হাইরিস্কের তালিকায় বাংলাদেশ বিমানের কার্গো ফ্লাইট ও নৌপথে ইইউ’র নিষেধাজ্ঞা: ব্যবসায়ীরা টেনশনে

হাইরিস্কের তালিকায় বাংলাদেশ
বিমানের কার্গো ফ্লাইট ও নৌপথে ইইউ’র নিষেধাজ্ঞা: ব্যবসায়ীরা টেনশনে
বিমানের কার্গো ফ্লাইট ও নৌপথে ইইউ’র নিষেধাজ্ঞা: ব্যবসায়ীরা টেনশনে: বাংলাদেশ থেকে রফতানি পণ্যবাহী বিমানের কার্গো ফ্লাইট ও নৌপথে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। একারণে বিমান ও নৌপথে কোনো কার্গো বাংলাদেশ থেকে সরাসরি ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে প্রবেশ করতে পারবে না। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশ। বিশেষ করে বিপাকে পড়বে পোশাক শিল্প। বাংলাদেশকে ‘হাইরিস্ক’ কান্ট্রি হিসেবে ঘোষণা করে আকাশ পথে কার্গো পণ্য পরিবহনে ইইউ যে শর্ত আরোপ করেছে তাতে বাংলাদেশ ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে। ইইউ’র এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা টেনশনে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে করণীয় ঠিক করতে তৈরি পোষাক শিল্প মালিকদের প্রতিষ্ঠান বিজিএমইএ কর্মকর্তারা আজ ঢাকায় এক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। দুপুরে কাওরানবাজারে বিজিএমইএ ভবনে এ বৈঠক হয়। মূলত, ইইউ’র নিষেধাজ্ঞায় বিচলিত হয়ে পড়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোষাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। তারা বলছেন, এমনটা হলে গার্মেন্টস পণ্য বিদেশে পাঠাতে নানা সমস্যার মধ্যে পড়তে হবে।

জানা গেছে, নিরাপত্তার স্বার্থে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরামর্শমতো যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়ায় নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ল বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার ইইউ’র উচ্চপর্যায়ের টিম বাংলাদেশ সফরে এসে সরাসরি কার্গো রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ইইউ’র টিম বাংলাদেশকে সরাসরি কার্গো রফতানির ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।

এফবিসিসিআইর সাবেক এক সহ-সভাপতি বলেন, যুক্তরাজ্য অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানির পর এবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে সরাসরি কার্গো নেয়া বন্ধ করে দেয়ায় চরম বিপাকে পড়বে তৈরি পোশাক খাত। আকাশপথে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস ও নমুনা পাঠানোর সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন বিকল্প পথে অন্য দেশের আশ্রয় নিতে হবে। তবে তিনি বলেন, ইইউ তৃতীয় দেশে রি-স্ক্যানিং করে পণ্য নেয়ার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়নি।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের সঙ্গে কুয়েত, সোমালিয়া, মিশর ও ইয়েমেনকে উচ্চ ঝুঁকির দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইইউ। এ কারণে উড়োজাহাজে করে কার্গো পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তল্লাশি বাড়ানোর অনুরোধ করেছে ইইউ। বিমানবন্দরে বিস্ফোরক শনাক্তকরণ যন্ত্র যুক্ত করার তাগিদও দিয়েছে তারা। ইইউ এ-ও বলেছে, ঢাকায় ওই তল্লাশি সম্ভব না হলে ট্রানজিট পয়েন্টে অর্থাৎ দুবাই, দোহা, ইস্তাম্বুল ইত্যাদি কোন স্থানে পণ্য স্ক্যান করতে হবে। ওই পণ্যে কোন বিস্ফোরক আছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার পরই ইইউ’র বাজারে তা প্রবেশ করবে। বাংলাদেশকে ইইউ’র নীতিমালা মেনেই পণ্য পাঠাতে হবে বলেও সতর্ক করেছে ইইউ।

Please follow and like us:
Facebook Comments