খাদ্য মন্ত্রণালয়ের লাইসেন্সের বিষয়ে জানেন না জেলার চাল ব্যবসায়ীরা

আসাদুজ্জামান সরদার: চালের ব্যবসাচালের ব্যবসা করার জন্য আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে লাইসেন্স করিয়ে নেওয়া সংক্রান্ত খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের বিষয়টি জানেন না বলে অভিযোগ করেছেন জেলার অধিকাংশ চাল ব্যবসায়ী ও মজুতদার। খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, বিষয়টি তিনিও পুরোপুরি জানেন না। এ ব্যাপারে এখনও সরকারি কোনও লিখিত নির্দেশনা পাননি কর্মকর্তারা।
দেশের বাজারে চালের দামের লাগাম ধরতে এবং চালের বেআইনি মজুদ বন্ধ করতে গত ২ অক্টোবর খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম চালের আমদানিকারক, মজুতদার, আড়তদার, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের খাদ্য অধিদফতর থেকে লাইসেন্স গ্রহণের নির্দেশনা দেন। এছাড়াও প্রতি ১৫ দিন পর পর ব্যবসায়ীদের গুদামে মজুদ করা চাল ও গমের হিসাব স্থানীয় খাদ্য অধিদফতরকে অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তবে এ ব্যাপারে সাতক্ষীরার চাল ব্যবসায়ী এবং খাদ্য কর্মকর্তাদের কাছে স্পষ্ট কোনও নির্দেশনা নেই।
সাতক্ষীরা বড় বাজারের চাল ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, ‘চালের আমদানিকারক, মজুতদার, আড়তদার, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের খাদ্য অধিদফতর থেকে লাইসেন্স গ্রহণের বিষয়টি আমাদের জানা নেই। আপনার কাছেই জানলাম। তবে সরকার যখন নির্দেশ দিয়েছে এবার খাদ্য অধিদফতরের লাইসেন্স করবো।’
সাতক্ষীরা বড় বাজারের আরেক চাল ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘সরকার আমাদের ব্যবসায়ী হিসেবে লাইসেন্স দিচ্ছে, এ সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে সরকারের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিসে গিয়ে কোনও ব্যবসায়ী যেন হয়রানির শিকার না হয়।’
সাতক্ষীরা ভোমরা স্থল বন্দরের চাল ব্যবসায়ী ও জেলা মিল মালিক সমিতির সহসভাপতি আব্দুল গফুর সর্দার বলেন, ‘চালের দাম বৃদ্ধিতে অনেকে মিল মালিকদের দুষছেন। মিল মালিকদের গুদামজাত করার জন্য চালের দাম বাড়ছে এই অভিযোগ ঠিক নয়। প্রতিটি মিলে ২০-৩০ জন কর্মচারী কাজ করে। কিছু ধান-চাল মজুদ না করলে সব মিল বন্ধ হয়ে যাবে।’
খাদ্য অধিদফতরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, ‘ফুড কর্মকর্তারা সরকারকে সঠিক তথ্য না দেওয়ায় চালের সংকট দেখা দিয়েছে এবং চালের দাম বেড়েছে। দেশে চালের সংকট ও দাম বৃদ্ধিতে মিল মালিকদের দোষ নেই।’
সাতক্ষীরা ভোমরা স্থলবন্দরের চাল আমদানিকারক আল ফেরদাউস আলফা বলেন, ‘সরকারের এই নির্দেশনার ফলে চাল আমদানিতে কিছু জটিলতা হবে। আগে এলসি করলে চাল পাওয়া যেত। এই নির্দেশনার ফলে কিছু বাড়তি ঝামেলা হতে পারে। এতে করে চালের দামও বাড়তে পারে।’
সাতক্ষীরা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সজিব কুমার মুখার্জী বলেন, ‘চাল ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স করার নির্দেশনার বিষয়টি আমরাও পরিষ্কারভাবে জানতে পারিনি। এ ব্যাপারে আমাদের কোনও লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। সম্প্রতি এক মিটিংয়ের মাধ্যমে জানতে পারলাম আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে চাল আমদানিকারক, মজুতদার, আড়তদার, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘খুলনাসহ আশেপাশের জেলাগুলোয় মাইকিং করা হয়েছে। আমরা দু’একদিনের মধ্যেই স্থানীয় বাজারগুলোতে এ বিষয়ে নোটিশ দেবো ও মাইকিং করবো। এছাড়া উপজেলা কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হবে। এরপরেও যারা লাইসেন্স করবে না তাদের বিরুদ্ধে উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Facebook Comments
Please follow and like us: