বাংলাদেশ-ভারত সেমিফাইনাল দক্ষিণ আফ্রিকার বিদায়

বাংলাদেশ-ভারত সেমিফাইনাল
দক্ষিণ আফ্রিকার বিদায়
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৭,

২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল যেন ফিরে এলো। ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে ভারতকেই পেল বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিদায় করে দিয়ে কোহলিরা জায়গা করে নিলেন শেষ চারে।
বৃহস্পতিবার বার্মিংহামে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দ্বিতীয় সেমিফাইনালে এ-গ্রুপের রানার্স-আপ বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে বি-গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ভারতের। আগেরদিন প্রথম সেমিফাইনালে এ-গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে লড়বে আজকের শ্রীলংকা ও পাকিস্তান ম্যাচের জয়ী দল। যদি বৃষ্টিতে ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়, সেক্ষেত্রে দু’দলের পয়েন্ট হবে সমান তিন। তখন রানরেটে এগিয়ে থাকবে শ্রীলংকা।

রোববার লন্ডনের দ্য ওভালে নিজেদের ‘চোকার’ অপবাদ অক্ষুণ্ণ রেখে ব্যাটে-বলে লেজেগোবরে অবস্থা করে ফেলে প্রোটিয়ারা। ভারত একতরফা ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৯১ রানে অলআউট করে আট উইকেটে জয়ী হয় ১৯৩/২ করে।

দু’বারের চ্যাম্পিয়ন ভারতের ফর্মে থাকা ওপেনার শিখর ধাওয়ান ৮৩ বলে ৭৮ রান করেন ১২টি চার এবং একটি ছয়ের সহায়তায়। অধিনায়ক বিরাট কোহলি ৭৬ রানে অপরাজিত থাকেন। ১০১ বলের ইনিংসে সাতটি চার এবং একটি ছয়ের মার মারেন কোহলি। ডুমিনিকে ছয় মেরে যুবরাজ ম্যাচ শেষ করে দেন ৭২ বল বাকি থাকতে। ২৫ বলে একটি করে চার ও ছয়ে ২৩ রানে অপরাজিত থাকেন যুবরাজ।

গ্রুপপর্বে ভারতের এটি দ্বিতীয় জয়। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে হারিয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত শুরু করে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। তাদের একমাত্র হার শ্রীলংকার কাছে। দক্ষিণ আফ্রিকা শ্রীলংকার বিপক্ষে জয়ে শুরু করে পাকিস্তান ও ভারতের কাছে টানা দুটি ম্যাচে হারল।

১৯২ তাড়া করতে নামা ভারত রোহিত শর্মাকে ১২ রানে হারায়। ধাওয়ান ও কোহলি দ্বিতীয় উইকেটে ১২৮ রানের জুটি গড়ে বড় জয়ের পথে নিয়ে যান ভারতকে। ধাওয়ান আউট হওয়ার পর বাকি কাজটুকু সারেন কোহলি ও যুবরাজ। ম্যাচসেরা হন দুই উইকেট নেয়া ভারতীয় পেসার বুমরাহ।

চাপের মুখে অনেক দলই ভেঙে পড়ে। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যাপারটিকে রীতিমতো শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ক্রিকেটের যেকোনো বৈশ্বিক আসরেই অবিশ্বাস্যভাবে বিদায়ের ধারাবাহিকতার জন্য তাদের গায়ে সেঁটে গেছে ‘চোকার’ তকমা।

মূলত নকআউট ম্যাচেই বেরিয়ে আসে তাদের আসল চেহারা। এবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতের বিপক্ষে তাদের গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচটি অলিখিত কোয়ার্টার ফাইনাল হয়ে ওঠায় পুরনো সেই ভূতই তাড়া করল প্রোটিয়াদের। নকআউট পরিস্থিতিতে আরও একবার চাপের মুখে ভেঙে পড়লেন ডি ভিলিয়ার্সরা।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটা ভালোই হয়েছিল। কিন্তু ৭৬ রানের উদ্বোধনী জুটির পরও ৪৪.৩ ওভারে ১৯১ রানে অলআউট হয় তারা। মাত্র ৫১ রানে পড়েছে শেষ আট উইকেট, যার তিনটি রানআউট।

শুরুতে সতর্ক ব্যাটিংয়ে উদ্বোধনী জুটিতেই ৭৬ তুলে ফেলেছিলেন কুইন্টন ডি কক ও হাশিম আমলা। ১৮তম ওভারে আমলাকে (৩৫) ফিরিয়ে ভারতকে প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দেন এবারের আসরে প্রথমবারের মতো খেলতে নামা রবিচন্দ্রন অশ্বিন।

এরপর ফাফ ডু প্লেসির সঙ্গে ৪০ রানের আরেকটি জুটি গড়েন ডি কক। ৭২ বলে ৫৩ করা ডি কককে বোল্ড করে এ জুটি ভাঙেন আরেক স্পিনার রবীন্দ্র জাদেজা। আগের ম্যাচে ক্যারিয়ারে প্রথম গোল্ডেন ডাক পাওয়া এবি ডি ভিলিয়ার্স ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ঝড় তোলার। দল তখন দুই উইকেটে ১৪০ রানে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে, ছন্দপতনটা এরপরেই শুরু।

ডি ভিলিয়ার্সের রানআউট (১৬) দিয়ে। পরের ওভারে আবার রানআউট। এবার ডু প্লেসির সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট ডেভিড মিলার। টানা দুই ওভারে দুই বিস্ফোরক ব্যাটসম্যানের দ্রুত বিদায়ের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই বিদায় নেন ডু প্লেসি (৩৬)।

শেষ ভরসা হিসেবে একপ্রান্ত আগলে রাখা জেপি ডুমিনি ২০ রানে অপরাজিত থাকলেও লোয়ার অর্ডারে কেউ তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি। ৪৫তম ওভারে শেষ হয় এই আসা-যাওয়ার মিছিল। ভারতের প্রায় সব বোলারই দারুণ আঁটসাঁট বোলিং করেছেন।

একক কোনো নায়ক নেই। দুই পেসার ভুবনেশ্বর কুমার ও জাসপ্রিত বুমরাহ নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। এছাড়া অশ্বিন, জাদেজা ও হার্দিক পান্ডিয়ার ঝুলিতে গেছে একটি করে উইকেট।

Please follow and like us:
Facebook Comments