প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু# মোট পরীক্ষার্থী ৩২ লাখ ৩০ হাজার ২৮৮ জন

ক্রাইমবার্তা ডেস্করিপোর্ট:প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা রোববার থেকে শুরু হচ্ছে। আগামী ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত এই পরীক্ষা চলবে। এতে পঞ্চম শ্রেণির ৩০ লাখ ৯৬ হাজার ৭৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থী কমেছে এক লাখ ৩৪ হাজার ২১৩ জন। টানা দ্বিতীয় বছরের মতো পরীক্ষার্থী কমেছে পঞ্চম শ্রেণির এই সমাপনীতে। পরীক্ষাকেন্দ্রে কেউ মোবাইল ব্যবহার করতে পারবে না।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের সাত হাজার ২৬৭টি এবং বিদেশের ১২টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা নেয়া হবে। এবার ২৮ লাখ চার হাজার ৫০৯ জন ক্ষুদে শিক্ষার্থী প্রাথমিক সমাপনী ও দুই লাখ ৯১ হাজার ৫৬৬ জন ইবতেদায়ী পরীক্ষা দেবে। এ পরীক্ষায় গত বছর মোট ৩২ লাখ ৩০ হাজার ২৮৮ জন অংশ নিয়েছিল। সে হিসেবে এবার ৪ শতাংশ পরীক্ষার্থী কমেছে।

এবার পরীক্ষায় ছাত্রদের থেকে এক লাখ ৮৯ হাজার ৮০১ জন বেশি ছাত্রী অংশ নিচ্ছে। এছাড়া প্রাথমিক সমাপনীতে দুই হাজার ৯৫৩ জন এবং ইবতেদায়ীতে ৩৭৯ জন ‘বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন’ পরীক্ষার্থী অংশ নেবে।

আগে এই পরীক্ষার সময় দুই ঘণ্টা ছিল। ২০১৩ সাল থেকে পরীক্ষার সময় আধ ঘণ্টা বাড়িয়ে আড়াই ঘণ্টা করা হয়। প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে ৬৪ জেলাকে বিশেষ আটটি অঞ্চলে ভাগ করে আট সেট প্রশ্নে গত বছর থেকে প্রাথমিক ও ইবেতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা নিচ্ছে সরকার।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার জানান, প্রশ্নপত্র বিশেষ নিরাপত্তায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। দুর্গম এলাকার ২০৪টি কেন্দ্রে প্রশ্ন পাঠানো হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থায়। পরীক্ষার দিন উপজেলা থেকে কেন্দ্র সচিবের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে। পরীক্ষার দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা অনিয়মের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ২০০৯ সাল থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা শুরু হয়। আর ইবতেদায়িতে এই পরীক্ষা হচ্ছে ২০১০ সাল থেকে। প্রথম দুই বছর বিভাগভিত্তিক ফল দেয়া হলেও ২০১১ সাল থেকে গ্রেডিং পদ্ধতিতে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সমাপনীর ফল দেয়া হচ্ছে। পঞ্চম শ্রেণিতে এই পরীক্ষা চালু হওয়ার পর থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছরই পরীক্ষার্থী সংখ্যা বেড়েছে। প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষায় ২০১০ সালে ২২ লাখ ৫ হাজার ১৯৭ জন, ২০১১ সালে ২৬ লাখ ৩৭ হাজার ২৩৫ জন, ২০১২ সালে ২৯ লাখ ৬৯ হাজার ৪০২ জন, ২০১৩ সালে ২৯ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ জন, ২০১৪ সালে ৩০ লাখ ৯৪ হাজার ২৬৫ জন এবং গত বছর ৩২ লাখ ৫৪ হাজার ৫১৪ জন নিবন্ধিত পরীক্ষার্থী ছিল। আর ২০১৫ সালে ৩২ লাখ ৫৪ হাজার ৫১৪ জন পরীক্ষায় বসেছিল।

Please follow and like us:
Facebook Comments