মাহে রমজানের বার্তা

বছর ঘুরে আবারো রমজান আমাদের দুয়ারে কড়া নাড়ছে। মুমিন বান্দার আমল ও ইবাদতের মৌসুম হলো মাহে রমজানুল মুবারক। অন্য সময়ের ইবাদতের ঘাটতি পুশিয়ে নেওয়ার সর্বোত্তম সময় এটি। আর সেজন্য এই মাসে অন্য সাধারণ আমলের ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি রমজানের বিশেষ আমল বা কর্মসূচিগুলোর প্রতি যতœবান হতে হবে। রোযা সর্ম্পকে আল্লাহ বলেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি রমজান মাস পাবে, সে যেন রোযা রাখে। (-সুরা বাক্কারা ১৮৫)13
আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মহান আল্লাহ বলেন, আদম সন্তানের প্রতিটি সৎকর্ম তার জন্যই; কিন্তু রোজা স্বতন্ত্র, তা আমারই জন্য, আর আমিই তার প্রতিদান দেব।’ রোজা ঢাল স্বরূপ অতএব তোমাদের কেউ যেন রোজার দিনে অশ্লীল না বলে এবং হৈ-হট্টগোল না করে। আর যদি কেউ তাকে গালি-গালাজ করে অথবা তার সাথে লড়াই-ঝগড়া করে, তাহলে সে যেন বলে, আমি রোজা রেখেছি।’ সেই মহান সত্তার শপথ! যার হাতে মুহাম্মদের জীবন আছে, নিঃসন্দেহে রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে মৃগনাভির সুগন্ধ অপেক্ষা বেশী উৎকৃষ্ট।
রোজাদারের জন্য দু’টি আনন্দময় মুহূর্ত রয়েছে, তখন সে আনন্দিত হয়; (১) যখন সে ইফতার করে (ইফতারের জন্য সে আনন্দিত হয়)। আর (২) যখন সে তার প্রতিপালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে, স্বীয় রোজার জন্য সে আনন্দিত হবে।” বুখারির অন্য বর্ণনায় আছে, সে (রোজাদার) পানাহার ও যৌনাচার বর্জন করে একমাত্র আমারই জন্য। রোজা আমার জন্যই। আর আমি নিজে তার পুরস্কার দেব। আর প্রত্যেক নেকী দশগুণ বর্ধিত হয়।’ মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, “আদম সন্তানের প্রত্যেক সৎকর্ম কয়েকগুণ বর্ধিত করা হয়। একটি নেকী দশগুণ থেকে নিয়ে সাতশত গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। মহান আল্লাহ বলেন, কিন্তু রোজা ছাড়া। কেননা, তা আমার উদ্দেশ্যে (পালিত) হয়। আর আমি নিজেই তার পুরস্কার দেব। সে পানাহার ও কাম প্রবৃত্তি আমার (সন্তুষ্টি অর্জনের) উদ্দেশ্যেই বর্জন করে।’ রোজাদারের জন্য দু’টি আনন্দময় মুহূর্ত রয়েছে। একটি আনন্দ হল ইফতারের সময়, আর অপরটি তার প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাৎকালে। আর নিশ্চয় তার মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মৃগনাভির সুগন্ধ অপেক্ষা অধিক উৎকৃষ্ট।” [বুখারি ১৯০৪, ৭৫৩৮, মুসলিম ১১৫১,
রমযান মাস শুধু রোযার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। দিনের বেলা শুধু রোযার জন্য। আর রাত হল কিয়ামুল্লাইল তথা রাত জেগে ইবাদাত করার জন্য। রাত্রি ইবাদতের বিষয়ে হাদীসে অনেক ফযিলতের কথা বর্ণিত হয়েছে। হাদীসে আছে : যে ব্যক্তি রমজান মাসে রাতে জেগে নামায আদায় করবে আল্লাহ তার পিছনের গুনাহ মাফ করে দিবেন। -বোখারী ও মুসলিম
রোযার হেফাযত করতে হবে। রোযা রাখা হল কিন্তু অহেতু কথাবার্তা, ঝগড়া-ফাসাদ থেকে বিরত থাকা হল না হাদীস শরীফের ভাষ্য অনুযায়ী এই রোযার কোনো মূল্য নেই। হাদীসে এসেছে, যে ব্যক্তি (রোযা রেখে) মিথ্যা কথা ও কাজ পরিত্যাগ করলো না, তার উপবাস থাকায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। -আহমদ আবু দাউদ তিরমিযি।
রোযাদার তো কখনও গালিগালাজ করবে না বরং তাকে গালি দিলে অথবা ঝগড়া করতে আসলে বলবে : হাদীসে আছে : কেউ তাকে (রোযাদারকে) গালি দিলে বা ঝগড়া করলে সে যেন বলে আমি রোযাদার।-বোখারী ও মুসলিম।
এছাড়া আরোও সহজ কাজ রয়েছে কিন্তু সওয়াব অত্যন্ত বেশী যেমন : কোনো রোযাদেরকে ইফতার করানো। নবী স. বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো রোযাদারকে ইফতার করাবে, তাকে রোযাদারের সমপরিমাণ ছওয়াব দেওয়া হবে। তবে রোযাদারের ছওয়াবে কোনো কর্তন করা হবে না।-তিরমিযি
রমযানে বেশী বেশী কুরআন তেলাওয়াত করতে হবে। কারণ হাদীসে আছে, রমজানের প্রতি রাতে জিবরীল আল্লাহর রাসূলের সঙ্গে সাক্ষাত করতেন এবং তার সাথে কুরআন শুনাতেন এবং নবী স.ও তাকে কুরআন শোনাতেন।-আহমদ, বোখারী।
রমযান মাসে গরীব মিসকিন অসহায় নি:স্ব ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা করা জরুরী। হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, সকলের মধ্যে আল্লাহর রাসুল ছিলেন সবচেয়ে দানশীল আর তিনি রমজানে অধিক দানশীল হতেন যখন তার কাছে জিবরীল আগমন করতেন।-বোখারী ও মুসলিম।
সামর্থ থাকলে উমরা করা। কারণ রমজান মাসে উমরা করা হজ্জের সমতুল্য। বোখারী ও মুসলিম। কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে আমার সাথে হজ্জের সমতুল্য।
রমযানের ফযিলত আরোও অনেক আছে। প্রতি রাতে আল্লাহ অগণিত মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করেন। যেমন : হাদীসে এসেছে, আর (এই মাসে) অনেক লোককে আল্লাহ তা’আলা জাহান্নাম হতে মুক্ত করেন। আর তা প্রতি রাতে। (আহমদ ও ইবনে মাজাহ)। অন্য হাদীসে এসেছে-আল্লাহর রাসুল বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজান পেল অথচ তার গুনাহ মাপ হয়নি, অত:পর জাহান্নামে প্রবেশ করলো। (ইবনে হিব্বান ইবনে খুজাইমাহ)। আরোও এসেছে, রমজানের প্রথম রাতে একজন ঘোষক ঘোষণা দেয়, হে সৎ কর্মেচ্ছুক, অগ্রসর হও, হে মন্দ কর্মেচ্ছুক, বিরত থাক। -তিরমিযি ইবনে মাজাহ।

Please follow and like us:
Facebook Comments