নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার লক্ষ্মীপুরে ৯ জেলের করাদন্ড#হামছাদী অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহা উৎসব

আলমগীর হোসেন লক্ষ্মীপুর: ইলিশের প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে লক্ষ্মীপুরের রামগতির মেঘনা নদীতে মা ইলিশ ধরার দায়ে ৯ জলেকে ১ মাস করে কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আজগর আলী প্রত্যেক জেলেকে ১ মাস করে কারাদন্ড দেন। এসময় ২০ হাজার মিটার কারেন্টজালে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

রামগতি উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামাল উদ্দিন বলেন, সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজগর আলীর নেতৃত্বে পুলিশ, কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগ মেঘনা নদীর চরগজারিয়া এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় আইন অমান্য করে মাছ ধরার দায়ে ৯ জেলেকে আটক করা হয়। জব্দ করা হয় ১টি নৌকা ও ২০ হাজার মিটার কারেন্টজাল। জব্দকৃত জালে অগ্নিসংযোগ করে ধ্বংস করা হয়। পরে আটক জেলেদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করলে তাদের প্রত্যেককে এক মাস করে কারাদন্ড দেয়া হয়। তাবে তাৎক্ষণিক দন্ডপ্রাপ্ত জেলেদের নাম-পরিচয় জানাতে পারেননি মৎস্য কর্মকর্তা।

প্রসঙ্গত, রোববার ১অক্টোবর থেকে ২২অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশের ভরা প্রজনন মৌসুম। এ ২২দিন ইলিশসহ সকল প্রজাতির মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুরের রামগতি থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার মেঘানা নদী এলাকায় মাছ ধরা যাবে না। এসময় মাছ শিকার, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ। এ আইন আমান্য করলে জেল অথবা জরিমানা এবং উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে।

 

লক্ষ্মীপুরে উত্তর হামছাদী অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহা উৎসব 16

আলমগীর হোসেন লক্ষ্মীপুর থেকে: লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা উত্তর হামছাদী এলাকা ,বিভিন্ন জায়গা থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের মহো -উৎসব চলে আসছে দীর্ঘ দিন যাবত। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের তেমন কোনো তৎপরতা না থাকায় এলাকাবাসী প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের দিকে আঙ্গুল তুলেছেন। তাদের দাবী প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে বালু খেকোরা একের পর এক অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করেন।
জানা গেছে উপজেলার দক্ষিণ হামছাদী, উত্তর হামছাদী, দক্ষিণ পিয়ারাপুর জলা, ভবানীগঞ্জ, মোল্লার হাট খাস পুকুর পাড়, চরগাছিয়া ,চরবংশি, বিভিন্ন জায়গায় থেকে অবৈধভাবে শ্যালো মেশিনের সাহায্যে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এছাড়া ৭ নং বামনী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড মনগাজী চৌকিদার বাড়ির পুকুর থেকে সেলিম ভূঁইয়া নেতৃত্বে বালু উত্তোলন চলছে।
আর এসব জায়গা থেকে মেশিনের সাহায্যে বালু উত্তোলন করা হলেও উপজেলা প্রশসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি। স্থানীয় সংবাদকর্মীরা ইউএনওকে ফোনে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়টি অবগত করার পর একটি নড়েচড়ে বসেন এ কর্মকর্তা ।
অবৈধভাবে এসব স্পট থেকে বালু উত্তোলনের কাযক্রম চলতে থাকে। এদিকে সোমবার উত্তর হামছাদী ৩ নং ওয়ার্ডের ড্রেজার মেশিন মালিক এছাক, পয়েজ, খোরশেদ এর নেতৃত্বে একের পর এক বালু উত্তোলন করে আসছে। বাসু বাজারের মির্জা পুর ভূইয়া বাড়ির মোরশেদ বালু উত্তোলন করে চলছে।
বালু উত্তোলন বিষয়ে উত্তর হামছাদী ইউপি চেয়ারম্যান এমরান হোসেন নান্নু বলেন বেড়ীর মাথা খাল থেকে অবৈদভাবে বালু উত্তোলন করার চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোড। এ বিষয়ে ইউএনওকে লিখিতভাবে অবগত করা হয়েছে। যদি বেড়িবাধঁ খাল থেকে বালু উত্তোলন করা হয় তাহলে আগামীতে বেড়ি বাধঁ ভেঙ্গে মানুষের ঘর বাড়ি তলিয়ে যেতে পারে। অবৈধ মেশিন দিয়ে যারা উত্তর হামছাদী এলাকা বালু উত্তোলন করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপর দিকে ৩ নং ওয়ার্ড পিরোজ ম্বোরের নেতৃত্বে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা বালু উত্তোলন করা হয়। এতে করে পুরো মহল্লার বাড়ি ঘর নিম্ম চাপে ঢাবিত হচ্ছে ? যেন দেখার কেউ নেই। এদিকে গত রবিবার ৩ জুলাই বেলা ২ ঘটিকার দিকে ৫ নং ওয়ার্ড করাতির হাট মেইন সড়কে সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, গত ৫ দিন যাবত আনোয়ারের নেতৃত্বে ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে শ্যালো মেশিনের সাহায্যে বালু উত্তোলন করছেন। চররমোনী মোহন এলাকা সচেতন মহলের কয়েক জন জানান, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এসব বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এ দিকে মোল্লার হাট হাজ¦ীমারা ডাকাতিয়া নদী থেকে হরদম বালু উত্তোলন করে চলছে প্রভাবশালী রকি। এ সকল বালু শহরের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রয় হচ্ছে। রকি বলেন, ডাকাতিয়া নদী আমি ইজারা নিয়েছি, বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী উপজেলা প্রশাসনকে জানালেও কোন কার্যকরী পদক্ষেপ না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুজ্জামান বলেন শ্যালো মেশিনের সাহায্যে কোনো জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করা অবৈধ। বিভিন্ন জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে বালু উত্তোলন কারীদের বিরুদ্দে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বালু আইনে ৪ ধারা উল্লেখ আছে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে যারা বালু উত্তোলন করবে তাদের ২ বছর কারাদ-, সর্ব নিম্ম পঞ্চাশ হাজার টাকা হইতে দশ লক্ষ টাকা পযর্ন্ত্র অর্থ দ- বা উভয় দ-ে দ-িত হইবে।
আলমগীর হোসেন
লক্ষ্মীপুর থেকে
০১৭২৩৪১৭০৪১
তারিখ:২/১০/১৭

Facebook Comments
Please follow and like us: