হুররাম মারা যাচ্ছেন

ক্রাইমবার্তা ডেস্করিপোর্ট:দীপ্ত টিভিতে প্রচারিত জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ‘সুলতান সুলেমানের’ আজ আরেকটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটছে। ধারাবাহিকের অন্যতম চরিত্র সাধারণ দাসী থেকে সুলতান সুলেমানের স্ত্রী হয়ে ওঠা ‘হুররাম সুলতান ‘ আজ মারা যাচ্ছেন। এর মা্ধ্যমে আরেকটি দাপুটে চরিত্রের সমাপ্তি ঘটবে।

প্রায় সাতশ বছর ধরে তুরস্কের অটোম্যান সাম্রাজ্যের রাজত্ব ছিল পৃথিবীজুড়ে। এই সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগ ছিল সুলতান সুলেমানের নেতৃত্বে ষোড়শ থেকে সপ্তাদশ শতাব্দী। যেখানে ক্ষমতার টানাপড়েনে অটোম্যান সাম্রাজ্যের ষড়যন্ত্রে, গুপ্তহত্যা, এবং দাসপ্রথার অন্তরালে কাহিনী নিয়ে নির্মিত মেগা-সিরিয়াল ‘সুলতান সুলেমান’। এখানে জীবন্ত হয়ে উঠেছে সুলতানকে প্রেমের জালে আবদ্ধ করে, এক সাধারণ দাসীর সম্রাজ্ঞী হয়ে ওঠার গল্প।

কেন বদলে গেল ‘হুররাম সুলতান’?
‘সুলতান সুলেমান’ ধারাবাহিকে ‘হুররাম সুলতান’ চরিত্রে অভিনয় করা মারিয়েম জারলি। হঠাৎ করেই বদলে গেছে ‘হুররাম সুলতান’। এক, দুই করে পঞ্চম মৌসুম পর্যন্ত যাঁরা ‘সুলতান সুলেমান’ ধারাবাহিকের দর্শক, তাঁরা একটু ধাক্কাই খেয়েছেন। ভাবছেন, কী এমন হলো যে বাংলায় ডাবিং করা দীপ্ত টিভির এই ধারাবাহিকের জনপ্রিয় চরিত্র হুররাম সুলতানে পরিবর্তন আনতে হলো?
সেই উত্তরটা জানার আগে হুররাম সুলতানের ভূমিকায় অভিনয় করা মারিয়েম জারলি সম্পর্কে একটু জানা যাক। তাঁর জন্ম ১৯৮৩ সালের ১২ আগস্ট, জার্মানিতে। বাবা তুরস্কের, আর অভিনেত্রী মা জার্মানির। সে সূত্রে মারিয়েম তুরস্ক ও জার্মানি—উভয় দেশেরই নাগরিক। তবে ছোটবেলা থেকে বেড়ে উঠেছেন জার্মানিতেই। সেখানেই অল্প বিস্তর অভিনয় আর মডেলিং করে নাম করছিলেন তিনি।
২০১০ সালের শেষের দিকে ভাগ্যটা একেবারে বদলে যায় মারিয়েমের। তুরস্কের ৬০০ বছরের অটোমান সাম্রাজ্যের অন্যতম সফল শাসক সুলতান সুলেমানকে নিয়ে একটি টিভি ধারাবাহিক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয় তখন। আর সেখানে সুলতান সুলমানের অপূর্ব সুন্দরী দাসী থেকে স্ত্রী বনে যাওয়া হুররামের চরিত্রে অভিনয় করার জন্য ডাক পান মারিয়েম। এই ধারাবাহিকে হুররাম চরিত্রটি শুধু সৌন্দর্যের নয়; বুদ্ধিদীপ্ত, প্রাসাদ ষড়যন্ত্র আর ক্ষমতার সর্বোচ্চটুকু নিজের করে নেওয়া রহস্যময়ী এক নারীরও। এই সব কটি বিষয়ই এত সুন্দর করে পর্দায় তুলে ধরেছেন মারিয়েম; যেন বাস্তবের মারিয়েম আর পর্দার হুররাম একাকার হয়ে গেছেন। আর এর মধ্য দিয়েই সত্যিকারের তারকাখ্যাতি ধরা দেয় তাঁর কাছে।

২০১১ সাল থেকে এই ধারাবাহিকের শুটিং শুরু হয়। তখন জার্মানি থেকে তুরস্কে চলে আসেন তিনি। ওঠেন একটি হোটেলে। যত দিন তিনি এই ধারাবাহিকটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তত দিন তাঁর বাস এই হোটেলেই ছিল। এখানে থেকেই ধারাবাহিকটির যাবতীয় কাজ করেছেন তিনি। এমনকি ২০১২ সালে এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কারও তিনি এই হোটেল থেকে গিয়েই নিয়েছেন।
ধারাবাহিকটিতে কাজ করার সময় চিত্রনাট্যের হুররাম চরিত্রের মতো তাঁর ব্যক্তিজীবনেও নানা উথাল-পাতাল ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্য সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো তুরস্কের এক প্লেবয় চান এতেশের প্রেমে পড়েন তিনি। যদিও দুই সন্তানের জনক চানের সঙ্গে সম্পর্কটা শুধুই বন্ধুত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার ব্যাপারে তাঁরা শুরুতে বেশ সতর্ক ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেটা প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়, তাও করুণ প্রেমের।
২০১৩ সালে মে মাসে হঠাৎ করেই ধারাবাহিকটিতে অভিনয় বন্ধ করে দেন মারিয়েম। তুরস্কের গণমাধ্যমের কল্যাণে প্রথমে খবর রটেছিল, এই ধারাবাহিকের প্রধান চরিত্র সুলতান সুলেমান হিসেবে অভিনয় করা হালিত এরগেনচের চেয়ে কম সম্মানী পাওয়ায় তিনি কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে সেটি ধোপে টেকেনি এ কারণে যে মারিয়েম তো এত দিন এই সম্মানীতেই কাজ করেছেন।
কখনো বিষয়টি নিয়ে তিনি আপত্তি তোলেননি। তা ছাড়া এই চরিত্রে অভিনয় তাঁকে যে খ্যাতি আর সম্মান এনে দিচ্ছিল, সেটা তিনি ভালোভাবেই উপভোগ করছিলেন।
এরপর কেঁচো খুঁড়তে অনেকটা সাপ বেরিয়ে আসার মতো ঘটনা ঘটল। জানা গেল, প্রেমিক চান এতেশের কাছ থেকে চূড়ান্ত  প্রতারণার শিকার হয়েছেন তিনি।
ওই সময় পাকিস্তানের সাংবাদিক আয়েশা আরমানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মারিয়েম বলেন, ‘আমি ভুল মানুষকে ভালোবেসেছি।’ এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, তাঁর আর চানের মধ্যে সম্পর্কটা ছিল বাইরে খেতে যাওয়া, ঘুরতে যাওয়া পর্যন্তই। পরিচিতরা চানের মতো প্লেবয়ের সঙ্গে গভীর সম্পর্কে না জড়ানোর পরামর্শ দিয়েছিল। তাদেরও সম্পর্কটা গভীর করার ভাবনা ছিল না। তবে তিনি নিজেই একসময় চানের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েন।
মারিয়েমের ভাষায়, তিনি দীর্ঘদিন পরিবার থেকে দূরে ভিন দেশের এক হোটেলে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন।
ধারাবাহিকের কাজ ছাড়া বাইরে তেমন একটা যাওয়া হতো না তাঁর। জার্মানিতে বড় হওয়ায় তুরস্কে তেমন কোনো বন্ধু-বান্ধবও ছিল না তাঁর। নির্ভুল কাজ করতে গিয়ে তিনি রাতের পর রাত না ঘুমিয়ে চিত্রনাট্য মুখস্থ করেছেন। সব মিলিয়ে চাপ আর একাকিত্বে ছিলেন তিনি। তাঁর এই জীবনে চান ছিল মুক্তির আলোর মতো। তাই ধীরে ধীরে তাঁর প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েন তিনি। তাঁর প্রেমিকও সেই সুযোগটা নেন।
মারিয়েম বলছিলেন, যখন প্রেমিক চানকে তিনি জানান যে তাঁদের জীবনে সন্তান আসতে যাচ্ছে, তখন প্রেমিকের ভিন্ন রূপ দেখেছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, চান এতেশ এ খবর শুনে বলেন যে এই সন্তানের দায়দায়িত্ব তিনি নিতে পারবেন না।
তাঁর ঘরে স্ত্রী আর দুই সন্তান আছে। ভালো ক্যারিয়ারের কথা চিন্তা করে তিনি গর্ভপাত করার পরামর্শ দেন মারিয়েমকে। তবে মারিয়েম জারলি সেটা করেননি। তিনি প্রেমিককে ছেড়েছেন। আর অনাগত সন্তানকে আঁকড়ে বাঁচার জন্য তুরস্কের সব পাট চুকিয়ে তিনি জার্মানিতে পরিবারের কাছে চলে যান।
ফলে হুররাম চরিত্রটিতে তাঁর আর অভিনয় করা হয়নি। ধারাবাহিকটির কর্তা ব্যক্তিরা নতুন আরেকজনকে এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য নেন। বর্তমানে ৩৪ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী ফুটফুটে এক মেয়ের মা।

হুররেম ক্ষমতাধর নারীদের একজন

হুররেম সুলতান রোক্সেলানা হিসেবেও পরিচিত।”রোক্সেলানা” সম্ভবত তার মূল নাম নয় বরং তার ডাকনাম ছিল, যা তার রুসাইন বংশসূত্রকে নির্দেশ করত। ১৬শ-শতাব্দীর পরবর্তী এবং ১৭শ- শতাব্দীর শুরুর দিকে তুর্কি বিষয়ে গবেষক পোলিশ কবি সামুয়েল ত্বারদভস্কির দেয়া তথ্য অনুসারে, হুররেম সম্ভবত কোন ইউক্রেনীয় অর্থোডক্স ধর্মযাজক পিতার ঘরে জন্ম নিয়েছিলেন। তিনি পোল্যান্ড রাজ্যের রুথেনীয় ভয়ভডেশিপের প্রধান শহর ল্বও-এর ৬৮ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বের রুহাটাইন নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন (বর্তমান পশ্চিম ইউক্রেন)।

১৫২০-এর দশকে ক্রিমিয়ার তাতাররা ওই এলাকার একটি তড়িৎ অভিযানের সময় তাকে বন্দী করে একজন দাসী হিসেবে নিয়ে আসে (সম্ভবত প্রথমে ক্রিমিয়ার নগরী কাফফায়, যা দাস ব্যবসার একটি প্রধান কেন্দ্র, এরপর কনস্টান্টিনোপলে) এবং তাকে প্রথম সুলাইমানের হারেমের জন্য বাছাই করে।

অল্প সময়ের মধ্যেই রোক্সেলেনা তার মনিব সুলায়মানের সুনজরে চলে আসেন এবং সমসাময়িক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ঈর্ষার পাত্রীতে পরিণত হন। শীঘ্রই তিনি সুলায়মানের প্রিয়তম সঙ্গিনী বা হাসেকি সুলতান হয়ে ওঠেন। সুলতানের উপর হুররামের প্রভাবের কথা দ্রুত আশেপাশের সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। তিনিই সুলতানের সর্বাধিক সংখ্যক সন্তানের জন্ম দেন।
উসমানীয় সম্রাট প্রথম সুলাইমানের প্রিয়তম প্রমোদ দাসী ও পরবর্তীকালে তার বৈধ স্ত্রী এবং সম্রাটের সন্তান শাহজাদা মুহাম্মদ, মিরহিমাহ সুলতান, শাহজাদা আবদুল্লাহ, সুলতান দ্বিতীয় সেলিম, শাহজাদা বায়েজিদ এবং শাহজাদা জাহাঙ্গীরের মাতা ।
দুইশত বছরের অটোম্যান ঐতিহ্যকে ভঙ্গ করে, একজন প্রাক্তন উপপত্নী এভাবে অবশেষে সুলতানের বৈধ পত্নী হয়ে ওঠে, যা প্রাসাদ ও নগরীর প্রত্যক্ষদর্শীদের জন্য অত্যন্ত হতবাককারী একটি বিষয় ছিল।
তিনি ছিলেন উসমানীয় ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর নারীদের মধ্যে একজন এবং নারীদের সালতানাত নামে পরিচিত । তার স্বামী প্রথম সুলায়মানের শাসনকালে তিনি সুলতানের প্রধান স্ত্রী বা “হাসেকি সুলতান” ছিলেন। তিনি তার স্বামীর মাধ্যমে ক্ষমতা অর্জন করে ।

প্রাসাদে প্রভাব বিস্তার
ইস্তাম্বুলের হেরেমে হুররেম সুলতান সুলায়মানের প্রথম স্ত্রী, মাহিদেভরান সুলতানের একজন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন। ১৫২১ সালে হুররেম তার প্রথম পুত্র মেহমেদের জন্ম দেন এবং এরপর আরও চার পুত্র, যা সুলতানের একমাত্র পুত্রের মাতা হিসেবে অর্জিত মাহিদেভরানের মর্যাদাকে ধূলিসাৎ করে দেয়।
সুলায়মানের মাতা, আয়শে হাফসা সুলতান, এই দুই মহিলার শত্রুতাকে একপাক্ষিকভাবে গোপন রাখতেন কিন্তু ১৫৩৪ সালে তার মৃত্যুর পর, একটি তুমুল লড়াই সঙ্ঘটিত হয়, যেখানে মাহিদেভরান হুররেমকে মারধর করেন। এ ঘটনায় সুলাইমান ক্ষুব্ধ হয়ে পরবর্তীতে মাহিদেভ্রানকে পুত্র মুস্তফা সহ প্রাদেশিক রাজধানী মানিসায় পাঠিয়ে দেন। এই নির্বাসনকে দাপ্তরিকভাবে সবার কাছে দেখানো হল যে, এটি হল সাঞ্জাক বেয়লিজি বা আপাত উত্তরাধিকারীর প্রথাগত প্রশিক্ষণ।
হুররেম এবং মাহিদেভরান মিলে সুলাইমানের ছয় পুত্রসন্তানের জন্ম দেন, যাদের মধ্যে ৪ জন ১৫৫০ সালের মধ্যে জীবিত ছিল: মুস্তফা, সেলিম, বায়েজিদ, ও জাহাঙ্গীর। এদের মাঝে, মুস্তাফা ছিল বয়োজ্যেষ্ঠ উত্তরাধিকারী হিসেবে হুররেমের সন্তানের অগ্রবর্তী ছিলেন। হুররেম জানতেন যে নিয়মানুসারে মুস্তাফাই সুলতান হবে, এবং তার নিজ সন্তানদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হবে।
তথাপি মুস্তফাও সকল ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে বিচক্ষণ বলে অনেকেই তাকে প্রাধান্য দিত এবং পারগালি ইব্রাহীম পাশাও তাকে সমর্থন করতেন, যিনি ১৫২৩ সালে সুলতানের প্রধান উজির হন।
অনেক তথ্যসূত্রে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, ইব্রাহিম পাশা হুররেম সুলতানের চক্রান্ত ও প্রাসাদে তার উঠতি প্রভাবের একজন ভুক্তভোগী ছিলেন, বিশেষ করে অতীতে শাহজাদা মুস্তফাকে সমর্থন করার কারণে। হুররেমকে অন্তত আংশিকভাবে হলেও উত্তরসূরি বাছাই করার চক্রান্তের জন্য দায়ী বলে ধরা হয়। তবে সুলায়মানের স্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও তিনি দাপ্তরিক ও সরকারি কোন কাজে ভূমিকা রাখতেন না।

এই বিষয়টি তার শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে প্রতিবন্ধক ছিল। প্রথম আহমেদের শাসনামলের আগপর্যন্ত সাম্রাজ্যে সুলতানের মৃত্যু হলে, উত্তরসূরি নির্বচনের কর্মকাণ্ডে বেসামরিক অস্থিরতা ও বিদ্রোহ প্রতিহত করতে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজপুত্রদের গোপনে বা প্রকাশ্যে হত্যা করা হতো।

নিজ পুত্রদের প্রাণদণ্ডকে এড়াতে, হুররেম মুস্তাফার অভিশংসনের সমর্থকদের নির্মূল করতে নিজ প্রভাবকে কাজে লাগাতে শুরু করলো।
এভাবে হুররেমের প্ররোচনায় পরিচালিত ক্ষমতার লড়াইয়ে,সুলাইমান ১৫৩৬ সালে ইব্রাহিমকে খুন করেন এবং এবং তার কন্যা মিহিরমার স্বামী ও তার স্নেহভাজন জামাতা রুস্তম পাশাকে (প্রধান উজির ১৫৪৪-১৫৫৩ এবং ১৫৫৫-১৫৬১) তার স্থলাভিষিক্ত করেন। বহু বছর পর, সুলায়মানের দীর্ঘ শাসনামলের শেষের দিকে, তার পুত্রদের শত্রুতা আরও স্পষ্ট ও প্রকট আকার ধারণ করে।
অধিকন্তু, রুস্তম পাশা ও হুররেম সুলতান উভয়ই সুলায়মানকে মুস্তফার বিরুদ্ধে উসকিয়ে দেন এবং মুস্তফাকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে
অভিযুক্ত করা হয়।
১৫৫৩ সালে সফভীয় ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানকালে, সুলতান সুলায়মান মুস্তাফার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।একটি তথ্যসূত্র অনুসারে, সে বছর তিনি তার বাবাকে সিংহাসনচ্যুত করার পরিকল্পনার অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়, তার অভিযুক্ত হওয়ার কারণটি প্রমাণিত ও অপ্রমাণিত হওয়ার মাঝখানে আঁটকে থাকে।

মুস্তফার মৃত্যুর পর, মাহিদেভরান প্রাসাদে তার অবস্থান হারান (আসন্ন উত্তরাধিকারীর মা হিসেবে) এবং বুরসায় গিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে থাকেন। শেষের দিকে তার সৎপুত্র দ্বিতীয় সেলিম সুলতান হওয়ার পর (১৫৬৬) তাকে নিয়মিত ভাতা দেয়ার ব্যবস্থা করায় তাকে আর দারিদ্রে ভুগতে হয় নি। ১৫৫৮ সালে হুররেমের মৃত্যুর পরেই কেবলমাত্র তার পুনর্বাসন সম্ভবপর হয়।কথিত আছে যে, জাহাঙ্গীর, হুররেমের কনিষ্ঠ
সন্তান, তার সৎ-ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে বেদনাকাতর হয়ে কয়েক মাস পরেই মারা যান।

১৫৫৩ সালে সুলায়মান মুস্তাফাকে প্রাণদণ্ড দেয়ার পর, সৈন্যদের মধ্যে একটি বড়মাপের অসন্তুষ্টি ও অস্থিরতার উত্থান হয় যারা রুস্তম পাশাকে মুস্তফার মৃত্যুর জন্য দায়ী করেন। এ ঘটনায় সুলায়মান রুস্তম পাশাকে বরখাস্ত করেন এবং ১৫৫৩ সালে কারা আহমেদ পাশাকে প্রধান উজির হিসেবে নিয়োগ দেন। কিন্তু সবে দুই বছর পর, কারা আহমেদ পাশাও হুররেম সুলতানের নোংরা চক্রান্তের স্বীকার হন, কারণ হুররেম তার জামাতা রুস্তম পাশাকেই আবারও প্রধান উজির হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন।

১৫৫৫ সালে কারা আহমেদ পাশাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় এবং রুস্তম পাশাকে আরও একবার প্রধান উজির (১৫৫৫-১৫৬১) হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

সুলায়মান বাকি জীবনে রাজসভাতেও হুররেমকে তার সাথে থাকতে দেন, যার ফলে আরেকটি প্রথা ভঙ্গ হয়, আর তা হল, যখন সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারীগণ উপযুক্ত বয়সে পৌঁছুবে, তাঁদেরকে তাঁদের রাজ উপপত্নীসহ (উত্তরাদিকারিদেরকে তাঁদের মাতাসহ) নিকটস্থ প্রদেশে শাসনের জন্য পাঠিয়ে দেয়া হবে, উক্ত উপপত্নীদের সন্তান ক্ষমতায় বসার আগ পর্যন্ত তারা ফিরে আসতে পারবে না।

সুলতানের রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবেও হুররেম ভূমিকা পালন করেছেন, এবং প্রতীয়মান হয় যে তিনি বৈদেশিক নীতি ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও প্রভাব রেখেছিলেন।রাজা সিগিসমন্ডাস দ্বিতীয় অগাস্টাসকে প্রেরিত তার দুটি চিঠি এখনো টিকে আছে, এবং স্বভাবতই তার জীবদ্দশায় পোলিশ- অটোমান মৈত্রীচুক্তির মাধ্যমে পোল্যান্ড রাজ্যের সঙ্গে অটোম্যান সাম্রাজ্যের শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজমান ছিল। করেছিলেন এবং সাম্রাজ্যের রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন।

হুররেম সুলতান ১৫ ই এপ্রিল ১৫৫৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন । সুলায়মানের সমাধির পাশেই তার সমাধি অবস্থিত, যা সুলায়মানিয়ে মসজিদের প্রাঙ্গনে অবস্থিত।
তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস, হুরিয়েত ডেইলি নিউজ, উইকিপিডিয়া ও ইন্টারনেট

Please follow and like us:
Facebook Comments