিসাবে রসুলপুর গ্রামবাসী অভিযোগ করে বলেন, দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তা বিভিন্ন উন্নয়নের কথা বলে তাদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। জেলা পরিষদের পুকুর বন্দোবস্ত দেওয়ার নামে তিনি চরম দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি জেলা পরিষদের একটি পুকুরের ঘাট ভেঙ্গে দিয়ে জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করেছেন। এসব কারণে তারা তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত  জেলা যুবলীগের আহবায়ক আবদুল মান্নান জানান, বিক্ষুব্ধ জনতা মাহবুবুর রহমানের কাছে প্রাপ্য টাকা দাবি করেন। তারা তাকে ঘর থেকে বের করে আনে। কিল চড় ঘুষি মেরে তারা তাকে জেলা পরিষদ  চত্বর থেকে বের করে দেয়।

‘সাতক্ষীরা জলা পরিষদকে দীর্ঘদিন ধরে তিনি তার একক কর্তৃত্বের আওতায় নিয়ে ব্যবহার করেন। ১৯৯০ সালে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারি হিসাবে জেলা পরিষদে যোগদানকারী মাহবুবুর রহমান  ২৬ বছর পর  এখন প্রশাসনিক অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন। কেউ তাকে বদলি করার ক্ষমতা রাখেন না বলে আস্ফালন করেন তিনি। এর মধ্যে তিনি পঞ্চগড় ও জামালপুরে পরপর দুইবার বদলি হলেও সেখানে বেশি সময় থাকতে হয়নি তাকে। আবারও তিনি ফিরে এসেছেন নিজ জেলা সাতক্ষীরায়।  তিনি তার সময়কার প্রশাসক এবং প্রধান নির্বাহীদের দুর্নীতির মুখে ঠেলে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মসজিদ মাদ্রাসা স্কুল কলেজ  উন্নয়নের নাম করে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ৩০ শতাংশ করে টাকা আদায় করেন। নদীর ঘাট উন্নয়ন ও ইজারার নামে একইভাবে টাকা আদায় করে থাকেন।’

অফিসের একটি সূত্র জানায়, তিনি সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের এক নারীর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এতে তার স্ত্রী অপমানিত হয়ে দুইবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি সন্ত্রাস সৃষ্টির লক্ষ্যে তার নিজ গ্রাম মাটিয়াডাঙ্গায় বোমা টীম গঠন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মাহবুবুর রহমান জলবায়ু ট্রাস্ট খাতে পাওয়া টাকা নয় ছয় করেছেন এবং গৃহ  পাবার যোগ্য নন এমন অনেক গৃহস্থকে এই ফান্ডের টাকায় দুর্নীতির মাধ্যমে পাকা দালান বাড়ি নির্মাণ করে দিয়েছেন। এ নিয়ে সাতক্ষীরায় মামলা হয়েছে। এই মামলা পরিচালনাকারী একজন আইনজীবীকে মারধর এবং তার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটান বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঠিকাদাররা অভিযোগ করে বলেন, প্রতিটি টেন্ডারের সময় মাহবুবুর রহমানকে নগদ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। এ কারণে তিনি মি. টুয়েন্টি পার্সেন্ট হিসাবে পরিচিত হয়েছেন। তিনি তার  প্রয়াত বাবা আবদুর রউফের নামে প্রায় এক ডজন  প্রতিষ্ঠান তৈরি করে সেসব প্রতিষ্ঠানে জেলা পরিষদের টাকা বেআইনিভাবে ব্যবহার করেছেন। মাহবুব এখন অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার ও তার পরিবারের সদস্যের নামে ব্যাংকে মোটা অংকের টাকা রয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, গত বছরের শেষের দিকে ঢাকা ব্যাংকে বড় অঙ্কের একটি টাকা এফডিআর করেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করলে তার সকল দুর্নীতি বেরিয়ে আসবে বলে অভিযোগ করেন তারা। চাকরিকালে তিনি তার কয়েক স্বজনকে জেলা পরিষদে চাকরি দিয়েছেন।

গ্রামবাসী বলেন, ব্যাপক দুর্নীতি শেষে তিনি অন্যত্র বদলি হয়ে যাবার চেষ্টা করছিলেন। এজন্য গ্রামবাসী এই হামলা চালায়।

এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মাহবুবুর রহমান বলেন, বিক্ষুব্ধ জনতা তার ওপর হামলা করেছে। তারা তাকে অপমান করে বের করে দিয়েছে। কোনো দুর্নীতির সাথে তিনি জড়িত নন দাবি করে বলেন, নির্বাচনে তিনি একটি পক্ষ গ্রহন করায় জনতা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। বিষয়টি তিনি সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারকে জানিয়েছেন বলে জানান।

হামলার খবর পেয়ে জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম অফিস পরিদর্শনে যান। তিনি মাহবুবকে দুর্নীতিমুক্ত হবার আহবান জানান।

Facebook Comments
Please follow and like us: