রোহিঙ্গা নির্যাতন : বিরোধিতার মধ্যেও মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিসঙ্ঘে প্রস্তাব গৃহীত

জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমের ওপর সামরিক দমনপীড়ন বন্ধে বৃহস্পতিবার দেশটির কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানিয়েছে। চীন ও রাশিয়াসহ কতিপয় আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশের বিরোধিতা সত্ত্বেও গৃহীত একটি প্রস্তাবে এ আহবান জানানো হয়।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মানবাধিকার বিষয়ক কমিটি বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর পক্ষ থেকে উপস্থাপিত এ প্রস্তাবকে জোরালো সমর্থন জানায়। ভোটাভুটিতে এ প্রস্তাবের পক্ষে ১৩৫ ভোট এবং বিপক্ষে ১০ ভোট পড়ে। ২৬টি দেশ ভোট দানে বিরত থাকে।

জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো জানায়, তারা ‘রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সহিংসতা এবং তাদের আরো শক্তি প্রয়োগের ব্যাপারে চরমভাবে উদ্বিগ্ন।’

ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) এ খসড়া প্রস্তাবে ত্রাণকর্মীদের মিয়ানমারে প্রবেশের সুযোগ, সকল শরণার্থীর দেশে ফেরার নিশ্চয়তা এবং রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নাগরিক অধিকার দিতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে।

প্রস্তাবে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তেনিও গুতেরেসকে মিয়ানমার বিষয়ক একজন বিশেষ দূতকে নিয়োগ দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

রাশিয়া ও চীনের পাশাপাশি কম্বোডিয়া, ফিলিপাইন, লাওস, ভিয়েতনাম, সিরিয়া, জিম্বাবুয়ে ও বেলারুশ এ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেয়। এছাড়া মিয়ানমার এ প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে।

এখন আগামী মাসে পূর্ণ পরিষদে এ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হবে। যদিও এক্ষেত্রে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

উল্লেখ্য, গত আগস্ট মাসের শেষের দিক থেকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী দেশটি রাখাইন রাজ্যে ব্যাপক দমনপীড়ন শুরু করায় সেখানের ৬ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

চার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোববার কক্সবাজার যাবেন
কূটনৈতিক প্রতিবেদক, ১৬ নভেম্বর ২০১৭
রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সরেজমিন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), জার্মান, জাপান ও সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আগামী রোববার কক্সবাজার যাবেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর নেতৃত্বে চার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে কক্সবাজার যাবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ঢাকায় ফিরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করবেন।

কুতুপালংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির সাথে কথা বলবেন। তারা বাংলাদেশ সরকার, জাতিসঙ্ঘ সংস্থা এবং স্থানীয় ও আন্তজার্তিক এনজিওদের পরিচালিত মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। এই সফরের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যাটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আরো জোরালোভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে বলে মনে করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশ সফর শেষে ইইউ’র পররাষ্ট্রমন্ত্রী (হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ) ফেডিরিকা মোঘেরিনি, জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো, জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েল ও সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারগট ওয়ালস্টার এশিয়া-ইউরোপ মিটিংয়ে (আসেম) যোগ দিতে মিয়ানমারের রাজধানী নেইপিডোতে যাবেন। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ বিমানে মাহমুদ আলীও নেইপিডো যাবেন। রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে আসেমে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

Facebook Comments
Please follow and like us: