সাতক্ষীরার রসুলপুরে জমি দখল করে যুবলীগ সভাপতির সাইনবোর্ড

সুভাষ চৌধুরী :সাতক্ষীরা প্রতিনিধি। আইনগত কোনো স্বত্ত্ব না থাকা সত্ত্বেও জেলা যুবলীগের সভাপতি আবদুল মান্নান সাতক্ষীরার রসুলপুরে ৩০ শতক জমি নিজের দাবি করে সাইনবোর্ড তুলে দিয়েছেন। তার পাশের ৭৬ শতক জমির অপর একটি প্লটেও সাইনবোর্ড তুলেছেন তার সহযোগী সাগর হোসেন। জমির মালিকরা এর প্রতিবাদ করায় তারা মারমুখী হয়ে পড়ছেন। আতংকিত হওয়ায় জমির মালিকরা কোনো কুল কিনারা না পেয়ে সাংবাদিকদের শরণাপন্ন হয়েছেন।
রসুলপুর গ্রামের মৃত আনসার আলির স্ত্রী আফরোজা বেগম জানান তার স্বামী ও স্বামীর ভাই আকবর আলি পৈতৃক সুত্রে ৭৬ শতক ও ৩০ শতক জমির মালিক। সেই সূত্র ধরে তাদের ওয়ারেশগন দীর্ঘদিন ওই জমি দখলে রয়েছেন । ওই জমির বিপরীতে মাঠ পরচা, এসএ রেকর্ড ও মিউটেশনও তাদের নামে রয়েছে। এমনকি ২০১৭ সাল পর্যন্ত খাজনার টাকাও পরিশোধ করেছেন তারা। তিনি জানান ২০১৩ সালে জনৈক রহিম বক্স সরদার সদর সহকারি জজ আদালতে একটি মামলা করে ওই জমিতে তাদের অংশ আছে বলে দাবি করেন। সেই মামলা এখনও চলমান রয়েছে। এ নিয়ে সাতক্ষীরা থানায় দ্ইু পক্ষ পুলিশের কথা মতো বসেন। সেখানে প্রতিপক্ষ রহিম বক্স তাদের স্বত্ত্ব দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন । এর পর থেকে জমিতে স্থিতাবস্থা বিরাজ করছিল।
আফরোজা বেগম আরও জানান দুই মাস আগে জেলা যুবলীগের সভাপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য তাদের ডাকেন। কিন্তু তারা যেতে সম্মত হননি। এর কয়েকদিন পর আবদুল মান্নান ও সাগর হোসেন ওই জমিতে দুটি সাইন বোর্ড তুলে দেন। এতে তারা লেখেন ক্রয় সূত্রে এ জমির মালিক তারাই। তিনি জানান এর পর থেকে ওই জমিতে যেতে পারছেন না আফরোজা বেগম ও আকবর আলির লোকজন। আবদুল মান্নান ও সাগর হোসেনের লোকজন ওই জমিতে থাকা গাছ কেটে ফেলার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন। এর আগে ২০১৩ সালে সাগর হোসেন ওই জমিতে জোর করে ঘর তোলেন। এ বিষয়ে পুলিশকে জানালে তারা নিজেরাই একদিন পর ঘর ভেঙ্গে নিয়ে যায়। এবার সাগর ও আবদুল মান্নান পরিকল্পিতভাবে ওই জমিতে সাইনবোর্ড উঠিয়ে জমি দাবি করছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা যুবলীগ সভাপতি আবদুল মান্নান পরে কথা বলবেন বলে জানান। তবে সাগর হোসেন বলেন ‘ আমরা করিম বক্সের বংশধর। সেই হিসাবে সেখানে সাইনবোর্ড দিয়েছি’। তবে ক্রয় সূত্রে লেখা রয়েছে কেনো এই প্রশ্নের জবাব দিতে পারেন নি তিনি । তিনি বলেন ‘সাইন বোর্ড দিয়েছি যাতে দুই পক্ষ বসে কাগজপত্র দেখাদেখি করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে নেন। কিন্তু তারা বসতে চান না’।
আফরোজা বেগম বলেন বিষয়টি নিয়ে মামলা চলছে করিম বক্সের সাথে । সাগর কিংবা মান্নান কেউই এ জমির বংশগত স্বত্ত্ববান নন। তারা জমির ক্রেতাও নন। রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তারা অন্যায়ভাবে সাইনবোর্ড দিয়েছেন। আমরা এর প্রতিকার ও চাই বিচার চাই বলে জানালেন তিনি।

Please follow and like us:
Facebook Comments