জেলায় একমাসে ১৮টি অস্বাভাবিক মৃত্যু: অস্ত্র ও বোমা উদ্ধার, অভিযান চলছে

এসএম শহীদুল ইসলাম: জেলায় গত একমাসে ১৮টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে আত্মহত্যা ৬, সড়ক দুর্ঘটনায় ৩, অগ্নিদগ্ধে এক, শৈত্য প্রবাহে ৪, গুলিবিদ্ধ একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া সীমান্ত থেকে দুটি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। একটি লাশ সীমান্ত নদীতে ভাসতে দেখা গেলেও তা ¯্রােতের টানে ভারতীয় অংশে চলে যাওয়ায় উদ্ধার করা যায়নি।
গত একমাসে আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক থাকলেও বেশ কয়েকটি অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা জেলায় চাঞ্চল্যসৃষ্টি করে। প্রত্যাশার আলো ছড়িয়ে নতুন বছর শুরু হলেও ২জানুয়ারি রাতে জেলার দেবহাটা উপজেলার সখিপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক হোসেন রতন (৪২) কে গুলি করে হত্যার চেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা।
৪ জানুয়ারি ট্রলির নিচে চাপা পড়ে মারা যায় তালা উপজেলার খলিলনগর গ্রামের মকবুল মোড়লের ছেলে ট্রলি চালক ইমরান হোসেন (২২)। ১৪ জানুয়ারি দেবহাটায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় অজ্ঞাত ব্যক্তি। ৩১ জানুয়ারি পাটকেলঘাটায় সালেহা বেগম (৫৫) নামে এক নারী সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া গত একমাসে সড়ক দুর্ঘটনায় জেলায় অর্ধ শতাধিক কম বেশি আহত হয়েছেন বলে জানায় সূত্র।
তথ্যানুসন্ধানে আরো জানা গেছে, গত জানুয়ারি মাসের ৩১ তারিখ পর্যন্ত জেলার সীমান্ত এলাকায় তিনটি লাশ পাওয়া যায়। সূত্রমতে, ২২ জানুয়ারি দেবহাটার সীমান্ত নদী ইছামতি থেকে পুলিশ আসমান আলী শেখ (৫০) নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে। ২৭ জানুয়ারি সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ ভোমরা জিরো পয়েন্টের একটি খাল থেকে শহরের মুনজিদপুরের বাসিন্দা কালামউল্যাহ বাবলুর লাশ উদ্ধা করে। ২৯ জানুয়ারি কলারোয়ার চান্দুড়িয়া সীমান্তের সোনাই নদী লাশ ভাসতে দেখা গেলেও ¯্রােতের টানে ভারতীয় অংশে থাকায় তা উদ্ধার করা যায়নি।
এদিকে গত একমাসে জেলায় আত্মহত্যা করেছে ৬জন। ১৫ জানুয়ারি জেলার শ্যামনগরে সুজাতা মন্ডল নামে এক কলেজ ছাত্রী এবং কালিগঞ্জে অহিদুল ইসলাম নামে এক কিশোর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। ২১ জানুয়ারি সাংসদ পুত্র অনীক আজিজ স্বাক্ষর ঢাকায় আত্মহত্যা করে। ২৫জানুয়ারি কালিগঞ্জে শাহারিয়া খাতুন নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। ২৬ জানুয়ারি কলারোয়ায় সেলিনা খাতুন (২১) নামে এক গৃহবধূ বিষপানে আত্মহত্যা করে। ৩১ জানুয়ারি পাটকেলঘাটায় রাবেয়া বেগম (৪৫) নামে এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।
অপরদিকে জানুয়ারি মাসে শৈত্য। প্রবাহে তিনজন বয়স্কসহ এক শিশু মারা গেছে বলে জানা গেছে। ৬ জানুয়ারি মারা যায় ২৯ডিসেম্বর অগ্নিদগ্ধ তালার নগরঘাটার গৃহবধূ ময়না বেগম। ২১জানুয়ারি কলারোয়ার চারাবটতলা ইটেরভাটা সংলগ্ন এলাকা থেকে পুলিশ অজ্ঞাত যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে।
গত একমাসে পুলিশী অভিযান অব্যাহত থাকায় জেলার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিলো। পুলিশ এসময় অভিযান পরিচালনা কয়েকজন দাগি আসামীকে গ্রেপ্তার করে। জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা সূত্রে জানা যায়, ৩ জানুয়ারি ভোররাতে জেলার তালা থানা পুলিশ অস্ত্র ও বোমাসহ ছাত্র শিবিরের ৫জন নেতাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছে শিবিরের এনামুল সরদার (২০), হাবিবুর রহমান (২৩), মহসিন শেখ (২০), সুজন মোড়ল (২০) ও আনোয়ার হোসেন সাগর (২০)। পুলিশ এসময় ৫টি পেট্রোল বোমা, ৩টি ককটেল, ৩টি জিহাদি বই ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে। একই জেলায় পুলিশের হাতে আটক হয় ৩৮জন। ৫জানুয়ারি জেলা সদরের খানপুর এলাকা থেকে পুলিশ বিএনপি-জামায়েতের ১৫নেতা কর্মীকে গোপন বৈঠক থেকে আটক করে। ১১ জানুয়ারি কলারোয়া থানার পুলিশ অস্ত্র ও গুলিসহ আব্দুল মালেক ঢালী নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে। ১৪ জানুয়ারি আশাশুনির পারশেমারি থেকে পুলিশ ৫টি তাজা বোমা উদ্ধার করে। জেলার সীমান্ত এলাকায় বিজিবির অভিযানে ১৫ জানুয়ারি ৫টি সোনার বারসহ নাজিমউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি আটক হয়। এছাড়া বিজিবি শ্যামনগরে দুটি পৃথক অভিযানে ১৫টি ভারতীয় গরু আটক করে। জেলায় মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে প্রায় প্রতিদিন।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স দেখাতে তারা বদ্ধপরিকর। জেলার ২২লক্ষ মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ নিরন্তর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

Facebook Comments
Please follow and like us: