কুমারখালী হাসপাতালে ডাক্তার সংকট অপারেশন থিয়েটার বন্ধ

মাহমুদ শরীফ, কুমারখালী (কুষ্টিয়া) : খুলনা বিভাগের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলা পর্যায়ের সেরা হাসপাতাল হলেও কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন যাবৎ ডাক্তার সংকট থাকায় প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্য-সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলাবাসী। অজ্ঞানের ডাক্তার থাকলেও সার্জারি ডাক্তার না থাকায় বন্ধ রয়েছে অপারেশন থিয়েটার। ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী অধিকাংশ জনবল নেই অত্র হাসপাতালে। ৩১ শয্যা লোকবল দিয়েই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে অত্র হাসপাতালের কার্যক্রম।
জানা যায়, ২০১৩ সালে ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মিত বর্ধিত অবকাঠামো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্স- এর মাধ্যমে উদ্ধোধন করেন। উদ্বোধন হলেও ৫০ শয্যাকার্যক্রম অদ্যবদি চালু হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে পর্যপ্ত ডাক্তারের অভাব রয়েছে।
হাসপাতালের ডাক্তারের প্রয়োজন ২১ জন, বর্তমানে কর্মরত ডাক্তার আছেন ২ জন, এর মধ্যে একজন হোমিওপ্যাথিক, সহকারী ডেল্টাল সার্জন এবং ৫০ শয্যা হাসপাতালের নবসৃষ্ট কনসাল্ট্যাষ্ট শিশু ডা. মাহবুবা তাজমিলা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।  এদিকে গত ৩১ মে ২০০৭ তারিখে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য-দপ্তর থেকে পরিচালক স্বাক্ষরিত প্রেরিত একটি পত্রে ঐবধষঃয ঝুংঃবস ঝঃৎধরমযঃবহরহম (ঐ.ঝ.ঝ) স্কোর অনুযায়ী খুলনা বিভাগের মধ্যে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্স স্কোর-৮২.৩৫ অধিকারি হয়ে উপজেলা পর্যায়ে প্রথম স্থানে অবস্থান করলেও এখানে সমস্যার শেষ নেই। সার্জিক্যাল ডাক্তার না থাকার কারণে একেবারে বন্ধ রয়েছে অপারেশন থিয়েটার। ফলে দীর্ঘদিন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা। কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে ২১ জন চিকিৎসকের পদায়ন থাকলেও এখানে দ্বায়িত্বরত আছেন মাত্র ২জন ডাক্তার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন সময়ের আদেশে বাঁকিরা কর্মরত রয়েছেন কুষ্টিয়া- ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে। এক্সরে মেশিন একটি থাকলেও সেটি পুরানো আমলের ১০০ এম.এ মেশিন। ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন এখন সময়ের দাবী।
কুমারখালী উপজেলায় ১১ ইউনিয়নসহ পৌর এলাকায় প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষের বসবাস। এই উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সের বহিঃবিভাগে প্রতিদিন রোগি আসে অন্তত আড়াইশো। এর মধ্যে প্রতিদিন অন্ততঃ ৫০জন রোগি ভর্তি হয় এখানে। গড়ে প্রতিদিন রোগী ভর্তি থাকে শতাধিক। কিন্ত আশানুরুপ সেবা না পেয়ে ২/১ পরেই রোগীরা হাসপাতাল ত্যাগ করে। কারণ সমস্যার শেষ নেই অত্র হাসপাতালে। সেবা না পেয়েই তারা হাসপাতাল ছাড়তে বাধ্য হয়। এব্যাপারে কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন এই প্রতিবেদককে বলেন, সার্জিক্যাল কনসালটেন্ট না থাকা একটি বড় ধরণের সমস্যা। এখানে সার্জারিসহ প্রয়োজনীয় ডাক্তার-নার্স ও তৃতীয়-চতূর্থ শ্রেণীর স্টাফ সংকট রয়েছে। এ ব্যাপারে স্টাফ রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে অধিদপ্তরে। নিয়োগ দেয়ার ব্যবস্থা হলে এই পরিস্থিতির সমাধান হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মর্কতা ডাঃ মোঃ আকুল উদ্দিন জানান, স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের ডাক্তার ও কর্মকর্তার অভাব রয়েছে। চিকিৎসক ও ২য় শ্রেনী ২ জন, ৩য় শ্রেনী ১৭ জন, ৪র্থ শ্রেনী ৩২ জন কর্মচারী শূন্য পদের বিষয়ে প্রতিমাসেই সংশ্লিষ্ট দফতরে রিপোর্ট পাঠানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, যদুবয়রা নেদারল্যান্ড প্রজেক্ট -এ স্থাপনা আছে কিন্তু কোন মেডিকেল অফিসার নাই। এরপরও এখানে কোন ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না তবুও রোগী চিকিৎসা  চলছে। যদুবয়রা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের আয়া, পিওন কাম গার্ড ও ঝাড়ুদার পদের কর্মচারীদের রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করা হয়েছে। কিন্তু উক্ত ইউনিয়নের অবকাঠামো থাকলেও মেডিকেল অফিসার, ফার্মাসিস্ট ও চিকিৎসা সহকারীর কোন পদ না থাকায় রোগীদের চিকিৎসা সেবা ব্যহত হচ্ছে ।
কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আকুল উদ্দিন আরো বলেন, সার্জারীসহ ডাক্তার, নার্স ও জনবল সংকট রয়েছে এখানে দীর্ঘদিন।
এ ব্যাপারে মাসিক মিটিং এর রিপোর্ট কয়েকবার পাঠানো  হয়েছে অধিদপ্তরে। এ ছাড়াও দুইমাস আগে লিখিত ভাবেও জানানো হয়েছে সেখানে। হাসপাতালে পদায়ন হওয়া ডাক্তারকে ফিরিয়ে এনে এই পরিস্থিতি সমাধানে জরুরীভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন কুমারখালীবাসী।

Please follow and like us:
Facebook Comments