উপমহাদেশের জীবন্ত কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন সাতক্ষীরা নক্ষত্র

ক্রাইমবার্তা রিপোর্ট:বাংলাদেশের গানের জগতে অত্যন্ত পরিচিত নাম সাবিনা ইয়াসমিনের।এখন পর্যন্ত প্রায় ১৬ হাজারের মত গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি।১৩ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ছাড়াও পেয়েছেন একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কার ও আরও নানান সম্মাননা। তিনি সাতক্ষীরার নক্ষত্র।
ছোটবেলায় খুবই চঞ্চল প্রকৃতির ছিলেন এ শিল্পী।মা ও বোনদের গানের মধ্য দিয়েই তাঁর গাওয়াার শুরু।প্রথমে ‘খেলাঘর’ নামে বেতারঅনুষ্ঠানে ছোটদের গান করতেন সাবিনা ইয়াাসমিন।বেতার ও চলচ্চিত্রে বড়দের গান করেন ১৯৬৭ সালে।বড়দের গানে যাত্রা শুরু হয় স্কুলে পড়ার সময়েই।
তিনি বাংলা গানের পাখি। উপমহাদেশের জীবন্ত কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী। তার কণ্ঠে অসংখ্য গান শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছে, কালজয়ী হয়েছে। অডিও এবং চলচ্চিত্র- দুই ভুবনের গানেই তার গ্রহণযোগ্যতা আকাশ ছোঁয়া। তবে চলচ্চিত্রের প্লেব্যাকে সাবিনা ইয়াসমিন বিস্ময়কর এক সফল নাম।
সাবিনা ইয়াসমিন সাতক্ষীরার সন্তান। বাবার নাম লুতফর রহমান ও মা বেগম মৌলুদা খাতুন। তার ৫ বোনের মাঝে ৪ বোনই গান করেছেন। তারা হলেন ফরিদা ইয়াসমিন, ফওজিয়া খান, নীলুফার ইয়াাসমিন এবং সাবিনা ইয সমিন। দাম্পত্য জীবনে সাবিনা ইয়াসমিন এক কন্যা ফাইরুজ ইয়াাসমিন ও এক পুত্র শ্রাবণের জননী।

প্রয়াত বরেণ্য সুরকার-সংগীত পরিচালক রবিন ঘোষের সংগীত পরিচালনায় এহতেশাম পরিচালিত ‘নতুন সুর’ সিনেমাতে ১৯৬২ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে প্রথম গান করেন। তবে ১৯৬৭ সালে আমজাদ হোসেন ও নূরুল হক বাচ্চু পরিচালিত ‘আগুন নিয়ে খেলা’ সিনেমাতে আলতাফ মাহমুদের সংগীত পরিচালনায় ‘মধু জোছনা দীপালি’ গানটি গাওয়ার মধ্য দিয়ে প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। বরেণ্য এই সংগীত শিল্পী ১৯৮৪ সালে একুশে পদক, ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা পদকসহ সর্বোচ্চ ১৩ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৭৫ সালে প্রমোদকার (খান আতাউর রহমানের ছদ্ম নাম) পরিচালিত ‘সুজন সখী’ সিনেমাতে গান গাওয়ার জন্য প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

এরপর বিভিন্ন সময়ে আমজাদ হোসেনের ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সুন্দরী’, ‘কসাই’, চাষী নজরুল ইসলামের ‘চন্দ্রনাথ’, মইনুল হোসেনের ‘প্রেমিক’, বুলবুল আহমেদ’র ‘রাজলক্ষী শ্রীকান্ত’ , আমজাদ হোসেনের ‘দুই জীবন’, কাজী হায়াৎ’র ‘দাঙ্গা’, মতিন রহমানের ‘রাধা কৃষ্ণ’, মোহাম্মদ হোসেন’র ‘আজ গায়ে হলুদ’ ও চাষী নজরুল ইসলামের ‘দেবদাস’ চলচ্চিত্রে প্লে-ব্যাক করার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

দীর্ঘ সংগীত জীবনে ১৬ হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন বাংলা গানের এই নক্ষত্র!

Please follow and like us:
Facebook Comments