সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের তিন গেটে তালা

 রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্য শেষে জনসভা থেকে বের হতে গিয়ে বিপাকে পড়েছে নেতাকর্মীরা। পুলিশ গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় গেট ও দেয়াল টপকে বের হয় তারা। ছবি : এনটিভি

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্য শেষে জনসভা থেকে বের হতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন নেতাকর্মীরা। সমাবেশস্থল থেকে টিএসসি, কালীমন্দির ও শাহবাগ এলাকার গেট দিয়ে বের হতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে পুলিশ।

কারণ জানতে চাইলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা বলছেন যে উপরের নির্দেশ আছে, সবাইকে মৎস্যভবন এলাকার গেট দিয়ে বের হতে হবে। তাই উপায় না দেখে অনেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের তালা ঝুলানো গেটের ওপর দিয়ে, অনেকে পাশের দেয়াল টপকে বের হচ্ছেন। অনেকে প্রতিবাদ করলেও কোনো ফল না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে মৎস্যভবন এলাকার গেটের দিকে হাঁটতে শুরু করেছেন।এ সময় সুমন কবির নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করে এনটিভি অনালাইনকে বলেন, ‘দেশটা মনে হচ্ছে পুলিশ কিনে নিয়েছে। আমি বিএনপির কোনো নেতাকর্মী নই। এক বন্ধুর সাথে দেখা করতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ করেছি। কিন্তু এখন আর বের হতে পারছি না। টিএসসিতে যাওয়া খুব জরুরি। তাই দেয়ালের ওপর দিয়েই পার হচ্ছি।’

সমাবেশে আসা মো. শাকিল নামের বিএনপির এক কর্মী এনটিভি অনলাইনের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ‘গেটে তালা লাগিয়ে দেওয়া একটা কৌশল। আমরা যেন রেগে গিয়ে পুলিশের সাথে ঝামেলা করি। এই সবের জন্যই এই কাজ করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের সমাবেশ যেহেতু শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে তাই আমরা কারো সাথে কোনো ঝামেলায় জড়াব না।’ এই বলে মৎস্যভবন এলাকার গেটের দিকে হাঁটতে শুরু করে দেন তাঁরা।ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্যই তারা গেটে তালা লাগিয়েছেন। আর এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।সমাবেশে খালেদা জিয়ার বক্তব্য শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই টিএসসিসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন এলাকায় মিছিল করেছে ছাত্রলীগ। ধারণা করা হচ্ছে কোনো প্রকার ঝামেলা এড়াতেই পুলিশ এই তিনটি গেট দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের বের হতে দেয়নি।

গত ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পালন করে বিএনপি। এ উপলক্ষে আজ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে  সমাবেশ করে বিএনপি। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

Please follow and like us:
Facebook Comments