সাতক্ষীরায় হলুদ চাষে কৃষকরা ঝুকছে: হারানো গৌরভ ফিরে পেতে সমন্বিত পদ্ধতিতে চাষ

আবু সাইদ বিশ্বাসঃসাতক্ষীরাঃ মসলা জাতীয় পণ্য হলুদ চাষে সাতক্ষীরার কৃষকরা ঝুকে পড়ছে। উৎপাদন খরচের চেয়ে দাম বেশি পাওয়াতে কৃষকরা হলুদ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে। ফলে দিন দিন এ জেলাতে হলুদের কদর বাড়ছে। এক সময় দেশের বেশির ভাগ অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা এ জেলাতে হলুদ কিনতে আসত। কিন্তু জমিতে লবণক্ষতা বৃদ্ধি ও হলুদের দাম কমে যাওয়াতে হলুদ চাষীরা চরম ক্ষতির সম্মুখিন হয়। ফলে তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় হলুদ চাষে। টানা দুই যুগের মত চরম মান্দা যায় হলুদ চাষে। প্রযুক্তির উন্নয়ন ও হলুদের দাম বৃদ্ধি পাওয়াতে এবছর সাতক্ষীরা জেলাতে হলুদের আবাদ বাড়ছে। চলতি মৌসুমে এ জেলায় হলুদ উৎপাদন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ হাজার ৯৬০ টন। আবাদ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৬০০ হেক্টর জমিতে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে

, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরায় মোট ৫৭৮ হেক্টর জ

মিতে হলুদ আবাদের লক্ষ্য ছিল। লক্ষ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ১২০, কলারোয়ায় ৯০, তালায় ২৮৬, দেবহাটায় ১৫, কালীগঞ্জে ১০০, আশাশুনিতে ১৫ ও শ্যামনগরে ৪৩ হেক্টর জমিতে হলুদ আবাদ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চলতি মৌসুমে জেলায় হলুদ আবাদ লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলার ৬৬৪ হেক্টর জমিতে হলুদ আ

বাদ হয়েছে। এ হিসাবে লক্ষ্যমাত্রার তুলনা

য় প্রায় ৮৬ হেক্টর জমিতে মসলাজাতীয় পণ্যটির আবাদ বেশি হয়েছে।
চলতি মৌসুমে জেলায় ৯ হাজার ৯৬০ টন হলুদ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১ হাজার ৮০০, কলারোয়ায় ১ হাজার ৩৫০, তালায় ৪ হাজার ২৯০, দেবহাটায় ১৫০, কালীগঞ্জে ১ হাজার ৫০০, আশাশুনিতে ১৫০ ও শ্যামনগরে ৬৪৫ টন হলুদ উৎপাদন হতে পারে।
চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরায় হলুদ আবাদ লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেলেও কয়েক বছর ধরে এর উৎপাদন কমে আসছে বলে জানি

য়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, আবাদি জমিতে লবণাক্ততার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কথা।
এ প্রসঙ্গ জেলার তালা উপজেলার দাতপুর গ্রামের মোমিন আলী গাজী জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি হলুদ আবাদ করে আসছেন। তবে কয়েক বছর ধরে পণ্যটির আবাদ কমিয়ে এনেছেন। জমিতে লবণাক্ততার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো আর উৎপাদন হয় না। ফলে হলুদ আবাদ করে লাভের সম্ভাবনা কমে এসেছে। এ কারণেই তিনিসহ জেলার বেশির ভাগ কৃষক হলুদ আবাদ কমিয়ে এনেছেন। তবে এবছর আবার একটু বাড়ছে।
আশার কথা শোনালো হলুদ চাষীরা। কয়েক জন চাষী জানান,সমন্বিত চাষের মাধ্যমে একই জমিতে হলুদের সাথে কয়েক ধরণে সবজির চাষ করা যায়। ফলে তদারকি সহ খরচ অনেক কমেছে।
সরজমিনে দেখা যায়, চাষীরা হলুদের সাথে একই জমিতে ঝাল গাছ, বেগুন চাষ, মেটে আলূ, ওলের চাকি চাষ করছে। দেখা যায়, হলূদের সাথে সাথে একই সাথে এ সকল ফসল অতিদ্রুত ফলানো যায়। এতে ঐ কৃষকের নিজের পরিবারের চাহিদা পুরণ করে বাজারে বিক্রি করে অধিক লাভবান হওয়া সম্ভব। এ বছর শুকনো হলুদের দাম বেশি থাকায় হলুদ বিক্রিতে মোটামুটি গতবারের থেকে বাজার পাবেন বলে আশা করছেন কৃষকরা। থানার মোকসেদপুর গ্রামের হলুদ চাষী দেবব্রত কুমার দাশ জানান, এ বছর বিঘা দুয়েক জমিতে হলুদ চাষ করেছি। আশাকরি অন্যবারের তুলনায় বেশি দাম পাব। কুমিরা গ্রামের আব্দুস সালামের পুত্র শহিদুল ইসলাম জানান, গতবছর ৯’শ টাকা হতে ১৩’শ টাকা পর্যন্ত মণ প্রতি হলুদ বিক্রি করেছিলাম। সে তুলনায় এ বছর ১৪/১৫ ’শ টাকা মণ পাব বলে আশা করি। তালা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর পাটকেলঘাটা সহ তালা উপজেলায় হলুদের বেশ বাম্পার ফলন হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হয় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কাজী আব্দুল মান্নানের সঙ্গে। তিনি বলেন, হলুদ বেশ লাভজনক ফসল। সাতক্ষীরায় প্রতি হেক্টরে ১৫-১৬ টন পর্যন্ত হলুদ উৎপাদন হয়। কিন্তু উপকূলীয় জেলা হওয়ার কারণে বেশ কিছুদিন ধরে এখানকার আবাদি জমিতে লবণাক্ততার পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে দেখা দিচ্ছে জলাবদ্ধতা। এ দুই কারণে জেলার কৃষকরা হলুদ আবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। তবে আমরা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের হলুদ আবাদের ক্ষেত্রে সবসময় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে থাকি। যার ফলে এবছর আবাদ বাড়ছে।

 

 

 

Facebook Comments
Please follow and like us: