একশ’ টাকা রিচার্জে ১৫ হাজার টাকা বোনাস

ক্রাইমবার্তা রিপোট:’বাংলালিংক নম্বরে ১০০ টাকা রিচার্জ করলে ১৫ হাজার টাকা বোনাস টকটাইম পাবেন। আর ১৪ হাজার টাকা বিকাশ করলে ৭৫ হাজার টাকা পাওয়া যাবে।’
27

এমন প্রলোভন দেখিয়ে প্রবাসীর স্ত্রী দৌলতুন্নেছার কাছে তিন দফায় বিকাশের মাধ্যমে ১৯ হাজার ৪৯০ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র।

অবশ্য বিকাশ এজেন্ট টের পাওয়ায় তিনি আরও ১৪ হাজার টাকা খোয়ানো থেকে রেহাই পেয়েছেন।

শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বগুড়া শহরতলির কর্ণপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের রাজু আহমেদ সৌদি আরবে চাকরি করেন। প্রতি মাসে সংসার খরচের জন্য এক সন্তান ও স্ত্রী দৌলতুন্নেছাকে ২০ হাজার টাকা পাঠান।

শুক্রবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে ওই গৃহবধূর মোবাইল ফোনে (বাংলালিংক) ০১৯৯২-৮৯১৩৫৫ ও ০১৯৯৪-০৯৫৮৫৪ নম্বর থেকে ৫ থেকে ৬ বার রিং আসে।

ফোন রিসিভ করলে তাকে জানানো হয়, বাংলালিংক অফিস থেকে ফোন করা হয়েছে। ১০০ টাকা রিচার্জ করলে ১৫ হাজার টাকা বোনাস (টকটাইম) পাবেন। ফোন কেটে দেয়ার পর বার বার ওইসব নম্বর থেকে রিং আসতে থাকে। একপর্যায়ে তাদের কথায় গৃহবধূর বিশ্বাস হয়।

পরে তিনি দেবর ফৌরদৌসকে সঙ্গে নিয়ে গ্রামের একটি বিকাশ সেন্টার থেকে ১০০ টাকা রিচার্জ করেন। কিছুক্ষণ পর ১৫ হাজার টাকা বোনাসের মেসেজ আসে।

ওই সময় প্রতারকরা বলে, দুই হাজার ১৫০ টাকা বিকাশ করলে ১৫ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। তাদের কথায় বিশ্বাস করে তিনি ওই বিকাশ সেন্টার থেকে তাদের (প্রতারক) দেয়া ০১৮৩০-৯৬৯৪৮৭ নম্বরে ওই পরিমাণ টাকা বিকাশ করলে ১৫ হাজার টাকার মেসেজ আসে। এতে গৃহবধূর বিশ্বাস আরও বেড়ে যায়।

এরপর প্রতারক জানায়, সাত হাজার ১৪০ টাকা বিকাশ করলে ৩০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। তখন তিনি একই নম্বরে ওই পরিমাণ টাকা বিকাশ করলে ৩০ হাজার টাকা বোনাসের মেসেজ আসে।

তৃতীয়বার ওই গৃহবধূকে বলা হয়, ১০ হাজার ২০০ টাকা বিকাশ করলে ৫০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। অধিক লাভের আশায় গৃহবধু দৌলতুন্নেছা ০১৭১৮-২৬৩৬০৪ নম্বরে টাকা বিকাশ করলে ৫০ হাজার টাকা বোনাসের মেসেজ আসে।

চতুর্থবার ফোনে গৃহবধূকে জানানো হয়, ১৪ হাজার টাকা বিকাশ করলে ৭৫ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। গৃহবধূ বিকাশ সেন্টারে গিয়ে ওই পরিমাণ টাকা পাঠানোর উদ্যোগ নেন।

এতে বিকাশ সেন্টারের মালিকের সন্দেহ হলে তিনি ওই গৃহবধূকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। টাকা পাঠানোর বিষয়টি শুনে তিনি তাকে সতর্ক করে দেন।

পরে খোঁজ করে জানতে পারেন, গৃহবধূর ফোনে কোনো টাকা বা বোনাস আসেনি। মেসেজগুলো ভুয়া। প্রতারক চক্র মাদারীপুর ও কক্সবাজার থেকে টাকাগুলো তুলে নিয়েছে।

অতি লোভে প্রতারণার শিকার ওই গৃহবধূ তিন দফায় প্রতারকদের ১৯ হাজার ৪৯০ টাকা পাঠিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন। তিনি জনগণকে এ ব্যাপারে সতর্ক হবার অনুরোধ জানিয়েছেন।

Please follow and like us:
Facebook Comments