অনন্ত-বর্ষার ঘরে নতুন অতিথি

ক্রাইমবার্তা ডেস্করিপোর্ট:ঢালিউডের আলোচিত নায়ক-নায়িকা দম্পতি অনন্ত ও বর্ষার সংসারে নতুন অতিথি এসেছে। এ কথা তাদের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তারাই জানিয়েছেন।

জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর ব্যাংককে যান বর্ষা ও অনন্ত জলিল। গত ২৩ অক্টোবর ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে বর্ষার অস্ত্রোপচার করা হয়। ছেলেকে নিয়ে তারা দেশে ফিরে আসেন ৮ নভেম্বর। গতকাল রোববার আকিকা দিয়ে ছেলের নাম রেখেছেন। এরপর ছেলের ছবি প্রকাশ করেছেন তারা। এই দম্পতির প্রথম ছেলে আজিজ ইবনে জলিলের বয়স এখন তিন বছর।

দুই ছেলের ছবি আপলোড করে অনন্ত তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘আসসালামু আলাইকুম, আমার ছোট ছেলে – আবরার ইবনে জলিল, আর বড় ছেলে-আরিজ ইবনে জলিল। আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর দয়ায় সবাই ভালো আছি। আমি অনেক আনন্দিত। তাদের সঙ্গে আমার বেশ ভালো সময় কাটতেছে। বন্ধুগণ আমার দুই ছেলের জন্য দোয়া করবেন।’

এম.এ. জলিল অনন্ত যিনি অনন্ত জলিল হিসেবেই বেশি পরিচিত, একাধারে একজন চলচিত্র পরিচালক, প্রযোজক, নায়ক ও ব্যবসায়ী। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ইসলামী দাওয়াতের সাথে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।

একটি বেসরকারি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনন্ত জলিল জানিয়েছিলেন, তিনি ও তার বড় ভাই মুন্সিগঞ্জ জেলায় বাবার কাছে বড় হয়েছেন। পাঁচ বছর বয়সে তার মা মারা যান। অপর একটি রেডিওকে দেয়া আরেক সাক্ষাৎকারে অনন্ত তার নাম ‘আব্দুল জলিল’ নামের গৃহশিক্ষকের অণুপ্রেরণায় তার বাবা রেখেছেন বলে জানান।

অনন্ত জলিল ও লেভেল আর এ লেভেল করেছেন ঢাকার অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে। এরপর ম্যানচেস্টার থেকে বিবিএ এবং ফ্যাশন ডিজাইনিং পড়েন।

জলিল ১৯৯৯ সালে একজন সফল ব্যবসায়ি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি ২০১০ সালে খোঁজ-দ্যা সার্চ সিনেমার মাধ্যমে ঢালিউডের চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন।

এম এ জলিল অনন্তর পূর্ব পরিচয় হলো, তিনি একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। তিনি গার্মেন্টস ব্যবসার পাশাপাশি চলচ্চিত্র ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন, নিজের প্রযোজনা সংস্থার মাধ্যমে। নতুনত্ব ও বৈচিত্র্য আনার জন্য রূপালীপর্দায় ঝুঁকেছেন অনন্ত জলিল।

অনন্ত জলিল সামাজিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে ৩টি এতিমখানা নির্মাণ করেছেন। মিরপুর ১০ নং, বাইতুল আমান হাউজিং ও সাভার মধুমতি মডেল টাউনে আছে এতিমখানাগুলো। এ ছাড়াও সাভারের হেমায়েতপুরের ধল্লা গ্রামে সাড়ে ২৮ বিঘার উপর একটি বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন অনন্ত জলিল। তিনি ঢাকার হেমায়েতপুরে অবস্থিত বায়তুস শাহ জামে মসজিদেরর নির্মাণকাজেও অবদান রাখেন।

২০১০ সালে খোঁজ-দ্যা সার্চের পর ২০১১ সালে করেন হৃদয় ভাঙ্গা ঢেউ। এরপর ২০১২-তে দ্য স্পী ও মোস্ট ওয়েলকাম। ২০১৩ সালে করেন নিঃস্বার্থ ভালবাসা, ২০১৪ সালে মোস্ট ওয়েলকাম ২। এছাড়া আরো দু’টি ছবি নির্মাণাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।

সাংস্কৃতিক মঞ্চে ইসলাম প্রচারের পর ওয়াজ মাহফিলে অনন্ত 
ঢালিউডে বেশ কয়েকটি সফল সিনেমায় অভিনয়ের পর তাবলীগ জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইসলামী জীবনধারণ শুরু করেন অনন্ত জলিল। এসময় তিনি শো-বিজ অঙ্গন হতে দূরে সরে যান। ধর্মীয় স্থান ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসলামের দাওয়াত দেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবার অনন্তকে ওয়াজ মাহফিলের প্রধান অতিথি হিসেবে দেখা যাবে। ১৭ নভেম্বর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আদাবরে আয়োজিত ওই ওয়াজ মাহফিলের পোস্টার সামাজিক যোগাযোগ ছড়িয়ে পড়েছে।

১৭ তারিখ বাদ আছর শুরু হওয়া ওই মাহফিলের পোস্টারে লেখা হয়েছে, আদাবর ১৭বি জামে মসজিদ ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে তৃতীয় বার্ষিক বিশাল ওয়াজ মাহফিলের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজ সেবক এম. এ জলিল অনন্ত। ওই ওয়াজ মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মাওলানা মুফতি হাবিবুর রহমান মিজবাহ্। বিশেষ বক্তা সৈয়দ মুফতি উসামা ইসলামসহ আরো অনেকে।

উল্লেখ্য, কিছু দিন আগে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বাংলাদেশ নাইটে অংশগ্রহনের ঘোষণা দিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। যদিও বাংলাদেশ নাইটের মঞ্চেও তিনি ইসলামের দাওয়াত দেন।

বহু প্রতীক্ষিত ‘বাংলাদেশ নাইট ২০১৭’ অনুষ্ঠানটি ৪ নভেম্বর অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক অনন্ত জলিল ওই অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেছেন। ‘বাংলাদেশ নাইট-২০১৭’ এর সাংস্কৃতিক মঞ্চে পারফর্মের পর প্রবাসীদের ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন।

এর মধ্যদিয়ে শিল্পপতি ও গার্মেন্টস ব্যবসায়ী অনন্ত ধর্মীয় স্থান, ভিডিও বার্তার পর সাংস্কৃতিক মঞ্চে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

প্রবাসী বাংলাদেশী ও উপস্থিত সকলের উদ্দেশে অনন্ত বলেন, ‘আপনারা যখন দেশের বাইরে থাকেন, তখন দেশের কথা আরো ভালো মনে হয়। প্রবাসী বাংলাদেশী ভাই-বোনেরা যারাই আছেন তারা সবাই নামাজী মানুষ। আমরা ইনশাআল্লাহ্‌ ইসলামী লাইনে থাকবো। কাজে ব্যস্ত তো থাকবো, তবে পাচঁ ওয়াক্ত নামাজ ও পড়বো।’

বাংলাদেশ নাইট অনুষ্ঠানে আরো পারফর্ম করেন নগর বাউলের জেমস ও অর্থহীন ব্যান্ডের বেস বাবা সুমন।

Please follow and like us:
Facebook Comments