শিক্ষক মৃত্যুর পর মাদ্রাসা জাতীয়করণের আশ্বাসে অনশন প্রত্যাহার

ক্রাইমবার্তা রিপোর্ট::ঢাকা: ঢাকার প্রেসক্লাবের সামনে নন-এমপিওভুক্ত ইবতেদায়ি শিক্ষকদের আমরণ অনশনে কুষ্টিয়ার এক শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তার নাম আব্দুল মান্নান। তিনি নন-এমপিওভুক্ত কুষ্টিয়ার মিরপুর চিথলিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন, কুষ্টিয়া কামিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা তারিকুর রহমান।

তিনি আরো জানান, নন-এমপিওভুক্ত ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকদের অনশনরত অবস্থায় তিনি খুব বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কুষ্টিয়ায় নিয়ে আসা হয়। তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে মিরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর তার স্বাস্থ্যের আরো অবনতি হলে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তিনি সেখানে স্ট্রোক করে গত রবিবারে তিনি মারা যান।

এদিকে শিক্ষক আব্দুল মান্নান মৃত্যুর পর ‘মাদ্রাসা জাতীয়করণের চেষ্টা করা হবে’ কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড সচিবের এমন আশ্বাসে অনশন ভাঙলেন ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকরা।

মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনশনরত ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকরা এই ঘোষণা দেন।

এর আগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মাদ্রাসা জাতীয়করণে দাবিতে আমরণ অনশনে টানা ৭ম দিনে ১৭৮ জন ইবতেদায়ি শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থ কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের অনশন কর্মসূচিস্থলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তীব্র শীতে ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষক নেতারা এ তথ্য জানান। বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির ব্যানারে গত ১৫ দিন ধরে অবস্থান ও সাতদিন ধরে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষকরা।

কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী এবং শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে আন্দোলনরত মাদ্রাসা শিক্ষক নেতাদের বৈঠক সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়। রোববার সচিবালয়ে কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের শিক্ষামন্ত্রীর কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে জাতীয়করণের দাবিতে আমরণ অনশনরত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আমি চেষ্টা করছি, বিষয়টি নিয়ে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছেও যাব। তাই শিক্ষকদের অনশন ভেঙে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেছি। কিন্তু এ বিষয়ে তারা কোনো সিদ্ধান্ত দেননি।

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির মহাসচিব কাজী মোখলেসুর রহমান বলেন, আলোচনায় কোনো আশ্বাস পাইনি আমরা— তাই অনশন চালিয়ে যাব। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি পূরণের বিষয়ে অনশনরত শিক্ষকদের সামনে গিয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।

নিবন্ধিত সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়িী মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবিতে ১ জানুয়ারি থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন মাদ্রাসার শিক্ষকরা। কিন্তু দাবি পূরণ না হওয়ায় ৯ জানুয়ারি থেকে আমরণ অনশন শুরু করেন তারা।

সবশেষ ২০১০ সালে এক হাজার ৬২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করে সরকার। এরপর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি বন্ধ ছিল।

প্রসঙ্গত, দেশে নিবন্ধিত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা রয়েছে ১৮ হাজার ১৯৪টি—তবে চালু আছে ১০ হাজারের মতো, এসব মাদ্রাসায় শিক্ষক আছেন প্রায় ৫০ হাজার। তবে এর মধ্যে ১ হাজার ৫১৯টি মাদ্রাসার ৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষক সরকার থেকে ভাতা পান—এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকরা পান মাসে আড়াই হাজার টাকা ও সহকারী শিক্ষকরা ২ হাজার ৩০০ টাকা।

১৬জানুয়ারী,২০১৮মঙ্গলবার::ক্রাইমর্বাতা.কম/প্রতিনিধি/আসাবি

Please follow and like us:
Facebook Comments