সাতক্ষীরার কিংবদন্তী-মরহুম কাজী শামসুর রহমান!

সাতক্ষীরার কিংবদন্তী-মরহুম কাজী শামসুর রহমান!
ali ahmad mabrur
সাতক্ষীরার এক ভাইয়ের সাথে সেদিন কথা বলছিলাম। তার কাছে জানতে চাইলাম সাতক্ষীরা ইসলামী আন্দোলন নিয়ে। কিভাবে সেখানে সংগঠন এতটা গ্রহনযোগ্য হয়ে উঠলো ইত্যাদি ইত্যাদি।

তিনি কিছু মানুষের কথা বললেন। তাদের অবদানের কথা স্মরন করলেন। তার মধ্যে একজন হলেন প্রবাদ প্রতীম কিংবদন্তী মানুষ, সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর সাবেক কর্মপরিষদ সদস্য মরহুম কাজী শামসুর রহমান। এই মহান মানুষটি সম্পর্কে তিনি একটি গল্পও বলেছিলেন সেদিন। শুনেই আমার শরীরের লোমগুলো যেন দাড়িয়ে গেল। পরবর্তীতে গল্পটার সত্যতা আমি আরও নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করলাম। দেখলাম সাতক্ষীরার অনেকেই গল্পটা জানেন। তাই সবার সাথে এখানে শেয়ার করার চেষ্টা করছি।

মরহুম কাজী শামসুর রহমান তখন দ্বিতীয় বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার বাড়ী ছিল এমন জায়গায় যেখানে চতুর্পাশে বিরোধী পক্ষের লোকজনের বাসা-অফিস ইত্যাদি। নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় জামায়াত বিরোধী পক্ষের লোকজন সেদিন খুবই উত্তেজিত ও ক্ষীপ্ত অবস্থায় ছিল। এমনিতে তারা কাজী শামসুর রহমান সাহেবকে খুব সম্মান করতো কিন্তু সেদিন তারা এতটাই ক্রুদ্ধ ছিল যে তাদের হিতাহিত জ্ঞানটুকুও কাজ করছিল না।

তারা সিদ্ধান্ত নিলো যে, নির্বাচনে পরাজয়ের প্রতিশোধ হিসেবে তারা ঐ রাতেই কাজী শামসুর রহমানের বাড়ী আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিবে। যেই কথা সেই কাজ। তারা কেরোসিন নিয়ে নবনির্বাচিত এমপি সাহেবের বাড়ীর পাশে পৌছালো। গিয়ে দেখতে পেলো, পুরো বাড়ী অন্ধকার, সবাই ঘুমুচ্ছে। শুধু একটা ঘরে বাতি জ্বলছে। আলো জ্বলছে দেখে তারা আগুন দিতে প্রাথমিকভাবে একটু ইতস্তত বোধ করছিল। তারপর তাদেরই একজন লুকিয়ে লুকিয়ে সেই ঘরের নিকটে গেলো। পরবর্তীতে অন্যরাও সেখানে পৌছালো। গিয়ে দেখে, ভেতর থেকে কে যেন কি পড়ছে। উকি দিয়ে দেখে, নতুন এমপি কাজী শামসুর রহমান সাহেব অত রাতেও না ঘুমিয়ে কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করছেন।

তারা আরো ঘাবড়ে গেল। তারপরও তাদের মাথা যেহেতু ঠিক ছিলনা, দু একজন বোধ হয় নেশাগ্রস্তও ছিল, তাই তারা আগুন দেয়ার চেষ্টা শুরু করলো। দুতিনবার কেরোসিন দিয়ে ঘরের খড়ে আগুন দেয়ার চেষ্টা করলো, কিন্তু আগুনই জ্বললোনা। সিগারেটের লাইটার দিয়েও চেষ্টা করে কাজ হলোনা।

তারপর তারা ফিরে গেল। একটু পর আবার আসলো। সেবারও পারলোনা। তারপর আবার আসলো। সেবারও গিয়ে দেখে এমপি সাহেব কুরআন শরীফ পড়েই যাচ্ছেন। এবারও আগুন লাগানোর চেষ্টা করে তারা ব্যর্থ হলো। এরই মধ্যে তাদের আওয়াজ শুনে এমপি সাহেব উঠে এলেন। তারা তাকে দেখে যেন সম্বিত ফিরে পেলো। তারা এমপি সাহেবকে গোটা ঘটনাটা খূলে বললো, এবং তার কাছে ক্ষমা চাইলো। মরহুম কাজী শামসুর রহমানও তাদেরকে নি:শর্তভাবে ক্ষমা করে দিলেন। এভাবেই সাতক্ষীরায় মরহুম কাজী শামসুর রহমানের জনপ্রিয়তা ও গ্রহনযোগ্যতা সৃষ্টি হয়েছিল। সুবহান আল্লাহ।

আজকের দিনে এসে অল্পবিদ্যা ভয়ংকরীর মত আমরা কত অবলীলায় সংগঠনের ভুল ত্রুটি বের করি, সমালোচনা করি। হঠাৎ করে নিজেরা বিরাট বড় ইসলামের বোদ্ধা সেজে যাই। কিন্তু আমরা ভুলে যাই, এই যে সংগঠন, এটা আসলে মরহুম কাজী শামসুর রহমান এবং নাম না জানা আরো বহু লোকের আন্তরিক কুরবানী আর খুলুসিয়াতের উপর ভর করে এই জায়গায় এসেছে।

আল্লাহ মরহুম কাজী শামসুর রহমানকে জান্নাতের প্রশংসিত স্থান দান করুন। প্রতিটি জেলায় এই ধরনের পরহেজগার এবং সাচ্চা ঈমানদার ব্যক্তিকে নেয়ামত হিসেবে আমরা যেন পেতে পারি। আমিন

Please follow and like us:
Facebook Comments