গাজীপুরে হত্যা মামলায় ৩ ভাই ও তাদের ভগ্নিপতির যাবজ্জীবন কারাদন্ড

ক্রাইমবার্তা রিপোট:গাজীপুর সংবাদদাতা, গাজীপুরে একটি হত্যা মামলায় তিন ভাই ও তাদের ভগ্নিপতিকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে আদালত।  সোমবার দুুপুরে গাজীপুরের অতিরিক্ত দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচার মোঃ ইকবাল হোসেন এ রায় প্রদান করেন। রায়ে একই সঙ্গে আসামিদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।17
সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলো- গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানার রামচন্দ্রপুর গ্রামের মোঃ সোবাহানের ছেলে মোঃ মাসুদ, সানাউল্লাহ, নূরে আলম উরফে ময়না ও তাদের ভগ্নিপতি বরিশালের কোতয়ালী থানার হরিনাফুলিয়া গ্রামে গণি শিকদারের ছেলে আনোয়ার শিকদার। রায় ঘোষণাকালে নুরে আলম ওরফে ময়না আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত থাকলেও অপর তিন আসামি পলাতক রয়েছে।

গাজীপুর আদালতের আইনজীবী মোঃ হাফিজ উল্লা দরজী জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ২০০৪ সালে ১৫ এপ্রিল বিকালে কালীগঞ্জে রামচন্দ্রপুর এলাকার শামসুল হক দরজিকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় মাসুদ ও তার ভাই সানাউল্লাহ। এক পর্যায়ে পূর্ব পরিকল্পত ভাবে তাদের হাতে থাকা লাঠি দিয়ে শামসুল হককে মারধর করে। এ সময় পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা নুরে আলম ওরফে ময়না ও তার ভগ্নিপতি আনোয়ার শিকদারও শামসুল হক দরজিকে এলোপাথারি ভাবে মারধর করতে থাকে। এসময় মাসুদের হাতে থাকা ছুরি দিয়ে শামসুল হকের বুকে আঘাত করে।  চিৎকার শুনে শামসুল হকের স্ত্রী হাফেজা বেগম ঘটনাস্থলে ছুটে এসে ডাকচিৎকার করতে থাকেন। পরে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে আসতে থাকলে শামসুল হকেকে রক্তাক্ত আহতাবস্থায় ফেলে রেখে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এলাকাবাসি গুরুত্বর আহতাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শামসুল হক দর্জিকে মৃত ঘোষনা করেন।
পর দিন নিহতের স্ত্রী হাফেজা বেগম বাদি হয়ে ওই চার জনকে আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা তদপ্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবুবকর সিদ্দিক তদন্ত শেষে একই বছরের ১০ অক্টোবর ওই চার জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানী শেষে ঘটনার ১৩ বছর পর সোমবার আদালত এ রায় প্রদান করেন। মামলায় ১৩ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ গ্রহণ করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এড. মোঃ হাফিজ উল্লা দরজি। আসামি পক্ষে মামলা পরিচলান করেন এড. মোঃ সুলতান উদ্দিন।

Please follow and like us:
Facebook Comments