লিবিয়ায় অপহৃত বাংলাদেশীকে অমানুষিক নির্যাতন : ভিডিও দেখিয়ে ৮ লাখ আদায়

মোস্তফা কামাল,শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা; সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ি গ্রামের মোমিনুল ইসলাম। ভাগ্য বদলের জন্য ২০১২ সালে বৈধভাবে লিবিয়াতে পাড়ি জমান। ২০১৭ সালের ৪ আগষ্ট লিবিয়া থেকে অপহরণ হন। দীর্ঘ ৬ মাস আটক রেখে তার উপর চালানো হয় অমানুসিক নির্যাতন। নির্যাতনের সেই ভিডিও ফুটেজ ইন্টারনেটে স্বজনদের কাছে পাঠিয়ে তাদের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে আদায় করা হয় আট লাখ টাকা। তবে টাকা দিলেও মোমেনুলকে তার স্বজনরা সুস্থ্য পাননি। লিবিয়ার সেনাবাহিনী মোমিনুলকে উদ্ধার করে দেশে পাঠালেও তিনি এখন পঙ্গু। স্বাভাবিক চলচলের শক্তি নেই তার। চোঁখে মুখে ভয়ের ছাপ আর নির্যাতনের চিহ্ন তার সমস্ত শরীরে।
মোমিনুল ইসলাম জানান, তাকে লিবিয়া থেকে অপহরণ করেছিল বাঙ্গালী চারজন, লিবিয়ার দুইজন। মোট ৬ জন। লিবিয়ার ত্রিপলি থেকে ধরে ছাপারতা আরেকটা প্রদেশ নিয়ে যায়। সেখানে খুব নির্যাতন করতো। আগুন দিয়ে পোড়াতো, প্লাস্টিক গলিয়ে শরীরে ফেলতো, হাতে পায়ে পেটাতো। এসব ভিডিও ধারণ করে বাড়িতে পাঠিয়ে দিতো ইন্টারনেটের মাধ্যমে। এরপর চাঁদা দাবি করে দশ লাখ। বাড়ির সর্বস্ব বিক্রি করে ৮ লাখ টাকা দেয় আমার পরিবার। পরবর্তীতে আরো ৫০ লাখ টাকা দাবি করে।
মোমিনুল ইসলাম আরো বলেন, “অপহরণের সাথে জড়িত টাঙ্গাইল জেলার সরোয়ার ডুবাইল গ্রামের সরোয়ার, বাগবাড়ী গ্রামের আমজাদ আলী, সিলেট জেলার ফজলুল করিম সেই সাথে লিবিয়ার তিনজন।
তার ভাষায়, নির্যাতনের কথা কি বলবো, দিনে তিনবার পেটাতো আর একবার অল্প খেতে দিতো আর শুধু টাকা চাইতো। নির্যাতনের চিহ্ন আমার শরীরে দেখুন।”
মোমিনুলের বাবা আব্দুল আজিজ সরদার বলেন, এ ঘটনায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি ও একটি মানি লন্ডারিং মামলা করা হয়েছে। পরবর্তীতে মামলাটি সিআইডি হেড কোয়ার্টার তদন্ত করে। পরবর্তীতে লিবিয়ার সেনাবাহিনী মুক্তিপণের টাকাসহ দুই লিবিয় ও এক বাংলাদেশীকে আটক করে মোমিনুল ইসলামকে উদ্ধার করে বাংলাদেশে পাঠায়।
১৩ ডিসেম্বর বুধবার মোমিনুল বাড়িতে ফিরলেও হারিয়েছে চলাফেরা করার শক্তি, উঠে দাঁড়াতে পারে না এখন। লিবিয়ায় আটক দুই লিবিয়ার অপহরণকারীকে ২০ বছর করে কারাদন্ড ও সিলেটের ফজলুল করিমকে ১৫ বছর কারাদন্ড প্রদান করেছে সে দেশের সেনাবাহিনী। আর সরোয়ার লিবিয়ায় পলাতক রয়েছে।
ছেলের এমন ঘটনার বিচার দাবি করে মোমিনুলের বাবা আজিজুল ইসলাম আরো বলেন, “আমি সরকারের কাছে বিচার চাই। আমার ছেলেকে পঙ্গু করে দিয়েছে আমি এর বিচার চাই।”স্থানীয় কাশিমাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস.এম আব্দুর রউফ বলেন, “বৈধ পথে বিদেশ গিয়ে অপহরণের শিকার হয় মোমিনুল। এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার ভারপপ্রাপ্ত কর্র্মকর্তা সৈয়দ আব্দুল মান্নান বলেন, “লিবিয়ায় মোমিনুল অপহরণ হওয়ার পর তার বাবা আমার কাছে এসেছিলেন আইনি সহায়তা পাওয়ার জন্য। আমি পরামশ প্রদান করি। তিনি একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। তাছাড়া টাঙ্গাইলের এক মহিলাকে ৮ লাখ টাকাও দেয়। সে মহিলাও আটক হয়েছে। এরপর মানি লন্ডারিং একটা মামলা হয়। মামলাটি সিআইডি তদন্ত করছেন। ইতোমধ্যে মোমিনুল লিবিয়া থেকে উদ্ধার হয়েছে। তিনি বর্তমানে শ্যামনগরের কাশিমাড়ী গ্রামের বাড়িতে অতিকষ্টে জীবন যাপন করছেন।–আবু সাইদ বিশ্বাসঃসাতক্ষীরা ২২/১২/১৭

Please follow and like us:
Facebook Comments