নির্বাচনে অংশ না নিলে বিএনপির অবস্থা মুসলিম লীগের মতো হবে: কাদের

চট্টগ্রাম: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে বিএনপির অবস্থা মুসলিম লীগের মতো হবে। ফলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই।

তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করতে নয়, বেগম খালেদা জিয়া সড়কে বিশৃঙ্খলা করতেই কক্সবাজারে গিয়েছিলেন। যা দেশবাসী ভাল করেই প্রত্যক্ষ করেছে।

শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর প্রয়াত সদস্য আখতারুজ্জামান চৌধুরীর পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগ হাইলধরে এ স্মরণসভার আয়োজন করে।

ওবায়দুল কাদের এও বলেন, ফেনীতে নাকি আওয়ামী লীগ হামলা করেছে। আওয়ামী লীগ যদি হামলা করে, তাহলে সাংবাদিককে কেন হামলা করবে? বিএনপির কোনো নেতা কেন আহত হলেন না। খালেদা জিয়া কেন আহত হলেন না। তিনি ও তাঁর গাড়ি অক্ষত আছেন। আহত হলেন সাংবাদিক। সাংবাদিকের ওপর হামলা হলে নিউজটা বড় হবে, চাঞ্চল্যকর হবে, দেশে-বিদেশে সাড়া জাগাবে। এ জন্য বিএনপি পরিকল্পিতভাবে এ হামলা করেছে।

আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ মান্নানের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ, কেন্দ্রীয় উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান।

এর আগে শুক্রবার জেলহত্যা দিবসে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের খলনায়কদের খেলা এখনও শেষ হয়নি। তারা এখন ও সক্রিয় ষডযন্ত্র নিয়ে।

তিনি বলেন, তবে তাদের জানা রাখা উচিত যে ’৭৫, ২০০৪ ও ২০১৭ এক নয়। তাদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি সচেতন এবং শক্তিশালী। যে কোনো ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করার জন্য আমরা সব সময় প্রস্তুত রয়েছি।’

শুক্রবার সকালে ঐতিহাসিক জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ কথা বলেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর পাকিস্তানের দোসর স্বাধীনতা বিরোধি একটি চক্র বঙ্গবন্ধুর চার ঘনিষ্ঠ সহচর সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নৃশংসভাবে হত্যা করে।

আমরা চাই বিএনপি নির্বাচনে আসুক: কাদের
এর আগে বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটউটের সেমিনার কক্ষে নির্বাচন কমিশনে আওয়ামী লীগের ১১ দফা প্রস্তাবনা, জনগণের প্রস্তাবনা শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমরা চাই বিএনপি নির্বাচনে আসুক। ১৫৩ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার যে কথা বলা হয় সেটার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় আমরা সেটাই চাই।

আলোচনাসভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটি। সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির সভাপতি এইচ টি ইমাম।

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা নেই বলে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি সমঝোতার দরজা বন্ধ করে দিয়েছে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেব, আপনাদের মুখের সংলাপের কথা ও মনের কথার যোজন যোজন দূরত্ব। আপনারা যখন সমঝোতার কথা বলেন তখন আমাদের ভাবতে হয়, এটা কি আপনাদের মনের কথা, নাকি মুখের কথা।’

তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দলগুলোর মধ্যে একটি কাজের সমঝোতা আমরা চেয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রী গণভবনে বেগম জিয়াকে ডেকেছিলেন। এরপরও আপনার ছেলের মৃত্যুর পর (খালেদা জিয়া ছেলে আরাফাত রহমান কোকো) সমবেদনা জানতে আপনার বাড়িতে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেদিন আপনারা যে আচরণ করেছেন… যারা করে তারাতো সমঝোতায় বিশ্বাস করে না। এ দরজা কী করে খুলবো তা আপনারা ভাবুন।’

নির্বাচন কমিশনের কাছে নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তাদের কাছে আমরা কিছু চাই না। আমাদের ১১ দফায় আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছি- স্বাধীন কর্তৃত্বপূর্ণ নির্বাচনের জন্য আমরা নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করবো। তাদের কোনো দলের পক্ষ নেয়ার প্রয়োজন নেই। তারা আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপির পক্ষ কেন নেবে?’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন কোনো দলীয় বক্তব্য নিয়ে রাজনীতি চর্চা করে, নিজেদের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করুক, তা আমরা চাই না। কিন্তু বিএনপি এমন একটি নির্বাচন কমিশন চায়, যেন তারা যেনতেনভাবে ক্ষমতায় আসতে পারে।’

এসময় তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার হন্তারকদের পুরস্কৃত ও পুনর্বাসন করে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন? শত শত সেনাবাহিনীর অফিসার, জোয়ানদের হত্যা করে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন করেন? বাংলাদেশের উচ্চ আদালত যাকে বলেছে- অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী, তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তক? এমনকি প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন, সেখানেও তাকে (জিয়াউর রহমান) অবৈধ ক্ষমতা দখলদার বলেছেন। এমন হাস্যকর দাবিতো বিএনপি করেছে।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহরে হামলার আসল খবর বের হয়েছে দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘থলের বিড়াল অবশেষে মিঁউ ডেকেছে। গাড়ি পোড়ানো তো বিএনপির পুরনো অভ্যাস। এটা আওয়ামী লীগের ট্র্যাক রেকর্ডে নেই। পরিকল্পিতভাবে রং সাইডে বাস রাখা হয়েছিল এবং পরিকল্পিতভাবে হামলার নাটক করেছে। তা পুলিশের রিপোর্টেই এসেছে।’

এ ঘটনায় দুই-একটি পত্রিকার রিপোর্টের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘পত্রিকা আমাদের বিরুদ্ধে নেমেছে। তারা বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে আদাজল খেয়ে নেমেছে। ঠিক আছে, তারা তা করতেই পারে। তারা কোনো দলকে সমর্থন করতেই পারে। কিন্তু রাতকে দিন, দিনকে রাত কিংবা তিলকে তাল বানানো বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নয়। ফেনীর ঘটনাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে আওয়ামী লীগের ওপর দায় চাপানো হয়েছে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা চাই, বিএনপি নির্বাচনে আসুক। নির্বাচনের মাধ্যমে তারা যে জনপ্রিয়তার দাবি করতে চাচ্ছে, তা যাচাই করুক।’

কাদের বলেন, ‘বিএনপির রাজনীতি পরের নির্বাচনের জন্য, পরবর্তী জেনারেশনের জন্য নয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ পরবর্তী জেনারেশনের জন্য রাজনীতি করে।’

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনে সংলাপে অংশ নিয়ে বিএনপি ‘মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন যে, তারা আশাবাদী কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই তারা বলছে যে, এটা সাজানো সংলাপ। আসলে তারা কী বলতে চান, তা স্পষ্ট নয়।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা যে প্রস্তাব নির্বাচন কমিশনকে দিয়েছি, তা জনস্বার্থে আর বিএনপি যা দিয়েছে, তা ক্ষমতায় যাওয়ার স্বার্থে।’

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির চেয়ারম্যান এইচ টি ইমামের সভাপতিত্বে সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির সদস্য সচিব ড. হাছান মাহমুদ।

সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, নিরপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল অব. একে মোহাম্মদ আলী শিকদার, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মমতাজউদ্দিন আহমেদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মনজরুল আহসান বুলবুল, মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশীদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দলের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আব্দুস সবুর, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য রিয়াজুল কবীর কাওছার প্রমুখ।

Please follow and like us:
Facebook Comments