প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই মিথ্যা মামলায় খালেদার কারাদণ্ড: জামায়াত

ক্রাইমবার্তা ডেস্করিপোট:  ঢাকা: বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জিয়াকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের রায়ের নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার হীন উদ্দেশ্যে সরকার মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় তাকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির ভারপ্রাপ্ত আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এই রায়ের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘কথিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন এবং ২০ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে যে ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে তা সরকারি প্রতিহিংসা ও ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়। সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আদালতকে ব্যবহার করার যে অপকৌশল গ্রহণ করেছে এ রায় তারই ধারাবাহিকতা মাত্র। এ রায় জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি বলেন, ‘সরকার ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ভোটার বিহীন প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দেশের জনগণকে সরকার মারাত্মকভাবে ভয় পায়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাতে জনমতের প্রতিফলন ঘটতে না পারে সে জন্য সরকার বিরোধীদলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে জাতীয় নির্বাচনের বাইরে রাখার অপকৌশল গ্রহণ করেছে। তাদের ষড়যন্ত্রের প্রথম শিকার জামায়াত নেতৃবৃন্দ। প্রহসনের বিচারের মাধ্যমে সরকার জামায়াত নেতৃবৃন্দকে একে একে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে।দেশবাসী ভুলে যায়নি বিচার চলাকালে সরকারের মন্ত্রী এমপিগণ রায়ের দিন, তারিখ ও সময় নির্ধারণ করে প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশে বক্তব্য রেখেছেন।’

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘একই কায়দায় ২০ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়ার ইঙ্গিত প্রদান করে সরকারের মন্ত্রী এমপিগণ বক্তব্য রেখে আসছিলেন। আজ আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি ঘোষণার বাস্তবায়ন হলো মাত্র। বেগম খালেদা জিয়ার মামলা পরিচালনাকালে তার নিয়োজিত বিজ্ঞ আইনজীবীগণ আদালতে সাজানো মিথ্যা ও বানোয়াট মামলার চুলচেঁরা বিশ্লেষণ করে যে যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করেছেন তাতে দেশবাসী আশা করেছিল বেগম জিয়া ন্যায়বিচার পাবেন ও সাজানো মামলা থেকে বেকসুর খালাস পাবেন। কিন্তু সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে দণ্ডিত করায় তিনি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এ রায়ে জনগণ হতাশ হয়েছে।’

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য বিচার বিভাগকে নগ্নভাবে ব্যবহারের যে নিকৃষ্ট ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে তাতে আদালতের প্রতি জনগণের আর কোন আস্থা থাকবে না। বিচার বিভাগের উপর থেকে জনগণের আস্থা উঠে গেলে দেশ ভয়াবহ সংকটের দিকে ধাবিত হবে। সরকার এ ধরনের সংকট সৃষ্টি করে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে চায়। কিন্তু সরকারের এ পরিকল্পনা দেশের জনগণ কখনো বাস্তাবায়ন হতে দিবে না।’

তিনি বলেন, ‘রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সরকার সারা দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষার নামে অস্বাভাবিক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। সরকার মূলত রাজধানী ঢাকা থেকে সারা দেশকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। সরকার সারা দেশে ব্যাপক গ্রেপ্তার অভিযান চালিয়ে ২০ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করে তাদের উপর জুলুম-নির্যাতন চালাচ্ছে। সরকার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবৈধভাবে ব্যবহার করে গোটা দেশকে জিম্মি করে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দণ্ডিত করার যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে তা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলংকিত অধ্যায় হিসাবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।’

তিনি আরো বলেন,’বেগম খালেদা জিয়া, জামায়াত আমির মকবুল আহমাদসহ ২০ দলীয় জোটের আটককৃত সকল নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে তাদের নিঃশর্তভাবে মুক্তি প্রদান এবং নিরপেক্ষ কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে সকল দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে দেশকে বর্তমান শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’বিজ্ঞপ্তি:

Please follow and like us:
Facebook Comments