খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে আন্দোলন আরো বেগবান করা হবে

স্টাফ রিপোর্টার : দলের চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে চলমান আন্দোলন আরো বেগবান করার ঘোষণা দিয়েছে ২০ দলীয় জোট। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে জোটের পক্ষ থেকে এক ঘন্টার অবস্থান কর্মসূচিতে নেতৃবৃন্দ এ ঘোষণা দেন। একইসাথে নেতৃবৃন্দ বলেন, খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় পাঁচ বছরের জেল দেয়া হয়েছে। তাকে পরিত্যক্ত কারাগারে রাখা হয়েছে। এ জন্য তাদের বিচার হবে। বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে জোট ঘোষিত এ কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাধা দেয়ার পাশাপাশি হামলা চালিয়েছে। অনেক স্থানে ক্ষমতাসীন দলের হামলায় কর্মসূচি পন্ড হবার খবর পাওয়া গেছে। রাজধানীতে বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দুপুরে ২০ দলীয় জোট আয়োজিত এক ঘন্টার অবস্থান কর্মসূচি পালিন করা হয়। এতে জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন।
রাজধানীতে সমাপনী বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব ও ২০ দলের সমন্বয়ক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা পরিস্কার করে বলতে চাই, আমাদের এই সংগ্রাম দেশনেত্রীকে মুক্তি করে নিয়ে আসবার লড়াই, এই লড়াই আমাদের নেতা-কর্মীদের মুক্ত করবার লড়াই। এই লড়াই বাংলাদেশের মানুষকে মুক্ত করবার লড়াই, গণতন্ত্রকে মুক্ত করবার লড়াই। আসুন এই অবস্থান কর্মসূচি থেকে আমরা শপথ নেই আগামী দিনে সমস্ত কর্মসূচি সফল করে জনতার উত্তাল তরঙ্গের মধ্য দিয়ে আমরা দেশনেত্রীকে এই জেল থেকে মুক্ত করে নিয়ে আসবোই। আসুন সেই লক্ষ্য আমরা আন্দোলনকে আরো বেগবান করি।
সরকারের প্রতি হুশিয়ারি দিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, দেশনেত্রীকে তারা (সরকার) কারাগারে নিয়ে মনে করেছে, বাংলাদেশের মানুষকে স্তব্ধ করা যাবে, বাংলাদেশের মানুষকে দমিয়ে রাখা যাবে। সেটা হবে না। দেশনেত্রীকে এই কারাগার থেকে বাংলাদেশের মানুষ অবশ্যই মুক্ত করে নিয়ে আসবেই। তারা(ক্ষমতাসীন দল) ভুলে যায় যে, যারা অতীতে তাদের নেতা মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সেই নেতাকে কারাগার থেকে বের নিয়ে নিয়ে এসেছিলো।
মির্জা ফখরুল খালেদা জিয়াকে পরিত্যক্ত কারাগারে রেখে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে সরকার। বর্তমান সরকার সম্পূর্ণভাবে গণবিচ্ছিন্ন হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। তারা দেউলিয়া হয়েছে বলেই আজকে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও প্রায় ১৫ লাখ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় পাঁচ বছরের জেল দেয়া হয়েছে। তাকে পরিত্যক্ত কারাগারে রাখা হয়েছে। এ জন্য তাদের বিচার হবে।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, তার বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমাদের এই সংগ্রাম, এই লড়াই গণতন্ত্রকে মুক্ত করার লড়াই। খালেদা জিয়ার মুক্তির লড়াই। বাংলাদেশের মানুষকে মুক্ত করার লড়াই।
অভিযোগ করে তিনি বলেন, মিথ্যা মামলায় দেশনেত্রীকে কারাগারে পাঠিয়েছে। যে কারাগার পরিত্যক্ত, একটি জীর্ন ২শ বছরের পুরনো একটি ভবন। আন্তর্জাতিক যে মানদন্ড, আমাদের সংবিধানেও আছে- কখনো কোনো নাগরিককে সলিডারি কনফাইনমেন্টে পাঠানো যাবে না। আজকে দেশনেত্রীকে সম্পূর্ণ একা এই পরিত্যক্ত একটি কারাগারে পাঠিয়ে এই অবৈধ সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটিত করেছে। তাদের একদিন বিচার হবে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকার ষড়যন্ত্র করছে। তারা বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখে আগামী সংসদ নির্বাচন করতে চায়। আমরা বলতে চাই, বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া আগামী নির্বাচন ইনশাল্লাহ করতে দেয়া হবে না। দেশনেত্রী কারাগারের বাইরে ছিলেন তার যে জনপ্রিয়তা  ছিলো আজকে কারাগারে যাবার পরে তিনি (খালেদা জিয়া) আরো শক্তিশালী হয়েছেন, জাতীয় নেতা থেকে আন্তর্জাতিক নেত্রী হয়েছেন।
স্থায়ী মওদুদ আহমদ বলেন, এই সরকার প্রতিহিংসায় বিশ্বাস করে, আইনে বিশ্বাস করে না বলেই তারা জেলকোডে যে নিয়ম আছে, সব কিছুকে বরখেলাপ করে বেগম খালেদা জিয়াকে নির্জন কারাবাসে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। আমরা এর নিন্দা জানাই। আমরা মনে করি, বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে আন্দোলন ছাড়া কোনো বিকল্প নাই। আন্দোলনের মাধ্যমেই তাকে আমরা মুক্ত করে আনবো। একই সঙ্গে আইনের প্রক্রিয়াও আমরা চালু রাখবো।
মির্জা আব্বাস বলেন, আজকে দেশনেত্রীকে কারাগারে আটক রেখে দেশকে আবার পরাধীন করার চক্রান্ত চলছে। ইনশাল্লাহ দেশের জনগন এটা হতে দেবে না। আজকে আওয়ামী লীগের অনেক নেতারা বগল বাজাচ্ছেন। বিএনপিতে নাকী ভাঙ্গন ধরবে, ভাঙ্গন ধরেছে। সেটা গুড়ে বালি, ভুলে যাবেন এই সমস্ত কথা-বার্তা। বিএনপিকে ভাঙ্গন ধরানোর বাংলাদেশে কোনো শক্তির ক্ষমতা নেই। নেতা-কর্মী ও সংগঠন থাকতে কেউ বিএনপিকে ভাঙতে পারবে না।
তিনি বলেন, আমি সরকারকে একটা ধন্যবাদ দিতে চাই, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আমরা দেশনেত্রী বানিয়েছিলাম। আজ আপনি দেশনেত্রীকে নেলসন ম্যান্ডেলা বানিয়ে দিয়েছেন। আমরা এই ধরণের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে দিয়ে দেশনেত্রীকে কারাগার থেকে বের করে আনবো, গণতন্ত্রকে মুক্ত করে আনবো।”
স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, সরকার বিচারের নামে প্রহসন করে ইচ্ছাপূরণ করেছে। আমরা সুবিচার পাইনি। আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাসী। তাই আইনিভাবে মোকাবেলা করছি। তারেক রহমানের নির্দেশে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। এই আন্দোলনেও পুলিশ বাধা দিচ্ছে, গ্রেফতার করা হচ্ছে।
নয়া পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সকাল ১১টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত এই অবস্থান কর্মসূচি হয়। সড়কের একপাশে ফকিরের পুল থেকে নাইটেঙ্গল রেস্তোরা পর্যন্ত  সড়কের একপাশে হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থকরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে নেতা-কর্মীরা নয়া পল্টনে সমবেত হয়ে ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, মুক্তি চাই’, ‘খালেদা জিয়ার কিছু হলে আগুন জ্বলবে’ ইত্যাদি শ্লোগান দিতে থাকে।বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী ও কৃষিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেনি-পেশার নেতা-কর্মীরা এতে সমবেত হয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন। বিপুল সংখ্যক মহিলা কর্মী-সমর্থকরাও অংশ নেন।
প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরীর পরিচালনায় অবস্থান কর্মসূচিতে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, খন্দকার মাহবুব হোসেন, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ফজলুল হক মিলন, ঢাকা মহানগরের মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, কাজী আবুল বাশার, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, যুবদলের সাইফুল ইসলাম নিরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, ছাত্র দলের মামুনুর রশীদ প্রমূখ বক্তব্য রাখেন। ২০ দলীয় জোটের শরিক লেবার পার্টির একাংশের মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, এলডিপির সাহাদাত হোসেন সেলিম বক্তব্য দেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আবদুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মাহমুদুল হাসান, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, হাবিবুর রহমান হাবিব, কবীর মুরাদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ, শিরিন সুলতানা, আনোয়ারুল আজিম, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, মীর সরফত আলী সপু, নুরী আরা সাফা, আমিনুল হক, বেবী নাজনীন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আবদুস সালাম আজাদ, শামীমুর রহমান শামীম, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, হারুনুর রশীদ, আমিরুজ্জামান শিমুল, বজলুল করীম চৌধুরী আবেদ,  অঙ্গসংগঠনের সুলতানা আহমেদ, হেলেন জেরিন খান, মোরতাজুল করীম বাদরু, আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
২০ দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যে ছিলেন, লেবার পার্টির একাংশের হামদুল্লাহ আল মেহেদি, ন্যাপে গোলাম মোস্তাফা ভুঁইয়া, শহীদুন্নবী ডাবলু, এনপিপি‘র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, এনডিপি‘র মঞ্জুর হোসেন ঈসা প্রমূখ নেতারাও ছিলেন।
কর্মসূচি উপলক্ষে গতকাল সকাল থেকে কার্যালয়ের কাছাকাছি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি দুইদিন বিক্ষোভ কর্মসূচির পর শনিবার ঢাকাসহ সারা দেশে তিন দিনের টানা কর্মসূচি ঘোষণা করে, যার দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি অবস্থান কর্মসূচি। সোমবার ছিলো মানববন্ধন যা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে হয়েছে। আজ বুধবার হবে ঢাকাসহ সারাদেশে ৮ ঘন্টার প্রতীক অনশন কর্মসূচি।
রাজশাহী অফিস : গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজশাহী মহানগর বিএনপি আয়োজিত অবস্থান কর্মসুচিতে অবিলম্বে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মিথ্যা মামলার সাজা বাতিল এবং বেগম জিয়ার মুক্তি দাবী করা হয়।
এউপলক্ষে সমাবেশে রাজশাহী সিটি মেয়র ও নগর বিএনপি’র সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, বেগম জিয়াকে বাদ দিয়ে কোন নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলনের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন শওকত। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাগমারা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল গফুর, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সহিদুন্নাহার কাজি হেনা ও সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি জাহান পান্না। বক্তারা বলেন, গণতন্ত্রকে কারাগারে পাঠিয়ে শেখ হাসিনা একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন দেখছে। তিনি ছাত্রলীগ ও শিক্ষামন্ত্রীকে দিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে শিক্ষাকে ধ্বংস করছেন। দেশকে মেধাশুন্য করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে এই অবৈধ সরকার। ছাত্রলীগের কর্মীরা নারী নির্যাতন, ধর্ষণ অব্যাহত রেখেছে। তাদের অত্যাচারে শিক্ষার্থীরা ভীত হয়ে পড়েছে। ছাত্রীরা নির্বিঘেœ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না। সরকারের লোকেরা হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করে রাখলেও তার বিচার না হয়ে মিথ্যা মামলায় বেগম জিয়াকে সাজা প্রদান করেছে।
খুলনা অফিস : বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা বানোয়াট ভিত্তিহীন মামলায় কারাদন্ড দেয়ার প্রতিবাদে কেন্দ্র ঘোষিত তিন দিনের কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার খুলনায় মহানগর বিএনপির উদ্যোগে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সকাল ১১ টায় নগরীর কে ডি ঘোষ রোডে দলীয় কার্যালয়ের সামনে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি চলে দুপুর ১ টা পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের আগে থেকেই নগরীর সকল থানা ও ওয়ার্ড থেকে হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ কর্মীর মিছিল সমাবেশস্থলে এসে হাজির হয়।
গগনবিদারী শ্লোগানের মধ্যে বক্তৃতায় নজরুল ইসলাম বলেন, নয় বছরের দুঃশাসনকে আরো দীর্ঘায়িত করতে শেখ হাসিনার ইচ্ছায় আদালত সাজানো পাতানো বানোয়াট মামলায় খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠিয়েছে। ১৬ কোটি মানুষ এ রায়ে মর্মাহত, হতাশ, ক্ষুব্ধ হয়েছেন। সরকার আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সাজানো পাতানো ভোট করতে চায়। সে চেষ্টা করা হলে পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে হুশিয়ার করেন তিনি।
সভা থেকে খুলনায় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালে বিনা উস্কানিতে পুলিশের দফায় দফায় হামলা এবং দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, মেহেদী হাসান দীপু, শামসুজ্জামান চঞ্চলসহ গ্রেফতারের শিকার হয়ে কারাগারে আটক সকল নেতাকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করা হয়। সভা থেকে খুলনায় দায়ের হওয়া পুলিশের মিথ্যা বানোয়াট মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের জোর দাবি জানানো হয়।
সিলেট ব্যুরো : সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেছেন- আওয়ামী  সরকার পুনরায় ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। এরই ধারাবাহিকতায় তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে একটি ষড়যন্ত্রমুলক মিথ্যা মামলার ফরমায়েসী রায়ে সাজা দিয়ে কারাগারে আটকে রেখেছে। তারেক রহমানকেও এই ভুয়া মামলায় সাজা প্রদান করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়ের সুচনা করেছে। আদালতকে ব্যবহার করে সরকার বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে মাইনাস করে একতরফা নির্বাচনে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে। কারণ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া বাংলার মাটিতে কোন নির্বাচন করতে দেয়া হবেনা। অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে। সরকারকে ভুলে গেলে চলবেনা, শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা বিশ্বে বাকশালী ও স্বৈরাচারী শাসকদের পরিনতি ভাল হয়নি। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে জুলুম-নিপীড়নের পথ পরিহার করে আওয়ামী বাকশালীদের গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসার আহ্বান জানান তারা।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপি কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসুচীর অংশ হিসেবে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলায় সাজা, খালেদা জিয়াকে কারাগারের প্রেরণের প্রতিবাদে ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবীতে নগরীর রেজিষ্ঠারী মাঠে অনুষ্ঠিত অবস্থান কর্মসুচীতে বক্তারা উপরোক্ত কথা বলেন। সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত অবস্থান কর্মসুচীতে জেলা ও মহানগর বিএনপি ছাড়াও অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের হাজার  হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
মাদারীপুর  সংবাদদাতা : বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে মাদারীপুর জেলা বিএনপির উদ্যোগে জজকোর্ট চত্বরেঅবস্থান সকাল ১১টায় ধর্মঘট পালিত হয়।এতে  বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহান্দার আলী জাহান,সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডঃ জামিনুর,সহ-সভাপতি জেলা বিএনপি, এ্যাডঃ জাফর আলী মিয়া,এ্যাডঃ সাইফুর রহমান চুন্নু, পৌর বিএনপির সভাপতি এ্যাডঃ শরীফ সাইফুল কবির মাদারীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডঃ রেজাউল করিম, এ্যাডঃ গোলজার আহমেদ চিশতি এ্যাড মহসিন মোড়ল প্রমুখ আইনজীবি নেতৃবৃন্দ।
বক্তরা বলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি না দিলে রাজপথে দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করে আনা হবে।
বাউফল (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা : খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাজা  বাতিল ও নি:শর্ত মুক্তির দাবিতে  বাউফল উপজেলা বিএনপির গণ অবস্থান কর্মসূচি পণ্ড করে দিয়েছে পুলিশ। গতকাল সকালে বাউফল বরিশাল সড়কে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটেছে।
বিএনপি নেতারা জানান, বাউফল উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের শতাধীক নেতা কর্মীরা সকাল ১১ টায় অফিসের সামনে  রাস্তায় বসে শান্তি পূর্নভাবে গণ অবস্থান কমসূচি পালন করছি। এমন সময় পুলিশের একটি টহল দল আমাদেরকে লাঠিচার্জ করে উঠিয়ে দেয়। আমরা গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বসে অবস্থান করছি, কোন বিশৃংখলা করিনা জানালে পুলিশ আমাদেরকে মিথ্যা মামলা ও ধরে নিয়ে জেলে ঢুকিয়ে দেওয়ার ভয় দেখায়।
আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির ক্রিড়া সম্পাদক ও বাউফল পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন কবির, জেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওলিয়ার রহমান ও যুবদল নেতা হাজি পলাশ। কর্মসূচিতে উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের শতাধীক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments
Please follow and like us: