সাতক্ষীরায় আমনের বাম্পার ফলনঃ অর্জিত নিয়ে সংশয় থাকলেও দাম নিয়ে সন্তষ্ট কৃষকরাঃ দিশেহারা ভোক্তাসাধারণ

ক্রাইমবার্তা রিপোর্ট:আবু সাইদ বিশ্বাসঃসাতক্ষীরাঃ সাতক্ষীরায় আমন ধান ঘরে তুলতে শুরু করেছে কৃষকেরা। আনন্দের বন্যা বইছে তাদের মাঝে। কারণ খরচের তুলনায় এবার ধানের দাম দ্বিগুণ। যদি চলতি মৌসুমে আর বৃষ্টি পাত না হয় তা হলে কৃষকরা বিগত বছর গুলোর ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে। আবহাওয়া অফিস বলছে চলতি মৌসুমে বড়ধরণের বৃষ্টিপাতের সম্ভবনা কম। রোপা আমনের বাম্পার ফলন হওয়ায় হাসি ফুটেছে কৃষকদের মুখে। তারা এখন ব্যস্ত ধান কাটার কাজে। তাদের সাথে কৃষাণীরাও পূর্ণ সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। এবার এ জেলাতে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ২৬ হাজার ৬৬ মেট্রিক টন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় ৮৩ হাজার ৭ শত ৬৫ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৭ হাজার ৮ শত ৮০ হেক্টর, কলারোয়া উপজেলায় ১১ হাজার ৩ শত ৮০ হেক্টর, তালা উপজেলায় ৭ হাজার ৩ শত ১০ হেক্টর, দেবহাটা উপজেলায় ৫ হাজার ২ শত হেক্টর, কালীগঞ্জ উপজেলায় ১৭ হাজার ১৫ হেক্টর, আশাশুনি উপজেলায় ৯ হাজার ২ শত ৩০ হেক্টর ও শ্যামনগর উপজেলায় ১৫ হাজার ৭ শত ৫০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হচ্ছে।
আমন আবাদ শুরুতে অতি বৃষ্টির কারণে সাতক্ষীরায় আমনের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সংশয় থাকলেও দাম নিয়ে খুশি কৃষকেরা। বৃষ্টির কারণে আমনের বীজতলার ক্ষতি হয়েছে ২৫৫ হেক্টর জমির। আর কৃষকদের ক্ষতি হয়েছে এক কোটি ৮ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। এছাড়া ধান তুলার মুৃহূর্তে আর এক দফা বৃষ্টি আমনের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। যদিও ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করা সম্ভব হয়নি।
এক মণ ধপনের দাম গত বছর ছিল ৬শ থেকে ৭শ টাকা এবার সেখানে ১২শ থেকে ১৩শ টাকা। অর্থাৎ দামের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। স্বাধীনতার পর কৃষকরো ধানের এত দাম পায়নি বলে অনেকে জানান। এভাবে দাম পেলে কৃষকেরা ধনের আবাদ বাড়িয়ে দেবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
অন্যদিকে চালের দাম নিয়ে দিশেহারা ভোক্তাসাধারণ। সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেছে চালের দাম। উৎপাদনের মৌসুমেও ধানের দাম তেমন কমবে না বলে আভাষ দিয়েছে ধান ব্যবসায়ীরা।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কৃষক আজিজুর রহমান জানান, তার দুই বিঘা নিজস্ব জমির পাশাপাশি আরও তিন বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আমনের আবাদ করেছিলেন। প্রথম বীজতলা তৈরি করার পর তা অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে নষ্ট হয়ে যায়। পরবর্তীতে আবারও বীজতলা তৈরি করেছেন। বীজতলা তৈরি ও জমির আনুষঙ্গিক খরচ মিলে তিনি সে মোতাবেক ধান উৎপাদন করতে পারবেন না বলে সংশয় প্রকাশ করে ছিলেন। তবে ধান কাটার এমৌসুমে তিনি বলছেন ধানের দাম বেশি থাকায় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবো।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল মান্নান জানান, জেলায় এবার আমনের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৩ হাজার ৭ শত ৬৫ হেক্টর জমিতে। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ২৬ হাজার ৬৬ মেট্রিক টন

 

Please follow and like us:
Facebook Comments