নানা সমস্যায় জর্জরিত ভোমরা স্থল বন্দর

ক্রাইমবার্তা রিপোর্ট::সাতক্ষীরা সংবাদদাতাঃ পূর্ণাঙ্গ বন্দরের সুবিধা থেকে বঞ্চিত সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা। প্রতি বছরই আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বাড়লেও বাড়ছে না পূর্ণাঙ্গ বন্দরের সব সুযোগ-সুবিধা। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে আমদানি-রপ্তানিকারকরা।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৫ সালে বিশেষ অনুমতিতে ভোমরা স্থল বন্দর দিয়ে চিংড়ি রেণু আমদানির মধ্য দিয়ে বৈদেশিক বাণিজ্যের সূত্রপাত ঘটে। এরপর ১৯৯৬ সালের ১৫ মে ভোমরা ইমিগ্রেশন পয়েন্টকে স্থল বন্দর হিসেবে আমদানি-রপ্তানি। কিন্তু ২১ বছর পেরিয়ে গেলেও বন্দরের তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি ।
ব্যবসায়ীদের দাবি অবকাঠামো উন্নয়ন, উচ্চ শুল্ক পণ্য আমদানির অনুমোদন পেলেই কার্যকরী বন্দরে পরিনত হবে ভোমরা বন্দরটি। তাতে ব্যবসায়ীরা যেমন লাভবান হবে তেমনি বছরে ৩শ থেকে ৪শ কোটি টাকা বেশী রাজস্ব আদায় হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
ভোমরা স্থলবন্দরে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে সরকারি রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৩০ কোটি ৯৮ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। সেখানে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আদায় হয়েছে ৪৩ কোটি ৬৪ লাখ ৪২ হাজার টাকা বেশী।
কিন্তু ভারত থেকে ৪৭ টি পণ্য আমদানির অনুমতি থাকলেও চাল, পেঁয়াজ, আপেল, মাছসহ হাতে গোনা গুটি কয়েক স্বল্প শুল্কের পণ্য ছাড়া এ বন্দর দিয়ে মূলত আর কোনো পণ্য আমদানি হয় না। এতে সব ধরনের আমদানি-রপ্তানির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ব্যবসায়ীরা। আমদানিকারকদের দাবি, উচ্চ শুল্ক পণ্য আমদানির অনুমোদন পেলেই কার্যকরী বন্দরে পরিণত হবে ভোমরা বন্দর।
সকল সুবিধা থাকার পরও সাতক্ষীরা ভোমরাস্থল বন্দর দিয়ে জিরা ছাড়া অন্য কোনো গরম মসল্যা আমদানি করতে দেয়া হয় না। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অজ্ঞাত কারনে এলাচ, লবঙ্গ ও দারুচিনির মত উচ্চকর যুক্ত গরম মসল্যা আমদানি করতে দেয়া হয়না বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের। যা গত বছরের তুলনায় ১০ শাতাংশ পরিমান কমেছে।
ভোমরা চেকপোস্ট থেকে কোলকাতার দূরত্ব মাত্র ৭৫ কি.মি। আর ঢাকার দূরত্ব ২৫০ কি.মি। ঢাকায় যেতে সময় লাগে ১২/১৪ ঘন্টা, আর কোলকাতা যেতে লাগে মাত্র ৩/৪ ঘন্টা। যে কারণে আমদানি রপ্তানির ক্ষেত্রে এবন্দরের বিশেষত্ব অনেক বেশি।
ভোমরা স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়শনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম জানান, ভোমরা বন্দর দিয়ে শুধুমাত্র জিরা ছাড়া অন্য কোন মসল্যা জাত দ্রব্য আমদানি করতে দেওয়া হয় না। অথচ ভোমরা বন্দরের চেয়ে নন গ্রেড বন্দর দিয়ে সকল পন্য আমদানির সুযোগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আগামী বাজাটে ভোমরা বন্দরে সকল পন্য আমদানির সুযোগ থাকে তার জন্য তিনি সরকারের কাছে অনুরোধ জানান।
সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজের সভাপতি নাসিম ফারুক খান মিঠু বলেন, ভোমরা বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের পন্য আমদানিতে বৈষম্য করা হচ্ছে। কোলকাতাকে পশ্চিমবঙ্গের বানিজ্যিক রাজধানী বলা হয়ে থাকে। অথচ ভোমরা থেকে কোলকাতার দুরত্ব যেমন কম তেমনি যোগাযোগ ব্যবস্থাও খুবই ভালো। কিন্ত দেশের বড় বড় ব্যবসায়ীরা ভোমরা বন্দর ব্যবহার করতে চাইলেও তারা এই বন্দর দিয়ে পন্য আমদানি করতে পারে না।
ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে পূর্ণাঙ্গ বন্দরের সব সুযোগ সুবিধার জন্য সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন একজন কর্মকর্তা। পূর্ণাঙ্গ বন্দরের সুযোগ-সুবিধা পেলে এ বন্দরের রাজস্ব জ্যামিতিক হারে বাড়বে বলে জানান তারা।

 

ভোমরা স্থল বন্দর

কাষ্টমস সার্কেল, ভোমরা (বর্তমান:- ভোমরা স্থল শুল্ক ষ্টেশন, ভোমরা, সাতক্ষীরা)

 

সার্কেল সৃষ্টি        : ০২/০৬/১৯৯০ ইং

আমদানী-রপ্তানী শুরু      : ১৫/০৫/১৯৯৬ ইং

শুভ উদ্বোধন করেন       : জনাব মো: সাখাওয়াত হোসেন, কমিশনার

কাষ্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট , খুলনা।

মৌজা           : লক্ষীদাঁড়ী এবং ভোমরা।

থানা ও জেলা      : সাতক্ষীরা।

চৌহদ্দী           : দক্ষিন দিকে- অর্ধ (১/২) কিলোমিটার, উত্তর দিকে-অর্ধ (১/২) কিলোমিটার,               পূর্ব দিকে- রাস্তা বরাবর ২ (দুই) কিলোমিটার এবং পশ্চিম দিকে- এক-চতুর্থাংশ                     (১/৪) কিলোমিটার।

 

Please follow and like us:
Facebook Comments