আইনপ্রয়োগকারীরা সক্রিয়, সন্ত্রাসীরা স্বয়ংসম্পূর্ণ জঙ্গিবিরোধী অভিযানে দু’ধরনের বার্তা পাচ্ছে কূটনীতিকরা : মারিয়া পালমা

আইনপ্রয়োগকারীরা সক্রিয়, সন্ত্রাসীরা স্বয়ংসম্পূর্ণ

জঙ্গিবিরোধী অভিযানে দু’ধরনের বার্তা পাচ্ছে কূটনীতিকরা : মারিয়া পালমা

রাজধানীর গুলশানে হোলে আর্টিজানে চরমপন্থীদের ভয়াবহ হামলার পর দেশব্যাপী চালানো সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশী কূটনীতিকরা দু’ধরনের বার্তা পাচ্ছে।

একটি হচ্ছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে ব্যাপকভিত্তিক জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে। সক্রিয় এই অভিযানে চরমপন্থীরা ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে এবং তাদের অনেক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আাগেই নস্যাৎ করে দেয়া হচ্ছে।

আর অপর বার্তাটি হচ্ছে, চরমপস্থীরা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। অস্ত্র, বিশেষ করে বোমা বানানোর ক্ষেত্রে তারা ‘ইমপ্রোভাইসড ডিভাইস’ ব্যবহার করছে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে তারা স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করছে।

ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত মারিয়া পালমা সম্প্রতি নয়া দিগন্তের সাথে আলাপকালে একথা জানান।

গত বছর ১ জুলাই হোলে আর্টিজানে সন্ত্রাসী হামলায় ইতালির সর্বোচ্চ সংখ্যাক নাগরিক নিহত হয়েছিলেন। সংখ্যার দিক থেকে এর পরই ছিল জাপানের নাগরিক।

হোলে আর্টিজানে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ মোট ২২ জন মারা যায়। এর মধ্যে নয়জন ইতালি, সাতজন জাপান, একজন ভারতীয়, একজন বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত মার্কিন নাগরিক ও দুইজন বাংলাদেশী নাগরিক ছিলেন। পরবর্তীতে সেনা অভিযানে চার চরমপন্থীর সবাই নিহত হন।

গুলশানে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে তাবেলা সিজার হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে জঙ্গিরা বিদেশীদের ওপর আক্রমণ শুরু করেছিল। সেই তাবেলা সিজারও ছিলেন ইতালির নাগরিক। পরের মাসেই দুর্বৃত্তদের গুলিতে রংপুরে নিহত হন জাপানের নাগরিক হোসি কোনিও।

বাংলাদেশে বিদেশীদের ওপর জঙ্গি আক্রমণের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে ইতালির নাগরিকরা। এটা কি কাকতালীয় না পরিকল্পিত- প্রশ্ন করা হলে রাষ্ট্রদূত মারিয়া পালমা বলেন, যে কোনোটি হতে পারে। ইতালির এই নাগরিকরা নিয়মিতভাবেই হোলে আর্টিজানে যেতেন। এ কারণে তাদেরকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা সহজ হয়েছে।

হোলে আর্টিজানের ঘটনার পর ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর টেলিফোনে কথা হয়। এতে সন্ত্রাস দমনে দুই দেশ বাংলাদেশে যৌথভাবে কাজ করার কথা বলেছিলেন। সেই কাজের ধরনটি কি- জানতে চাওয়া হলে রাষ্ট্রদূত বলেন, এটি মূলত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়।

পশ্চিমা অপর একটি দেশের মিশন প্রধান বলেন, হেফাজতে ইসলামীর সাথে ক্ষমতাসীন দলের সখ্যতা হিতে বিপরীত হতে পারে। কেননা এ ধরনের ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোকে আজ একটি আঙ্গুল দিলে কাল তারা পুরো হাতটিই চায়। আজ তারা হাইকোর্ট প্রাঙ্গন থেকে ভাস্কর্য অপসরণের দাবি করছে। এটি পূরণ হলে কাল অন্য ভাস্কর্যগুলোরও অপসারণ চাইবে। এটাই তাদের চিরায়ত রীতি।

তিনি বলেন, হেফাজতের সাথে সমঝোতার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা থেকে সরে আসছে। একটি অসাম্প্রদায়িক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। কেননা পাকিস্তানিরা ধর্মকেই বাঙ্গালী নিপীড়নের মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিল।

কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের মধ্যে হিজাব পরার ক্রমবর্ধমান প্রবণতার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে মিশন প্রধান বলেন, ১০ বছর আগেও এই চিত্র ছিল ভিন্ন। অনেকেই এটিকে ফ্যাশনের একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। তার পরও এটির একটি অন্তর্নিহিত কারণ রয়েছে।

Please follow and like us:
Facebook Comments