গাজীপুরে মায়ের নামে স্থাপিত হাসপাতালে সাধারণ রোগীর মতোই টিকিট কেটে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালেন প্রধানমন্ত্রী#গাজীপুরে অন্তসত্তা গৃহবধুকে গলাটিপে হত্যার অভিযোগ ॥ গাজীপুরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে হেলপার নিহত#

গাজীপুর সংবাদদাতা ॥ গাজীপুরে মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালে সাধারণ রোগীর মতোই শনিবার টিকিট কেটে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানাও উপস্থিত ছিলেন। ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ২৫০ শয্যার এ হাসপাতালে এর আগেও চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন তিনি। সকাল ৮টার দিকে প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালটিতে পৌঁছালে হাপাতালের সিইও জাইতুন বিনতি সুলাইমান প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কাশিমপুরের তেঁতুইবাড়িতে অবস্থিত শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রীর রক্ত, আলট্রাসনোগ্রাম, এক্সরের মতো নিয়মিত কিছু পরীক্ষা করা হয়েছে। খালি পেটে রক্ত দিয়ে হাসপাতালেই নাস্তা করেন প্রধান মন্ত্রী। হাসপাতালে প্রায় আড়াই ঘন্টা অবস্থানের সময় শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা হাসপাতালের চিকিৎসক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন এই হাসপাতালের খন্ডকালীল চিকিৎসক অধ্যাপক ডাঃ প্রাণ গোপাল দত্ত, অধ্যাপক ডাঃ দীন মোঃ নুরুল হক, অধ্যাপক ডাঃ এ বি এম আব্দুল্লাহ, হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ সিইও জাইতুন বিনতি সুলাইমান, মেডিকেল ডিরেক্টর ডাঃ রাজীব হাসান, কনসালটেন্ট বৃন্দ। এরপর চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে ছবিও তোলেন দুই বোন। ২০১৩ সালের ১৮ নবেম্বর মালয়েশীয় প্রতিষ্ঠান কেপিজের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে এ হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়। শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালে গিয়ে একজন সাধারণ রোগীর মতই টিকেট কেনা থেকে শুরু করে সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।

এর আগে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেছিলেন, আমি যদি কখনও অসুস্থ হয়ে পড়ি তাহলে আপনারা আমাকে বিদেশে নেবেন না। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ওঠাবেন না। আমি দেশের মাটিতেই চিকিৎসা নেব। এই হাসপাতালে চিকিৎসা নেব।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বিশ্বমানের এই হাসপাতাল রয়েছে আধুনিক সব যন্ত্রপাতিসহ স্বনামধন্য ডাক্তারবৃন্দ, মালয়েশিয়ার নার্স, রয়েছে মেডিসিন বিভাগ, নিউরোমেডিসিন, স্ত্রী রোগ ও প্রসূতি, জেনারেল এন্ড ল্যাপারোস্কপিক সার্জারী, শিশু রোগ, চক্ষু বিভাগ, নাক কান গলা বিভাগ, মাইক্রোবায়োলজি, রেডিওলোজি ও ইমেজিং, চর্ম, অ্যালার্জি ও ভিডি রোগ, হাড় ও আঘাত জনিত রোগ, হৃদরোগ রোগ, এ্যানেস্থেসিয়া, গেস্টোএন্টালজি ও হেপাটলজি, ডায়ালাইসিস, কিডনী রোগ, ইউরোলজি, প্যাথলজি বিভাগ।

বিশেষায়িত এই হাসপাতালটি এ বছরের মধ্যে বিশ্বের অন্যান্য নামি-দামি হাসপাতালের ন্যায় আইএমএস (ইন্টিগ্রেটেড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) লাইসেন্স পেতে যাচ্ছে। যা রোগীদের কাছে আরও অধিকতর আস্থাভাজন করে তুলবে। হাসপাতালটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো দেশখ্যাত বিভিন্ন ডাক্তার রোগী দেখতে বসেন নিয়মিত। এমনকি মালয়েশিয়ার বিখ্যাত ডাক্তাররাও বসেন এখানে। সেবা সমূহের মধ্যে ২৪ ঘন্টা জরুরী বিভাগ, ২৪ ঘন্টা এ্যাম্বুলেন্স, ৪ ডি আল্ট্রাসাউন্ড, এম আর আই (১.৫ টেসলা), সি টি স্ক্যান (১৬০ ¯¬াইস), বি এম ডি, আই সি ইউ, সি সি ইউ, অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার, ভ্যাক্সিনেশন সেন্টার, ক্যাথ ল্যাব, ২৪ ঘন্টা প্রাইমারি এনজিওপ্লাস্টি, হেমোডায়ালাইসিস, ২৪ ঘন্টা ফার্মেসী, ফিজিওথেরাপি, কনসালটেন্ট অপিডি ক্লিনিক, ২৪ ঘন্টা ল্যাবরেটরি সার্ভিস, ২৪ ঘন্টা ব্লাড ব্যাংক সার্ভিস, ডায়টারি, রোগীর অতিথি ভবন, ক্যাফেটেরিয়া। ভবিষ্যতে এই হাসপাতালটি মান সন্মত সেবা দিতে আর ও কিছু সেবা নিয়ে আসবেন নিয়মিত রোগীদের জন্য। ইতোমধ্যে সকলের আস্থাভাজন হয়েছে এই হাসপাতালটি রোগীদের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এর জন্য।
###
মোঃ রেজাউল বারী বাবুল
গাজীপুর জেলা সংবাদদাতা।
০৯/০৯/২০১৭ইং

 

 

গাজীপুর সংবাদদাতা ॥ গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বাঘিয়া এলাকায় স্বামী ও শ^াশুরির বিরুদ্ধে ৩মাসের অন্তসত্তা এক গৃহবধুকে শ^াসরোধ করে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে । এ ঘটনায় পুলিশ নিহতের স্বামী মো. রতন মিয়া ও শ^াশুরি রোকেয়া বেগমকে আটক করেছে। নিহত নিগার সুলতানা (২১) বাঘিয়া এলাকার রতন মিয়ার স্ত্রী ও পাশ^বর্তী জয়েরটেক এলাকায় সিরাজ মিয়ার মেয়ে । খবর পেয়ে পুলিশ শনিবার লাশ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ বছর আগে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১১ নং ওয়ার্ডের জয়েরটেক এলাকায় সিরাজ মিয়ার মেয়ে নিগার সুলতানার বাঘিয়া এলাকার সাইদুর মিয়ার ছেলে মো. রতন মিয়ার সঙ্গে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছু দিন পর থেকে তাদের স্বামী স্ত্রী মধ্যে ঝগড়া বিবাদ শুরু হয়। এরই মধ্যে গত শুক্রবার রাতে নিগার সুলতানাকে তার শ^শুর বাড়ির লোকজন গুরুতর অবস্থায় কোনাবাড়ী এলাকায় একটি ক্লিনিকে নিয়ে যায়। এসময় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পিতা সিরাজ মিয়া জানান, রতন প্রায় সময়ই নিগারকে মারধোর করতো ও যৌতুকের টাকার জন্য প্রয়োগ করত। মেয়ের শান্তির কথাভেবে কিছু দিন আগে রতনকে ৩০ হাজার টাকাও দেয়া হয়। তিনি আরও বলেন, শুক্রবার রাতে রতন ও তার মা রোকেয়া বেগমসহ রতনের বাড়ির লোকজন মিলে আমার মেয়ে নিগার সুলতানাকে গলাটিপে হত্যা করে। আমার মেয়ে নিগার সুলতানা ৩মাসের অন্তসত্তা ছিলো।

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর ও টঙ্গী সার্কেল) মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মো. রতন মিয়া ও তার শ^াশুরিকে পুলিশ আটক করেছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের ঘটনার প্রকৃত কারণ জানাযাবে।

 
গাজীপুরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে হেলপার নিহত
গাজীপুর সংবাদদাতা ॥ গাজীপুরের শ্রীপুরের গড়গড়িয়া মাস্টাবাড়ী নতুন বাজার এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে শনিবার ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে এক বাস হেলপার নিহত হয়েছে। নিহতের সাখাওয়াত হোসেন (৩৮) ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার খলকপাড়া এলাকার নূরনবী আহম্মেদের ছেলে। তিনি ঢাকা- ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট রুটে চালাচলকারী শ্যামলী বাংলা পরিবহনের হেলপার ছিলেন।

শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আল-আমীন জানান, শ্রীপুর উপজেলার গড়গড়িয়া মাস্টাবাড়ী নতুন বাজার এলাকায় ময়মনসিংহগামী শ্যামলী বাংলা পরিবহনের একটি খালি বাস একইদিকে দিকগামী একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে বাসের ভেতরে থাকা হেলপার সাখাওয়াত হোসেন ঘটনাস্থলেই মারা যায়। খবর পেয়ে গাড়ির দরজা কেটে লাশ উদ্ধার করে মাওনা হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাসের ভেতর কোন যাত্রী ছিল না।

মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন জানান, দুর্ঘটনার পর বাসের চালক বাসটি মহাসড়কের পাশে রেখে পালিয়ে গেছে। পরে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বাস থেকে ওই হেলপারের লাশ উদ্ধার করে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ না থাকায় লাশ তার পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দূর্ঘটনাকবলিত বাসটি আটক করা হয়েছে।
###

Please follow and like us:
Facebook Comments