১৫ বছর পর আজ জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন#ফেস্টুন, ব্যানার ও তোরণে ছেয়ে গেছে সাতক্ষীরা#সর্বত্র উৎসবের বন্যা বইছে

আবু সাইদ বিশ্বাসঃক্রাইমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট: দীর্ঘ ১৫ বছর পর আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন। সর্বত্র উৎসবের বন্যা বইছে। সম্মেলনকে ঘিরে জেলা ছাত্রলীগে বিরাজ করছে উৎসবমূখর পরিবেশ। নেতাকর্মীদের মধ্যে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য। কেন্দ্রীয় নেতাদের আগমনে জেগে উঠেছে তৃণমূল ছাত্রলীগ।
সম্মেলনকে স্বাগত জানিয়ে পৌর শহরের মোড়ে মোড়ে আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের ছবি সন্বলিত তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুন ছেয়ে গেছে। সম্মেলনকে ঘিরে উপজেলা শীর্ষ স্থানীয় নেতৃত্ব থেকে তৃণমূল পর্যায়ে বইছে উৎসবের আমেজ।
ইতিহাস, ঐতিহ্য আর গৌরবগাথা অর্জনকে সামনে এনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠানের সকল আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। সম্মেলন সফল করতে কেন্দ্র থেকে আসছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান এমপি, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ.ফ.ম রুহুল হক এমপি, সাতক্ষীরা সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, সাতক্ষীরা-৪ আসানের সংসদ সদস্য জগলুল হায়দার, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রিফাত আমিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভির হুসাইন সুজন, অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এহসান হাবীব অয়ন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ। দলীয় সূত্র জানায়, সর্বশেষ গত ২০০২ সালের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ওই সম্মেলনে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়নি।
দলীয় সূত্রে আরও জানায়, ২০১২ সালের ১৫ ডিসেম্বরে এসএম মারুফ তানভীর হুসাইন সুজনকে সভাপতি ও এহসান হাবীব অয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে ৯ সদস্যের একটি আংশিক কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি। এর এক বছর পরে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট এক বছরের মেয়াদী পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির তৎকালিন সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম। এক বছরের এই কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। এক বছরের এই কমিটি বর্তমান ৫ বছরের অধিক সময় পার করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন ত্যাগী পোড় খাওয়া নেতা  বলেন, গত বছর বছরে জেলা ছাত্রলীগের কমিটি না হলেও গত কয়েকদিনে প্রতিটি উপজেলায় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। গত ১৮ নভেম্বর জেলা বিভিন্ন উপজেলায় ও প্রতিষ্ঠানে একদিনে ৫টি কমিটির দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ও সাতক্ষীরা জেলার সাংগঠনিক দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতা ইসফাক আবির হাওলাদার বলেন, সম্মেলনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং আমরা পর্যবেক্ষণ করেছি উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে। এ পর্যন্ত ১৯টি মনোনয়ন পেয়েছি। কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই চলছে। তবে কে কোন পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন সেটি উল্লেখ করেননি।
সে জন্য গত কয়েকদিন ব্যাপক প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ছাত্রলীগের পদ প্রার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও পোস্টারে মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থী হওয়ায় বিষয়টি নিশ্চিত করছেন। এদিকে প্রার্থীরাও ছুটেছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে, দিয়েছেন নানা প্রতিশ্র“তি। এমনকি সম্মেলনকে ঘিরে ছাত্র নেতাদের মধ্যে যেমন উৎসাহ, তেমনি উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং পদ প্রার্থীদের মধ্যে আশার আলো নতুন করে জেগে উঠেছে। পরবর্তী কমিটিতে যারা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য লবিং-তদবিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন, তাদের নাম নিন্মে দেওয়া হল, সভাপতি পদপ্রার্থীরা হলেন বর্তমান জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শেখ এজাজ উদ্দিন তাপস, সাধারণ সম্পাদক এহসান হাবিব অয়ন, এসএম আশিকুর রহমান (আশিক), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল ইসলাম (রেজা), ছাত্রনেতা সৈয়দ সাদিকুর রহমান (সাদিক)। সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীরা হলেন বর্তমান জেলা ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক তানভীর কবীর রবিন, তথ্য গবেষণা সম্পাদক মো. আশিক শাহবাজ, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান শাওন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইমরান বাহার বুলবুল, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি রমজান আলী রাতুল, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ ইসলাম নয়ন, সাবেক পৌর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহিদুজ্জামান সাগর, ছাত্রনেতা তৌফিক জামান মোহন। এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে কামরুল ইসলাম পদ প্রত্যাশী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এধাধিক নেতা বলেন, বর্তমান জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শেখ এজাজ উদ্দিন তাপসকে ক্লিন ইমেজের কারণে এগিয়ে রাখছেন।
সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আসিফ শাহবাজ খান বলেন, গত ৫ বছর আগে জেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন হলেও কোন বর্ধিত সভা না হওয়ায় কোন নেতাকর্মীকে চেনা সুযোগ দেয়নি বর্তমান কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। ভোট হলে, ভোট চাইবো কার কাছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান কমিটি তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে ভোটার বানিয়েছে। এতে করে ভোট হলে তারা জয়ী হবে এটি স্বাভাবিক।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে মেয়াদোত্তীর্ণ ও বিবাহিতদের দিয়ে চলেছে ঐতিহ্য ও গৌরবের ছাত্র সংগঠন সাতক্ষীরা জেলা ও উপজেলার ছাত্রলীগের কার্যক্রম। সাতক্ষীরায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ কয়েক ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। এতে করে প্রকৃত ত্যাগী নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে ছাত্রলীগ করার পরেও নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অনেক নেতার অভিযোগ।
একাধিক নেতা কর্মীর দাবী সরকারি চাকরীজীবি, ব্যবসায়ী, ঠিকাদার, অছাত্র ও বিবাহিতদের দিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলেছে ছাত্রলীগ। এতে করে ভেঙে পড়ে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম। এমন অভিযোগ উঠে এসেছে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। এনিয়ে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমার্থকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের একাধিক নেতা-কর্মী জানান, বর্তমানে জেলা ছাত্রলীগরে সভাপতির ভোমরা স্থলবন্দরে মেসার্স জেবা এন্টারপ্রাইজ নামের ভোমরা কাস্টমস্ সিএন্ডএফ’র এজেন্ট ব্যবসা রয়েছে। যেটা নিয়ে তিনি সব সময় ব্যস্ত সময় পার করেন। ফলে দলীয় কাজের প্রতি কোন মনোযোগী না থাকায় দিনে দিনে ভেঙে পড়েছে জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম।

সম্মেলনকে ঘিরে চাঁদা বাজির অভিযোগের ও কমতি ছিলনা।বর্তমান কমিটির মেয়াদ প্রায় ৫ বছর চলছে। ইতোমধ্যে অনেকের ছাত্র জীবন শেষ হয়ে গেছ। বর্তমান জেলা কমিটির অধিকাংশ নেতা বিয়ে করে দাম্পত্য জীবন যাপন করছে। এরমধ্যে- সভাপতি তানভীর হুসাইন সুজন, সহ-সভাপতি নাছিম হায়দার রিপন, সাইফুল আযম জিমি, মারুফ হাসান রিঙ্কু, খন্দকার আরঙ্গজেব নয়ন, সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের রাজু, তালা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সরদার মশিয়ারসহ আরো বেশ কয়েকজন নেতা বর্তমানে বিবাহিত জীবন যাপন করছেন। তবে কেন্দ্রীয় ঘোষনার পর অনেকে তাদের বিয়ের বিষয়টি এড়িয়ে চলছেন। এছাড়া জেলার ৭টি উপজেলার মধ্যে ৪ উপজেলার সভাপতিই বিবাহিত। এদের বেশিরভাগ নেতার বয়স ২৯ এর উর্দ্ধে এবং তারা সন্তানের জনক ও ব্যবসায়ী।

জেলা ছাত্রলীগের তানভীর হুসাইন সুজন বলেন, ২০০২ সালে সর্বশেষ জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছর পরে ছাত্রলীগের সম্মেলন হচ্ছে। সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা গেছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর শীতার্ত মানুষের মাঝে বস্ত্র বিতরণ, বৃক্ষরোপন কর্মসূচি, রক্তদান কর্মসূচি, অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানো, দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের এবং বিরল রোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার মেয়ে মুক্তামনিসহ আরো বেশ কয়েকজন অসহায় ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা করেছি। এছাড়া ২০১৩ সালের হরতাল বিরোধী মিছিলসহ অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াই করেছি।

সম্মেলনকে ঘিরে পুলিশ প্রশাসন কঠোর নজর দারিতে রেখেছে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে সম্মেলন স্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে।

Please follow and like us:
Facebook Comments