সাতক্ষীরায় বিএনপির প্রতিনিধি সভায় পুলিশী হামলা

সাতক্ষীরায় বিএনপির প্রতিনিধি সভায় পুলিশী হাম

১৩ মে ২০১৭, শনিবার |

সাতক্ষীরায় জেলা বিএনপির শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রতিনিধি সভার শেষ মুহূর্তে পুলিশের আতর্কিত হামলা আমাদের বিষ্মিত করেছে। যা আমরা কখনো কল্পনা করিনি। প্রধান অতিথি হিসেবে কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী বক্তব্য দেওয়ার মুহূর্তে হঠাৎ হামলা চালায় পুলিশ। বাইরের চেয়ার ভাংচুর করে। শত শত নেতাকর্মীরা দিকবিদিক ছুটে গেছে। এ ঘটনার তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। এসব কথা জানান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তারিকুল হাসান।

তিনি বলেন, আজ শনিবার সকাল ১০টায় সভা শুরু হওয়ার পর ভালোই চলছিলো। বেলা ১২টা থেকে শিল্পকলা একাডেমীর আশেপাশের এলাকা ঘিরে রাখে পুলিশ ও ডিবি পুলিশ। প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার ঠিক মূহূর্তে বেলা দেড়টার দিকে আতর্কিতভাবে হামলা চালায় পুলিশ। চেয়ার ভাংচুর করে নেতাকর্মীদের বের করে দেয়।

তবে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের এমন অভিযোগের বিষয়ে সদর সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার মেরীনা আক্তার বলেন, আমরা বাইরে অবস্থান করছিলাম। হঠাৎ ভিতরে চিৎকার হুড়োহুড়ি ও দৌড়ো দৌড়ি দেখেই ভিতরে প্রবেশ করি। শান্তিপূর্ণ একটা সভায় আমরা যাবো কেন। আমাদের দায়িত্ব শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখা। দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এমটা হতে পারে।

জেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটির সভাপতি রহমাতুল্লাহ পলাশের সভাপতিত্বে প্রতিনিধি সভায় বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কু-ু, কেন্দ্রীয় নেতা অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডা. শহীদুল আলম, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী আলাউদ্দিন, জেলা সাধারণ সম্পাদক তারিকুল হাসান, বিএনপি নেতা বিএনপি আব্দুর রউফ সহ উপজেলার নেতৃবৃন্দ।

এর আগে অনুষ্ঠার শুরুর সময় শুভেচ্ছা বক্তব্যে প্রধান অতিথি কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী বলেন, আ.লীগের পায়ের তলার মাটি সরে গেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে বলেছেন, এবার তিনি ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচনের দায়িত্ব নিতে পারবেন না।

দেশে আইনের শাসন নেই, প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার দেওয়া বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, আ.লীগ এখন দেউলিয়াত্বে ভুগছে। আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, ক্ষমতায় না থাকলে টাকা-পয়সা নিয়ে বিদেশে পলাতে হবে। জনগণের জাগরণ সৃষ্টি করে উৎসাহ উদ্দীপনা, সাহস ও মনোবল দিয়ে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।

প্রতিনিধি সভায় বিভিন্ন উপজেলার নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। তবে শেষ পর্যায়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যের সময় হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া কেউ ছিলেন না।

প্রধান অতিথি বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বক্তব্য শুরু করার কিছুক্ষন পরই সম্মেলন কক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেরিনা আক্তারের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশসহ সদর থানা পুলিশ প্রবেশ করে অশোভন আচারন শুরু করে।

এসময় দর্শক সারিতে বসে থাকা বিএনপির কর্মীদের একটি চেয়ারে পুলিশ লাঠির আঘাত করলে গ্রেফতার আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন থেকে দলীয় কর্মীরা ছিটকে বের হয়ে যায়। অনেক নেতাকর্মীকে পেটাতেও দেখা গেছে পুলিশকে।

এসময় এ্যানি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পুলিশকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন প্রতিনিধি সম্মেলনে দলীয় নেতা-কর্মী থাকবে। আপনারা কেন ? এসময় পুলিশ তাদেরকে হল রুম থেকে দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে বলেন।

জবাবে জেলা বিএনপির সভাপতি রহমতুল্লাহ পলাশ ৫ মিনিট সময় চাইলে সময় না দিয়ে পুলিশ তাদেরকে বেরিয়ে যেতে বলেন। শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি মাইক্রফোন নিয়ে বিভিন্ন দলীয় স্লোগান দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন। এর পরপরি বাইরে অবস্থান নেওয়া পুলিশ সকল নেতা-কর্মীকে বাঁশি দিয়ে সভাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য করেনন। দুপুর দেড়টার মধ্যেই সভাস্থল ফাঁকা হয়ে যায়।

এব্যাপারে জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক শেখ তারিকুল হাসান পুলিশের অশোভন আচারনের কথা স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, সম্মেলনের শেষ মুর্হুতে ডিবি পুলিশের একটি দল সভাকক্ষে প্রবেশ করে সম্মেলনে বাঁধা সৃষ্টি করে দলীয় কর্মীদের বের করে দেয়। সে কারনে তড়িঘড়ি করে সম্মেলন শেষ করতে বাধ্য হতে হয়।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) মারুফ আহমেদ বলেন, নেতাকর্মীদের মধ্যে বিশৃংখলার সৃষ্টি হয়েছিল। আইনশৃংখলার সম্ভাব্য অবনতির বিষয়টি মাথায় রেখে সমাবেশ সীমিত  করে দেওয়া হয়।

এর আগে সূচনা বক্তব্যে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন. বিএনপি দেশে আর কোনো ৫ জানুয়ারির জন্ম হতে দেবে না

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ‘এবার তিনি ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি নির্বাচনের দায়িত্ব নিতে পারবেন না’।

‘দেশে আইনের শাসন নেই’ প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার দেওয়া এমন বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন ‘আওয়ামী লীগ এখন দেউলিয়াত্বে ভুগছে। তাদের দলের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন ক্ষমতায় না থাকলে টাকা পয়সা নিয়ে বিদেশে পালাতে হবে’।

এ সময় তিনি আরও বলেন, জনগন ২০১২ সালে যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সারাদেশে আন্দোলন করেছিল, একইভাবে এবার জনগণের মধ্যে নতুন জাগরন সৃষ্টি হয়েছে। তাদের উৎসাহ উদ্দীপনা এবং সাহস ও মনোবল দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার হাতকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার সকালে জেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটির সভাপতি রহমাতুল্লাহ পলাশের সভাপতিত্বে প্রতিনিধি সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নেতা জয়ন্ত কুমার কু-ু, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডা. শহীদুল আলম, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী আলাউদ্দিন, সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সহ সভাপতি  আব্দুর রউফ, সাধারণ সম্পাদক তারিকুল হাসান প্রমুখ।

আগামীতে কঠোর আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই মন্তব্য করে এ্যানি বলেন, ‘দেশে আরও একটি ৫ জানুয়ারির জন্ম হতে দেবে না বিএনপি’। আরেকটি  কঠোর আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ। বিএনপি সেই নির্বাচনে অংশ নিতে চায়।

আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, এখনও  সময় আছে গণতন্ত্র চাইলে আপনারা নিরপেক্ষ নির্বাচন দিন। বিএনপি চেয়ারপার্সন ঘোষিত ভিশন ২০৩০ তে জনগণের আশা-আকাংখার প্রতিফলন ঘটেছে।  বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেন্ট নিয়ে ক্ষমতায় এসে তা বাস্তবায়ন করবে।

তিনি পাড়ায় মহল্লায় দলের চেয়ারপার্সনের এই বক্তব্য পৌঁছে দেওয়ার আহবান জানান।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির একান্নটি টিম দেশের বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল পর্যায়ে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজে নেমেছে। এরই মধ্যে সারাদেশে বিএনপি আবারও গর্জে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
##

Please follow and like us:
Facebook Comments