যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে যশোরে ৭জনের নামে মামলা

০৬ ডিসেম্বর ২০১৭,বুধবার: ক্রাইমবার্তা রিপোর্ট:যশোর : ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধো চলাকালে যশোরের বাঘারপাড়ার হুলিহট্ট, প্রেমচারা, নরসিংহপুর ও উত্তর চাঁদপুর গ্রামে লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগ, হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও গুমের অভিযোগে সাতজনকে আসামি করে আদালতে একটি মামলা হয়েছে।

মঙ্গলবার হুলিহট্ট গ্রামের মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে আবু তাহের বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন।

সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারক মো. শাজাহান আলী অভিযোগটি গ্রহণ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা বরাবর পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী ব্যারিস্টার কাজী রেফাত রেজওয়ান সেতু।

আসামিরা হলেন, হুলিহট্ট গ্রামের মৃত ওলিউল্লাহর ছেলে ফয়েজ আহম্মেদ, মৃত এলাহী বক্সের ছেলে হাফিজুর রহমান, মৃত বরকতউল্লাহর ছেলে আব্দুল কাদের বাবু, নরসিংহপুর গ্রামের মৃত আলীম বিশ্বাসের ছেলে গাজী গহর আলী বিশ্বাস, পদ্মবিলা গ্রামের মৃত মীর মতিয়ার রহমানের ছেলে মীর আবু তাহের মুকুট ও প্রেমচারা গ্রামের মৃত সোবহান মোল্লার দুই ছেলে আমজাদ মোল্লা ও সবুর মোল্লা।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে ইব্রাহিম ডাক্তারের নেতৃত্বে খাজুরা বাজারে ক্যাম্প গঠন করা হয়। প্রেমচারা গ্রামের মোজাম বিশ্বাসের বাড়ির কাচারিঘর ক্যাম্পের দপ্তর হিসেবে ব্যবহার হতো। এ ক্যাম্পের নেতৃত্ব দিতেন আমজাদ মোল্লা ও সবুর মোল্লা। আমজাদ মোল্লা হুলিহট্ট ও নরসিংহপুর গ্রামের কয়েকজনকে নিয়ে শান্তি কমিটি গঠন করেন। এ কমিটির সেক্রেটারি ছিলেন হাজী গহর আলী বিশ্বাস।

স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আমজাদ মোল্লা, ইব্রাহিম ডাক্তার, ফয়েজ আহম্মেদ, মীর আবু তাহের মুকুট, হাফিজুর রহমান, আব্দুল কাদের বাবু ও হাজী গহর আলী বিশ্বাসের নেতৃত্বে হত্যা, গুম, নির্যাতন, লুটতরাজ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

বলা হয়, প্রেমচারা গ্রামের নুর হোসেন দফাদারের ছেলে নওশের মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়ায় তার মা ফুলজান বিবিকে রাজাকার কমান্ডার মজিদ ও ওহাব গুলি করে হত্যা করেন। আসামিরা মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের, নওয়াব আলী মণ্ডল, সুরমান মণ্ডল, ওয়াজেদ আলী মণ্ডল, আছুফ আলী সরদারের বাড়িতে হানা দিয়ে মালামাল লুটপাট, বাড়ির লোকজনদের গুলি করে হত্যাচেষ্টা ও অগ্নিসংযোগ করেছিলেন। ওই সময় বরিশাল থেকে আসা একটি কাফেলা ভারতে যাওয়ার সময় চতুরবাড়ির বাজারে অবস্থান নেয়। এ সংবাদ পেয়ে রাজাকার বাহিনীর সদস্য ওলিউল্লাহ ও তার ছেলে ফয়েজ আহম্মেদসহ অন্যরা কাফেলা থেকে ১২ নারীকে অপহরণ, যাবতীয় মালামাল, টাকা, সোনার গয়না লুট করে নিয়ে যান। অপহৃত এসব নারীকে খাজুরা বাজারের রাজাকার ক্যাম্পের ইনচার্জ ইব্রাহিম ডাক্তারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এর পর থেকে তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

অভিযোগে বলা হয়, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আসামিরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে এলাকায় প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। যে কারণে তাদের ভয়ে কেউ কথা বলার সুযোগ পাননি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় আনায় এদের বিচারের আশায় তিনি এ মামলা করছেন।

ক্রাইমর্বাতাডটকম/প্রতনিধি/আসাবি

Please follow and like us:
Facebook Comments