খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা)খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা)আগামী সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা চলছে সরবে-নিরবে

জি,এ, গফুর, পাইকগাছা ॥ আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনা-৬ আসনে ক্ষমতাসীন দল সহ সকল রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা আগাম প্রচারণা শুরু করেছেন। এ আসনে আ’লীগ, বিএনপি জোটসহ কমিউনিস্ট পার্টি ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন বরাবরই জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে থাকে। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ সব দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা সরবে-নিরবে প্রচার-প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে জোটভিত্তিক নির্বাচন হলে দু’জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে এমনটি ধারণা করছেন সর্বমহল। আ’লীগ ও বিএনপি’র একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীদের বাহিরে জাতীয়পার্টির একক প্রার্থী প্রচারণা জোরে-সোরে চালালেও জামায়াত সহ অন্যান্য দলের একক প্রার্থীদের প্রচারণা চলছে নিরবে। দেখা গেছে, দেশ স্বাধীনের পর এ আসনে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আ’লীগের এ্যাডঃ স. ম. বাবর আলী, ১৯৭৯ সালে বিএনপির এ্যাডঃ শেখ রাজ্জাক আলী, ৮০’র দশকে জাতীয়পার্টি থেকে এ্যাডঃ মোমিন উদ্দীন আহমেদ ও সরদার জহুরুল হক, ১৯৯১ সালে জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহ্ মুহাম্মাদ রুহুল কুদ্দুস, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে বিএনপি থেকে বিনা ভোটে এ্যাডঃ শেখ রাজ্জাক আলী, একই সালের নির্বাচনে এ্যাডঃ শেখ মোঃ নুরুল হক, ২০০১ সালে ৪ দলীয়  জোট প্রার্থী জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ শাহ্ মুহাম্মাদ রুহুল কুদ্দুস, ২০০৮ সালে আ’লীগের এ্যাডঃ সোহরাব আলী সানা ও ২০১৪ সালে আ’লীগের এ্যাডঃ শেখ মোঃ নুরুল হক বিনা ভোটে এমপি নির্বাচিত হন। কয়রা-পাইকগাছার ১৭ টি ইউনিয়নে একটি পৌরসভা ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ। এ নির্বাচনে আ’লীগের এ্যাডঃ শেখ মোঃ নুরুল হক, এ্যাডঃ সোহরাব আলী সানা, ডাঃ শেখ মোহাম্মদ শহীদউল্লাহ মোঃ রশীদুজ্জামান মোড়ল, আক্তারুজ্জামান বাবু ও ইঞ্জিনিয়ার প্রেমকুমার মন্ডল, বিএনপি’র ডাঃ আব্দুল মজিদ, এ্যাডঃ মোমরেজুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান মন্টু ও মোঃ রফিকুল ইসলাম রফিক মনোনয়নের জন্য সর্বপ্রকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। একক প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য, উপজেলা সভাপতি মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর, জামায়াতের মাওঃ আবুল কালাম আজাদ, কমিউনিস্ট পার্টির সুভাষ সানা মহিম ও পলাশ দাশ, বাংলাদেশ জনতাপার্টির কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা জি,এম, কেরামত আলী এবং ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের মাওঃ নুর আহাম্মদ নির্বাচনী প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছে। আ’লীগের এ্যাডঃ শেখ মোঃ নুরুল হক বলেন, তিনি এমপি হওয়ার পর এলাকার মানুষের জন্য নিরলসভাবে কাজ করছেন। আগামী নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ্যাডঃ সোহরাব আলী সানা বলেন, তিনি বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে কয়রা-পাইকগাছায় কোটি কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। সার্বক্ষণিকভাবে জনগণের কাতারে ছিলেন ও আছেন। দল তাকে মনোনয়ন দেবেন বলে আশাবাদী। এরপরেও দলীয় নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর সবকিছু নির্ভর করছে। বিএনপি’র উপজেলা আহবায়ক ডাঃ আঃ মজিদ বলেন, বিএনপি একটি সুসংগঠিত বৃহৎ রাজনৈতিক দল। পাইকগাছায় শক্ত অবস্থান থাকা স্বত্ত্বেও আজ পর্যন্ত স্থানীয়ভাবে নির্বাচন করতে কেউ আগ্রহ দেখায়নি। আগামী নির্বাচনে এ আসন থেকে নির্বাচন করার জন্য তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সাংগঠনিক কার্যক্রম বৃদ্ধির পাশাপাশি এ দুর্দিনে নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সকল কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান। জোট বা দল আগামী নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দিবেন বলে তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন। জাপানেতা মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর বলেন, তিনি রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি পাইকগাছা নাগরিক কমিটির ব্যানারে জনগণের দাবী আদায়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি জাপা থেকে মনোনয়ন পেয়ে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে তা প্রত্যাহার করেন। আগামী নির্বাচনে দল তাকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিবেন বলে এ প্রতিনিধিকে জানান। তিনি পাইকগাছা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক সহ অসংখ্য সামাজিক ও পেশাজীবি সংগঠণের সাথে জড়িত। জনতাপার্টির কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা জি,এম, কেরামত আলী জানান, আমি মহাজোটে শরীক হয়ে নির্বাচনে নামতে পারি, অথবা নিজ দল থেকে আগামী নির্বাচনে অংশ নেবো। যেহেতু আমি পাইকগাছা-কয়রার স্থানীয় এবং আমি একটা রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেছি। অতএব, এলাকাবাসী আগামী নির্বাচনে আমাকে জয়ী করবে এ আশাবাদ ব্যক্ত করছি। এ নির্বাচনে আ’লীগ-জাপা জোটগতভাবে নির্বাচন হলে তিনি জোটের প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকল দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের চলাফেরা ও আচার-আচরণে মনে হয় স্ব-স্ব দলের মনোনয়ন পাওয়া ও জয়ের ব্যাপারে একশ ভাগ আশাবাদী। জোটগতভাবে নির্বাচন হলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ও আওয়ামী নেতৃত্বাধীন মহাজোটের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে জোটে আ’লীগ, জাপাকে ও জাপা, আ’লীগকে এবং বিএনপি, জামায়াতকে ও জামায়াত, বিএনপিকে কোন প্রকার ছাড় দিতে নারাজ। একমাত্র স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সব দলের অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচনই বলে দেবে কে এলাকাবাসীর কাছে অধিকতর গ্রহণযোগ্য এবং কে হবে এ এলাকার এমপি।

Please follow and like us:
Facebook Comments