মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার দুর্নীতিমুক্ত ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার প্রত্যয়

ক্রাইমবার্তা ডেস্করিপোর্ট:    রাজধানীসহ সারাদেশে যথাযথ মর্যাদায় ও ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় মহান বিজয়ের ৪৬তম বার্ষিকী পালিত হয়েছে। ১৯৭১ সালে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী পরাজয় স্বীকার করে জেনারেল এ এ কে নিয়াজি তার সদস্যদের নিয়ে আত্মসমর্পণ করে। গতকাল শনিবার দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করে জাতি। সাভারের স্মৃতিসৌধে একাত্তরের বীর সন্তানদের প্রতি বিন¤্র শ্রদ্ধা নিবেদনে পৌষের সকালে লাখো মানুষের ঢল নামে। রাষ্ট্রপ্রধান-সরকার প্রধান থেকে শুরু করে যোদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরসূরিসহ নতুন প্রজন্মের ¯্রােত মিশে স্মৃতিসৌধে। এদিন যেন লাল-সবুজের মেলা বসেছিল গোটা দেশে। জাতীয় পতাকার রঙে সাজে বাঙালি নারী থেকে শুরু করে ছোট্ট শিশুটিও। কেউ সবুজ শাড়ি, কেউ সবুজ কামিজ কিংবা সবুজ পাঞ্জাবি পরে বেড়িয়ে পড়েন প্রিয়জনদের সঙ্গে। রিকশা, সাইকেল, মোটরসাইকেল, বাস কিংবা ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে সবাই মেতেছেন উৎসবের রঙে। কেউ হাতে পতাকা নিয়ে কেউবা গালে কিংবা কপালে পতাকা আঁকেন। উৎসবের ঢেউ লাগে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে। ‘মহান বিজয় দিবস’ লেখা খচিত টি-শার্ট গায়ে জড়িয়ে, ব্যান্ডেনা মাথায় লাগিয়ে ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক জাতীয় পতাকা হাতে সবাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে দুর্নীতিমুক্ত ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসের সূচনা হয়। পূর্ব আকাশে সূর্য উঁকি দেয়ার পর সকাল সাড়ে ৬টার কিছু পরে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের উদ্দেশে ফুল দিয়ে প্রথমে শ্রদ্ধা জানান প্রেসিডেন্ট মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শ্রদ্ধা জানানোর পর সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে তারা শহীদদের স্মরণ করেন। এ সময় বিউগলে বেজে উঠে করুণ সুর। তিন বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় তিন বাহিনীর প্রধানরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এরপর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে একে একে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশী কূটনীতিক, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে মিত্রবাহিনীর সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণকারী ভারতীয় সেনাবাহিনীর আমন্ত্রিত সদস্যসহ অন্যরা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তারপরই বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের জন্য স্মৃতিসৌধ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাযারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিজয় দিবসে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে জনতার ঢল নামে। সবার চোখে-মুখে ছিল মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম মৌল ভিত্তি গণতন্ত্রের জন্য আকুতি। তারা জেনারেল ইয়াহিয়ার ‘মৌলিক গণতন্ত্র’ চান না, প্রকৃত অর্থেই গণতন্ত্র প্রত্যাশী সকল সচেতন নাগরিক।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাক টিকিট, ১০ টাকা মূল্যমানের উদ্বোধনী খাম ও ৫ টাকার একটি ডাটা কার্ড অবমুক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে গণভবনে এ স্মারক ডাকটিকিট, খাম ও ডাটা কার্ড অবমুক্ত করেন তিনি। এ সময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব সুরাইয়া বেগম, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, ডাক সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার, ডাক বিভাগের মহাপরিচালক সুশান্ত কুমার মন্ডলসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজয় দিবস উপলক্ষে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ফুল ও উপহার হিসেবে মিষ্টি, ফলমূল পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুপুর দেড়টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এসব উপহার শেরেবাংলা নগরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে পাঠানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) সাইফুজ্জামান শিখর, সহকারী প্রেস সচিব এম এম ইমরুল কায়েস যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে প্রধানমন্ত্রী এসব উপহার তুলে দেন।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সকাল সাড়ে দশটার দিকে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ রাজধানীর শেরেবাংলানগরে প্যারেড স্কয়ারে এলে তাকে অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাভার স্মৃতিসৌধ থেকে সকাল দশটা ২৭ মিনিটে প্যারেড স্কয়ারে আসেন প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে পৌঁছে খোলা জিপে প্যারেড পরিদর্শন করেন আবদুল হামিদ। প্যারেড পরিদর্শন শেষে অভিবাদন মঞ্চে দাঁড়িয়ে আকর্ষণীয় কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করছেন প্রেসিডেন্ট। এসময় তিনি আকাশে বিমানবাহিনীর মহড়াসহ সশস্ত্রবাহিনীর বিভিন্ন বিভাগ ও রেজিমেন্টের বিভিন্ন ধরনের রণকৌশল মহড়া উপভোগ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত আছেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, সংসদ সদস্য, কূটনৈতিক, দেশি-বিদেশি আমন্ত্রিত অতিথি, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। কুচকাওয়াজের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন নবম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং মেজর জেনারেল আকবর হোসেন। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া ভারত ও রাশিয়ার সেনা সদস্যবৃন্দও দেশের ৪৭তম বিজয় দিবস উদযাপনে যোগ দিতে সস্ত্রীক ঢাকায় এসে কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করেন। কুচকাওয়াজ শেষে এক দৃষ্টিনন্দন আতশবাজির পর প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী এতে অংশ নেয়া বিভিন্ন ইউনিটের সিনিয়র কর্মকর্তা ও কমান্ডারদের সঙ্গে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এদিন সকাল ১০ টায় বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে পবিত্র কুরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের জন্য আতœদানকারী সকল শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। মুনাজাতে বাংলাদেশ ও মুসলিম বিশ্বের শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নতির জন্য দোয়া করা হয়। পরে সকাল ১১ টায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্মচারী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে ‘মহান বিজয় দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক মু. হারুনুর রশীদ। প্রধান আলোচক হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মুহাম্মদ মহিউদ্দীন মজুমদার বক্তব্য রাখেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক মুহাম্মদ তাহের হোসেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সাধারন সম্পাদক ফরিদ আহমদ, সভাপতি সৈয়দ আনোয়ার হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এদিকে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা ও যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ উপলক্ষে ভোরে বিজিবি সদর দফতরসহ বাহিনীর সব রিজিয়ন, সেক্টর, ব্যাটালিয়ন ও ইউনিটসমূহে নানান কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচি অনুযায়ী বাদ ফজর বিজিবির সব ইউনিট মসজিদে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের মাগফিরাত, বিজিবি’র উত্তরোত্তর অগ্রগতি এবং জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করা হয়। সকাল ৬টা ১০মিনিটে বাহিনীর সদর দফতরসহ সব ইউনিটে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

এছাড়া সকাল সাড়ে ৭টায় পিলখানাস্থ ‘সীমান্ত গৌরব’ স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন। দিবসের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে সারাদেশে বিজিবি’র সব ইউনিটে প্রীতিভোজের আয়োজন, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বিজিবি সদস্য ও তাদের পরিবারের এবং ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী এবং বাহিনীর সদর দফতর ভবন ও গেইটে আলোকসজ্জা করা হয়।

বিজয়ের ৪৭তম দিন সকালে রাজারবাগ স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর পুলিশ সদস্যদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। এ সময় শহীদদের স্মৃতি পুস্পস্তবক অর্পণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ্জ্জুামান খান, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আছাদুজ্জামান। শ্রদ্ধা নিবেদনকালে বিউগলে বাজানো হয় জাতীয় সংগীত। এসময় ডিএমপি’র একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে বীর শহীদদের সম্মান জানায়। এ সময় আরো শ্রদ্ধা জানান র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ ও ‘বাংলাদেশ পুলিশ ইউমেন্স নেটওয়ার্ক’র সভাপতি ডিআইজি মিলি বিশ্বাসসহ অন্যান্য পুলিশের ইউনিট। এ সময় পুলিশের সকল ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিজয় দিবসে আনন্দের পাশাপাশি বিজয়ের ইতিহাস জানতে গতকাল মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ভিড় জমে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের। পরিবারের সবথেকে ছোট্ট সদস্যটিকেও এদিন ইতিহাসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এখানে নিয়ে আসেন কেউ কেউ। নিয়মিত প্রদর্শনীর পাশাপাশি বিজয় দিবস উদযাপনে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর বরাবরের মতোই এবারো আয়োজন করে বিভিন্ন আয়োজনের। দিবস উপলক্ষে সকালে জাতীয় সঙ্গীত ও পতাকা উত্তোলনসহ শিশু-কিশোরদের আনন্দ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ। এছাড়া নৃত্য, সঙ্গীত, পথনাটক, কবিগানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন ছিল দিনব্যাপী।

এদিকে বিজয় দিবসের ছুটির দিনটিকে বিভিন্নভাবে উদযাপন করেন রাজধানীবাসী। লাল-সবুজ শাড়ি ও পাঞ্জাবি পরে সব বয়সের মানুষ আজকের দিনটিকে উদযাপন করার জন্য ভিড় জমান রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে। এদিন নগরীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সব থেকে বেশি ভিড় দেখা যায় হাতিরঝিল এলাকায়। বিজয় দিবস উদযাপন সব ধরনের ব্যবস্থাও দেখা যায় হাতিরঝিল এলাকায়। জাতীয় চিড়িয়াখানায়ও বিনোদনপ্রেমীদের ঢল নামে।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বারাকাহ ফাউন্ডেশনের আওতাধীন তিনটি হাসপাতালে এক সাথে সকাল ৯টা হতে বিকাল ০৪টা পর্যন্ত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে প্রায় ৭শ’ জনকে চিকিৎসা পরামর্শ দেয়া হয়। ইনসাফ বারাকাহ হাসপাতাল মগবাজারে ২৫০জন, বারাকাহ জেনারেল হাসপাতাল রাজারবাগে ১০০জন, বারাকাহ হাসপাতাল মদনপুরে ৩৫০জন রোগী চিকিৎসা পত্র গ্রহন করেন। এ উপলক্ষে আগ্রহীদের ডায়াবেটিক পরীক্ষা বিনামূল্যে করা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ৫০% ছাড় দেয়া হয়। সকাল ৯টায় মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধন করেন ফাউন্ডেশনের চীফ এক্সজিকিউটিভ প্রফেসর ডা. এম ফখরুল ইসলাম। ক্যাম্পে আগত রোগীদের চিকিৎসা পরামর্শ দেন প্রফেসর ডা: এম ফখরুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল মান্নান খান, অধ্যাপক ডাঃ মাজহারুল হক খান, অধ্যাপক ডা: এহতেশামুল হক, অধ্যাপক ডা. সোলেমান ছিদ্দিক ভূইয়া, অধ্যাপক ডাঃ আবদুল লতিফ মোল্লাসহ ১৫জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

ফাউন্ডেশনের চীফ এজিকিউটিভ প্রফেসর ডা: এম ফখরুল ইসলাম জানান মানুষকে সচেতন করতে পারলে ও যথাযথ রেফারেল সিস্টেম চালু হলে স্বাস্থ ঝুঁকি থেকে অনেক খানি মুক্ত থাকা যাবে। আর এজন্য প্রয়োজন জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। তাই বারাকাহ ফাউন্ডেশন জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে মহান বিজয় দিবসে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করে। ক্যাম্প উপলক্ষে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শন করা হয়।

১৭ডিসেম্বর,২০১৭,রবিবারক্রাইমর্বাতাডটকম/প্রতিনিধি/আসাবি

Please follow and like us:
Facebook Comments