অভয়নগরে গত ১০মাসে ৩’শ ৮৬ জন শিক্ষার্থীর বাল্য বিয়ে : সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি সচেতন মহলের

অভয়নগর প্রতিনিধি
অভয়নগর উপজেলায় চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বিগত ১০ মাসে ৩’শ ৮৬ জন শিক্ষার্থীর বাল্য বিয়ে সংঘটিত হয়েছে। বাল্য বিয়ে রোধকল্পে উপজেলা শিক্ষা অফিস এক জরিপ চালিয়ে এ তথ্য সংগ্রহ করেছে। জরিপ তথ্য সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার ৫৮টি মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল থেকে ২শ’ ৮৩জন এবং মাদ্রসা থেকে ১শ’ ৩জন শিক্ষার্থীর বাল্য বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। গত এই ১০ মাসে ৫৮টি স্কুল থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ২২জন, ৭ম শ্রেণির ৪৩জন, ৮ম শ্রেণির ৫৪জন, ৯ম শ্রেণির ৭৫জন এবং ১০ম শ্রেণির ৮৯জন শিক্ষার্থীর বাল্য বিয়ে সংঘটিত হয়েছে। অপর দিকে ২০টি মাদ্রাসা থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ১০জন, ৭ম শ্রেণির ৮জন, ৮ম শ্রেণির ২৮জন, ৯ম শ্রেণির ৩২জন এবং ১০ম শ্রেণির ২৫ জন শিক্ষার্থীর বাল্য বিয়ে সংঘটিত হয়েছে। সব মিলিয়ে ৩শ’৮৬জন শিক্ষার্থীর বাল্য বিয়ে এই ১০মাসে সংঘটিত হয়। স্কুল ও মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাল্য বিয়ের ছাত্রীর সংখ্যা ৩শ’৮৪জন এবং ছাত্র সংখ্যা ২জন। শহর ও গ্রামভিত্তিক হিসাবে নওয়াপাড়া পৌরসভায় ১০৭জন, প্রেমবাগ ইউনিয়নে ২৫জন, সুন্দলী ইউনিয়নে ১২জন, চলিশিয়া ইউনিয়নে ১৪জন, পায়রাহাট ইউনিয়নে ৩০জন, শ্রীধরপুর ইউনিয়নে ৭৪জন, বাঘুটিয়া ইউনিয়নে ২৬জন, শুভরাড়া ইউনিয়নে ৫১জন এবং সিদ্দিপাশা ইউনিয়নে ৪৭জন শিক্ষার্থীর বাল্য বিয়ে সংঘটিত হয়। উলেখ্য, উপজেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে বাল্য বিবাহ রোধে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও থেমে নেই বাল্য বিবাহের হিড়িক। মুচলেকা দেওয়ার পরও ওই সকল পরিবারের অভিভাবকদের যোগসাযোগে ছেলে-মেয়ের উভয় একত্রে বসবাস করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জানাগেছে, উপজেলার নাউলী গ্রামে ইউসুফ শেখের স্কুল পড়–য়া মেয়ে রেনু খাতুন (১৩) বিয়ে হয়। বিষয়টি ইউএনওকে অবগত করা হলে উভয় পরিবারের অভিভাবকদের মুচলেকা নিয়ে ছেলে ও মেয়েকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। জানা যায়, একদিন পর ছেলে ও মেয়েকে পরিবারের সদস্যরা পার্শ্ববর্তী উপজেলায় পাঠিয়ে একত্রে বসাবাস করাতে থাকে। সুন্দলী ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের বিলাশ রায়ের মেয়ে আড়পাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী পিয়া রায় (১৫) বিয়ে দেয়া হয়। একই ইউনিয়নের সুন্দলী গ্রামের বৈকন্ঠ সরকারের ছেলে ১০ম শ্রেণির ছাত্র সোহাগ সরকার (১৬) কে লোহাগড়ার এড়েন্দা গ্রামের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী রেখা রাণীর সাথে বিয়ে হয়। সুন্দলী রামসরা গ্রামের সন্দীপ মন্ডলের মেয়ে ৯ম শ্রেণির ছাত্রী সুষ্মিতার বিয়ে দেওয়া হয় পার্শ্ববর্তী গ্রামে। সুন্দলী আড়পাড়া গ্রামের গোবিন্দ ধরের ছেলে আড়পাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ইমনের সাথে একই স্কুলের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী বিয়ে হয়। নওয়াপাড়া পৌরসভার রাজঘাট জাফরপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম গাজীর মেয়ে রাজঘাট জাফরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া খাতুনের বিয়ে হয়। একই বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী সাগরীকা খাতুন (১৫) কে পরিবারের পক্ষ থেকে জোর পূর্বক বিয়ে দেওয়া হয়। অথচ মেধাবী এ শিক্ষার্থী তার বাল্য বিবাহের প্রতিবাদ আজও করে চলেছে। বাঘুটিয়া ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামের শহিদ মোল্যার মেয়ে তানজিলা খাতুন (১৪) এর বিয়ে দেয় পরিবার। শ্রীধরপুর ইউনিয়নের কোদলা গ্রামের সরু বিশ্বাসের মেয়ে টুকু বিশ্বাস (১৫) এর সাথে সুন্দলী গ্রামের এক সরকারী কর্মকর্তা দেবব্রত কবীরাজের ছেলে এন্টন কবীরাজের (২৩) বিয়ে হয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সেখ ফিরোজ আহমেদ জানান-সাধারণত মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ারত শিক্ষার্থীদের বাল্য বিয়ে শুরু হয়, তাই বাল্য বিয়ে রোধকল্পে উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জরিপ চালিয়ে এ তথ্য পেয়েছি। আগামীতে যাতে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়–য়া শিক্ষার্থীদের বাল্য বিয়ে না হয় সে ব্যাপারে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশনা দেয়া হবে। জরিপ কার্য সম্পন্ন সম্পর্কে তিনি আরও জানান-এই জরিপ তথ্য সবাইকে জানাতে পারলে আগামী বাল্য বিয়ে অনেকাংশ কমে যাবে।

নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সভা ও নতুন কমিটি ঘোষণা
বি.এইচ.মাহিনী
নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সভা ও নবনির্বাচিত কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে নওয়াপাড়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে প্রথম অধিবেশনে পূর্ববর্তী সাধারণ সভার রেজুলেশন অনুমোদন এবং আয়-ব্যয় হিসাব তুলে ধরা হয়। নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আসলাম হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম মল্লিকের সঞ্চালনায় আয়-ব্যয় হিসাব তুলে ধরেণ কোষাধ্যক্ষ মফিজুর রহমান দপ্তরী। এ সময় বক্তব্য রাখেন সদস্য হারুন অর রশিদ, এম এম আলাউদ্দিন, এস জেড মাসুদ তাজ, আসাদুল্লাহ আসাদ ও মুজিবর রহমান। দ্বিতীয় অধিবেসনে নবনির্বাচিত কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়। যার সভাপতি হিসেবে আসলাম হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা ফারুক আহম্মেদ, সহ-সভাপতি এস এম মুজিবর রহমান, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম মল্লিক, যুগ্ম সম্পাদক মোজাফ্ফর আহমেদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান, কোষাধ্যক্ষ মফিজুর রহমান দপ্তরী, দপ্তর সম্পাদক শাহিন আহমেদ, ক্রীড়া সম্পাদক এম এম আলাউদ্দিন, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক এস জেড মাসুদ তাজ, তথ্য-প্রযুক্তি ও আইন বিষয়ক সম্পাদক সোহাগ খান, নির্বাহী সদস্য এস এম রফিকুল আলম ও সেলিম হোসেন। বিকালে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে মতবিনিময় সভা প্রেসক্লাবের সভাপতি আসলাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন যশোর-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য রণজিত কুমার রায়। বিশেষ অতিথি ছিলেন, আকিজ গ্রুপের চেয়ারম্যান সেখ নাসির উদ্দিন (সিআইপি), যশোর জেলা পরিষদের সদস্য শাহ্ মুরাদ আহমেদ, পৌর প্যানেল মেয়র ও বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা রবিন অধিকারী ব্যাচা প্রমুখ। এ সময় প্রেসক্লাবের সদস্য, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিক ও সূধীজনরা উপস্থিত ছিলেন।

মাহিনী
২৯-১২-২০১৭

Please follow and like us:
Facebook Comments