গণ আন্দোলনের মাধ্যমেই বেগম জিয়াকে মুক্ত করা হবে

স্টাফ রিপোর্টার : গণ আন্দোলনের মাধ্যমেই দলের চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। গতকাল বুধবার দেশব্যাপী বিএনপির পূর্বঘোষিত ‘অনশন’ কর্মসূচিতে নেতৃবৃন্দ একথা বলেন। বিএনপির আহ্বানে অনুষ্ঠিত অনশন কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেছে ২০ দলীয় জোট এবং পেশাজীবীরা। এছাড়া সর্বস্তরের মানুষ খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার দাবিতে সারাদেশে অনশন পালন করেছে। বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, দেশের বিভিন্নস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পূর্বঘোষিত সময় মতো অনশন পালন করতে দেয়নি। অনেক স্থানে কর্মসূচি প- করে দিয়েছে পুলিশ। কোথাও কোথাও সরকারি দলের নেতাকর্মীদের দ্বারা অনশন প- হয়েছে বলে জানা গেছে। জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে  এবং অবিলম্বে তাকে মুক্তি দেয়ার দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি ওই রায়ের পর বিএনপি শুক্র ও শনিবার সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে হয় মানববন্ধন ও সোমবার হয় নয়া পল্টনের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি।
রাজধানী ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনশন কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি।  তবে প্রেস ক্লাবের সামনে পুলিশের অনুরোধে তিন ঘণ্টায় অনশন শেষ করতে হয়েছে বিএনপিকে। দুপুর ১টায় অনশনে সমাপ্তি টেনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা এই অনশন কর্মসূচি থেকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার দাবি জানাচ্ছি এবং সব ধরনের নির্যাতনমূলক কর্মকা- থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া অনশন কর্মসূচি বিকেল ৪টা পর্য়ন্ত হবার কথা থাকলেও পুলিশ কর্তৃপক্ষের অনুরোধে তিন ঘণ্টায় অর্থাৎ দুপুর ১টা তা শেষ করেছে। ফখরুল বলেন, আমাদের অনশন কর্মসূচি ৪টা পর্যন্ত হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু কর্তৃপক্ষের অনুরোধে আমরা এটা ১টা পর্যন্ত করেছি।
পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমদ নেতৃবৃন্দকে পানি পান করিয়ে অনশন ভঙ্গ করান।
এদিকে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অনশন পালন করেছেন। বিকেল ৪টা পর্যন্ত অনশন পালন করেছেন তিনি। তার সাথে ছিলেন সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ, আমিনুল ইসলামসহ বিএনপির কার্যালয়ের স্টাফবৃন্দ।
অনশনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখে নির্বাচন করতে চায়, সেই চক্রান্ত তারা করছে। আমরা বলে দিতে চাই, বেগম জিয়া ছাড়া এদেশে কোনো নির্বাচন হতে দেব না। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হতে হবে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে সাজা দেয়া হয়েছে। আমরা এই রায় মানি না। এই রায় হলো একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আমাদের নেত্রীকে দুর্বল করার জন্য। আমাদের নেত্রী দুর্বল হবেন না। আমরা সরকারকে জানিয়ে দিতে চাই, আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমেই আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করে আনবো।
স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, দেশনেত্রীকে বন্দী করা হয়েছে, আজ পর্যন্ত তার রায়ের কাগজ দেয়া হয়নি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রায়ের কপি পাবার কথা। দীর্ঘসূত্রিতা করে তাকে আটকিয়ে রাখার ষড়যন্ত্র করছে সরকার। তিনি বলেন, আমাদের শাসনামলে কারা সংস্কার কমিটির আমি সদস্য ছিলাম। জেলকোডে আমরা করে এসেছি- কারাগারে যাওয়া মাত্র যেকোনো এমপি, মন্ত্রী সাবেক কিংবা বর্তমান যিনি হোন- সঙ্গে সঙ্গে তাকে ডিভিশন দিতে বাধ্য। অথচ যারা আজ চারদিন যাবৎ অবৈধভাবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে ডিভিশন দেয়নি আমি মহাসচিবকে বলব, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হোক, তাদের বিচারের ব্যবস্থা করা হোক।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিচারকদেরকে ক্যালকুলেটর দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ২ কোটি টাকার জন্য যদি পাঁচ বছর জেল হয় তাহলে হলমার্কসহ বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের জন্য কত বছরের জেল হবে? সেটা মাথায় হিসাব করা যাবে না। এ জন্য বিচারকদেরকে ক্যালকুলেটর দেয়ার জন্য সরকারকে আহ্বান জানান তিনি।
মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, দেশনেত্রী নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের কথা বলেছেন। আমরা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু সবাইকে বলে দিতে চাই, এটাকে কেউ দুর্বলতা ভাববেন না। জাতীয়তাবাদী দেশপ্রেমিক সৈনিক একজন বেচে থাকতে ষড়যন্ত্রকারীরা কেউ পার পাবে না।
খেলাফত মজলিসের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক বলেছেন, খালেদা জিয়া ন্যায় বিচার পাননি। তিনি এখন মজলুম। আমরা খেলাফত মজলিস মজলুমের পক্ষে আছি, থাকবো। খালেদা জিয়ার মুক্তির এই আন্দোলনে আমরা সর্বাত্মক সমর্থন জ্ঞাপন করছি। অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করছি।
২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন,  দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শুধু কারাগারে নন, ১৬ কোটি মানুষ আজ কারাগারে। সরকারকে বলে দিতে চাই, বাংলাদেশের কোনো আদালতের খোঁচায় কিংবা কোনো নির্বাহী আদেশের কলমের খোঁচায় তাকে বন্দী করে রাখা যাবে না, তাকে ছাড়া কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা যাবে না। আমার নেত্রী প্রধানমন্ত্রী হবেন বাংলাদেশের ইশাআল্লাহ। আমরা তাদের বিচার করব। ধর্য ধরুন। রাজপথ থাকবে আমাদের আমাদের নেত্রীর নেতৃত্বে। আওয়ামী লীগ ৫০টার বেশি ইনশাআল্লাহ আসন পাবে না।
সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, আমরা এই জন্য মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করিনি। যেখানে মহান স্বাধীনতার ঘোষকের স্ত্রী একটি মিথ্যা মামলায় কারাগারে থাকবেন। তিনি বলেন, এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। এদের কাছে বিচার চেয়ে লাভ হবে না। এরা ক্ষমতার জন্য যেকোন কিছু করতে পারে। তিনি বলেন, শুধু দাবির কথা বললেই হবে না। আন্দোলনের মাধ্যমেই দেশনেত্রীকে মুক্ত করে আনতে হবে।
দেশের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রধান, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রবীণ রাজনীতিক বেগম খালেদা জিয়াকে করাগারে প্রেরণ আগামী দিনে কুদৃষ্টান্ত হিসাবে বিবেচিত হতে বাধ্য বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, এ আচরণ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য সুখকর হবে না, হতে পারে না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ায় দেশে রাজনৈতিক সংঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। আর এই সঙ্কটের জন্য সরকারের একগুয়েমী নীতিই প্রধানত দায়ী। সরকারের মনে রাখা উচিত চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট দেশ-জাতি কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়। এই সঙ্কট সমাধানে ব্যর্থ হলে আগামী দিনে জাতি হিসাবে আমাদের অনেক বড় মাসুল দিতে হতে পারে।
বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রধান, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রবীণ রাজনীতিক বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দী করে সরকার নৈতিকভাবে পরাজিত হয়েছে মন্তব্য করে  লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি- এলডিপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মোঃ শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, যে দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছর সশ্রম কারাদ- প্রদান করা হয়েছে ন্যায় বিচার পেলে এই মামলা চলতেই পারতো না। অথচ হাজার হাজার কোটি টাকা যারা দুর্নীতি করছে তাদের কোন শাস্তি হচ্ছে না। শুধু মাত্র রাজনৈতিক রোশানলের শিকার হয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে যেতে হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও আর মিত্র দল অনুভব করে বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনে গেলে এবং মাঠে থাকলে তাদের শোচনীয় পরাজয় ঘটবে। সেই কারণে সুপরিকল্পিতভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে প্রেরণ করেছে। আগামী একাদশ নির্বাচনে ভোটারবিহীন সরকার যদি খালি মাঠে গোল দেয়ার স্বপ্ন দেখে তাদের সেই স্বপ্ন রাজপথে জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে দুঃস্বপ্নে পরিণত করবে। ফয়সালা এখন রাজপথে জনগণের হাতে। জনগণ নিশ্চয়ই যারা তাদের ভোটার অধিকার কেঁড়ে নিয়েছে, স্বজনদের গুম, খুন করেছে, হাজার হাজার পরিবারের সদস্যদেরকে ঘর-বাড়ি ছাড়া করেছে, সেই দুঃশাসনের সরকারের পক্ষে সাধারণ মানুষ থাকবে না। পুলিশী সকল বাধা ও গ্রেফতারকে মাথায় নিয়ে গত ৩ দিনের কর্মসূচিতে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিই প্রমাণ করে এই সরকারের সাথে জনগণ আর নেই।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সকাল ১০টা থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মী ফুটপাতে মাদুরে বসে দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে প্রতীক অনশনে বসে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে প্রেস ক্লাবসহ এর চারপাশে মানুষের ঢল নামে। প্রেস ক্লাবের সামনে সড়কের একপাশে কদম ফোয়ারা মোড় থেকে সচিবালয় মোড় পর্যন্ত হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থকরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। এই অনশনে ব্যাপক সংখ্যাক নেতা-কর্মীর উপস্থিতি পুরো এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। সড়কের কাছে দিয়ে খুব ধীর গতিতে যানবাহন চলে। একপর্যায়ে ধীরে ধীরে কর্মসূচিতে ২০ দলীয় জোট, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী ও কৃষিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন অংশগ্রহণ করে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন। মহিলা কর্মী-সমর্থকদেরর উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য।
তিন ঘণ্টার অনশন কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন ২০ দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিশের মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, ইসলামী ঐক্যজোটের এডভোকেট এম এ রকীব, কল্যাণ পার্টির মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, এনপিপি‘র ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির একাংশের মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, অপর অংশের হামদুল্লাহ আল মেহেদি, জাগপা‘র খন্দকার লুৎফর রহমান, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, এলডিপি‘র সাহাদাত হোসেন সেলিম, ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাদা দলের আহবায়ক আখতার হোসেন খান।
এছাড়া চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আতাউর রহসান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদ, রিয়াজুল ইসলাম রিজু, ঢাকা মহানগরের মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, কাজী আবুল বাশার, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, যুব দলের মোরতাজুল করীম বাদরু, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেইন, ছাত্র দলের মামুনুর রশীদ, আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে অনশন কর্মসূচিতে জামায়াত নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করে সংহতি প্রকাশ করেছেন। অনশন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিম, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি ড. এড. হেলাল উদ্দীন, পল্টন থানা আমীর আমিনুর রহমান, শাহবাগ থানা আমীর আহসান হাবিব, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য শ্রমিক নেতা আব্দুস সালাম, ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী পূর্বের সভাপতি সোহেল রানা মিঠুসহ কয়েকশ’ নেতা-কর্মী প্রেস ক্লাবে চলমান বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে অনশন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে সংহতি প্রকাশ করেছেন। এছাড়া ২০ দলীয় জোটের ছিলেন সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, মুসলিম লীগের শেখ জলুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা আবদুল করীম প্রমুখ।
এই অনশনে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর, বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, এজেডএম জাহিদ হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা জয়নুল আবদিন ফারুক, হাবিবুর রহমান হাবিব, ফজলুল হক মিলন, সাখাওয়াত হোসেন জীবন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, কামরুজ্জামান রতন, নুরী আরা সাফা, ওবায়দুল ইসলাম, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, মীর সরফত আলী সপু, আমিনুল হক, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আবদুস সালাম আজাদ, হারুনুর রশীদ, বেবী নাজনীন, মুনির হোসেন, আবদুল আউয়াল খান, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, শামীমুর রহমান শামীম, কাদের গনি চৌধুরী, আমিরুজ্জামান শিমুল, নিপুর রায় চৌধুরী, বজলুল করীম চৌধুরী আবেদ, অঙ্গসংগঠনের য্বু দলের সাইফুল আলম নিরব, ঢাকা মহানগরের আহসানুল্লাহ হাসান, হাবিবুর রশীদ হাবিব, তানভীর আহমেদ রনি, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ,  সাদরে জামান,  ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল, আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, শ্রমিক দলের নুরুল ইসলাম খান নাসিম, জাসাস শাহরিয়ার ইসলাম শায়লা, সালাউদ্দিন ভুঁইয়া শিশির, মহিলা দলের হেলেন জেরিন খান, উলামা দলের শাহ নেসারুল হক প্রমুখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অনশনে খেলাফত মজলিশের নায়েবে আমীর মাওলানা সৈয়দ মজিবর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব শেখ গোলাম আসগর, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, অফিস ও প্রচার সম্পাদক  অধ্যাপক মো. আবদুল জলিল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা তোফাজ্জল হোসনে মিয়াজী , ঢাকা মহানগরী সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আজীজুল হক, ঢাকা মহানগরী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাওহিদুল ইসলাম তুহিন, প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু, মো. ফয়জুল ইসলাম, হাজী হারূনুর রশীদ, ছাত্র মজলিস ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ সভাপতি মো. রমজান আলী, ঢাকা মহানগরী উত্তর সভাপতি মো. আবদুল গাফফার, কাজী জহিরুল ইসলাম, আফসার উদ্দিন হাওলাদার, আজিজ উল্লাহ আহমদী, কে এম ইমরান হোসেন, সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন দলের প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল। অনশন ঘিরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ব্যাপক সংখ্যক পুলিশ ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য মোতায়েন করা হয়। রাখা ছিল জল কামানের গাড়িও। জানা গেছে, কর্মসূচি চলাকালে সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ বিএনপি ও জোটের বেশ কয়েকজন নেতাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালায়। তবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ছাত্রদল সভাপতি জহিরউদ্দীন তুহিনসহ পাঁচ নেতাকর্মীকে আটক করার অভিযোগ করেছে বিএনপি। বিএনপির অভিযোগ, সকাল ১০টায় প্রেস ক্লাবের সামনে অনশন কর্মসূচিতে আসার সময় শিল্পকলা একাডেমির সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতারকৃতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সর্দার জানান, আটক- গ্রেফতার কেউ আছেন কি না তা পরে বলা যাবে।
রাজশাহী অফিস : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজার প্রতিবাদে অনশন কর্মসূচি পালন করেন রাজশাহী বিএনপির নেতাকর্মীরা। গতকাল বুধবার সকালে থেকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে নগরীর মালোপাড়ায় কাবিল ম্যানশনে দলীয় কার্যালয়ের নিচে এ সমাবেশ করা হয়।
এতে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও রাজশাহীর সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, নগর বিএনপি সভাপতি সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলনসহ যুবদল-ছাত্রদল স্বেচ্ছাসেবক দল ও মহিলা দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি নেতারা বলেন, বর্তমান অবৈধ সরকার ষড়যন্ত্র করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা দুর্নীতি মামলায় কারাগারে প্রেরণ করেছে। সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অন্যান্য নেতাদের কারাগারের নির্দেশ দিয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও এই হাস্যকর বিষয়টি ফুটে উঠেছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মতে আমরা আজ এ অনশন কর্মসূচি পালন করেছি। আমাদের এখন একটাই দাবি শেখ হাসিনাকে রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে সরে যেতে হবে। আর এই আন্দোলনে সাধারণ জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে।
চট্টগ্রাম অফিস : বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে অনশন কর্মসূচি পালন করেছে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। গতকাল  বুধবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিএনপির দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির অনশন কর্মসূচীতে সভাপতিত্ব করেন নগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি আবু সুফিয়ান। অনশন কর্মসূচীতে চট্টগ্রামের কয়েক হাজার বিএনপি নেতাকর্মী যোগ দেয়। অনশন পালনের পাশাপাশি নেতাকর্মীরা বক্তব্য শ্লোগানে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবী করে।
অনশন কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এম নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি কবির চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, চবি শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নছরুল কদির , সাবেক সংসদ সদস্য বেগম রোজি কবির,  ,বিএনপি নেতা এম এ আজিজ, হারুণ জামাল, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, নূরুল আলম রাজু, এম এ হান্নান, সাইফুল আলম, যুব দলের কাজী বেলাল, মহিলা দলের মনিআরা বেগম মনি ও জেলী চৌধুরী প্রমুখ ।  বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম বলেন, “ওবায়দুল কাদের বলেছেন বিএনপি ভাঙ্গার জন্য তারেক রহমান যথেষ্ট। কিন্তু আমরা বলতে চাই তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ। তার নেতৃত্বে এগিয়ে যাবে বিএনপি।”তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে কারাবন্দী করা হয়েছে। কিন্তু খালেদা জিয়া ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন সম্ভব হবে না।চবি শিক্ষক আবুল কালাম বলেন, খালেদা জিয়ার প্রতি করুণার জন্য অনশন পালন করা হচ্ছে না। দেশের মানুষ সবাই বন্দি। নিজের ভোট নিজে দিতে পারছে না মানুষ। সেজন্যই খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।বেলা চারটার দিকে চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি কবির চৌধুরী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ দলীয় নেতাকর্মীদের অনশন ভাঙ্গান।
খুলনা অফিস : খুলনায় অনশন কর্মসূচিতে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্যও ভাষা সৈনিক এম নুরুল ইসলাম দাদু ভাই বলেছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারারুদ্ধ করায় জনগনের আন্দোলন আরো জোরদার হয়েছে।  এ আন্দোলন আরো দীর্ঘায়িত হবে, রাজপথে জনতার ঢল নামবে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা সম্পর্কে শেখ হাসিনার কোন ধারণাই নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারাবন্দী নেত্রী আজ ১৬ কোটি জনগনের ভালোবাসা ও আবেগের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছেন। বেগম জিয়াকে কারামুক্ত করার দাবিতে নতুন কর্মসূচি আসবে ঘোষণা করে বর্ষিয়ান এই নেতা বলেন, তাকে কারামুক্ত না করা পর্যন্ত জনতার এই ¯্রােত রাজপথ ছেড়ে ঘরে ফিরে যাবেনা।
বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা বানোয়াট ভিত্তিহীন মামলায় কারাদন্ড দেয়ার প্রতিবাদে কেন্দ্র ঘোষিত তিন দিনের কর্মসূচির তৃতীয় দিনে বুধবার খুলনায় মহানগর বিএনপির উদ্যোগে পালিত দিনব্যাপি অনশন কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
সকাল ৯ টায় নগরীর কে ডি ঘোষ রোডে দলীয় কার্যালয়ের সামনের চত্বরে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি চলে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত। নগরীর সকল থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীর স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি, মুর্হুমুর্হুর গগনবিদারী শ্লোগান, আর কর্মসূচির প্রতি সম্পূর্ণ একাত্মতা এক ভিন্ন রকম পরিবেশের সৃষ্টি করে। শতাধিক মহিলা কর্মী দিনব্যাপি সুদীর্ঘ ৮ ঘন্টার এই কর্মসূচিতে সরব অংশ নেন। হাজার হাজার নেতাকর্মী মাথায় কাফনের কাপড় বেধে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মসূচিতে অংশ নেন।
তবে খুলনা সদর থানা পুলিশ মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে অনশন কর্মসূচির জন্য মঞ্চ তৈরির উদ্যোগ নিলে অভিযান চালিয়ে টেবিল, চেয়ার, বাঁশ, খুটিসহ মঞ্চ বানানোর সকল উপকরণ তুলে নিয়ে যায়। সকাল থেকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য বিএনপি কার্যালয়ের সামনে মারমুখি অবস্থানে ছিলেন। এ নিয়ে কর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। তবে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার কর্মী কর্মসূচিস্থলে হাজির হলে পুলিশ পিছু হঠতে বাধ্য হয়।
প্রায় আট ঘন্টার দীর্ঘ  এ কর্মসূচিতে অর্ধশতাধিক দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও ২০ দলীয় জোটের শরীক দলের প্রধানবৃন্দ এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন। বক্তব্য শেষে সভার সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং নগর সাধারণ সম্পাদক মেয়র মনিরুজ্জামান মনিকে শরবত পান করিয়ে অনশন ভঙ্গ করার এম নুরুল ইসলাম দাদু ভাই।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, নয় বছরের দুঃশাসনকে আরো দীর্ঘায়িত করতে শেখ হাসিনার ইচ্ছায় আদালত সাজানো পাতানো বানোয়াট মামলায় খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠিয়েছে। ১৬ কোটি মানুষ এ রায়ে মর্মাহত, হতাশ, ক্ষুব্ধ হয়েছেন। সরকার আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সাজানো পাতানো ভোট করতে চায়। সে চেষ্টা করা হলে পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে বক্তারা হুশিয়ার করেন। তারা বলেন, কারাবন্দি খালেদা জিয়া এখন মাদার অব ডেমোক্রেসির মর্যাদায় অভিষিক্ত হয়েছেন। সমগ্র বাংলাদেশ আজ তার পাশে। শেখ হাসিনাকে প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহবান জানিয়ে তারা বলেন, সবাইকেই একদিন বিদায় নিতে হবে। জীবদ্দশায় এমন কিছু করে যান যেন মৃত্যুর পরে জনগণ আপনার জন্য শোক প্রকাশ করার সুযোগ পায়।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন কেসিসির মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, সাবেক এমপি কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, সাবেক এমপি শেখ মুজিবর রহমান প্রমুখ।
মেহেরপুর সংবাদদাতা : বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে মেহেরপুরে অনশন কর্মসূচি পালন করেছে জেলা বিএনপি। গতকাল সকাল ৯ টার দিকে শহরের বোস পাড়া এলাকায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচী পালন করা হয়। পরে সেখানে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি মাসুদ অরুন। বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুর রহমান, ইলিয়াস হোসেন, পৌর বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাস। বিএনপির দলীয় নেতা-কর্মীরা এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর সংবাদদাতা : গতকাল চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসুচীর অংশ হিসাবে  চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদে প্রাঙ্গনে  পৌর বিএনপি আয়োজিত অনসন কর্মসুচি পালিত হয় । পৌর বিএপির সাংগঠনিক সম্পাদক  শফিকুল  ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা আহবায়ক কমিটির সদস্য শরিফুজ্জামান শরিফ ।  উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান  নজরুল ইসলাম, জেলা যুব দলের যুগ্ম আহবায়ক মোকারম হোসেন ,মনিরুজআমান লিপ্টন, রাশেদুজ্জামান, সাবেক ছাত্রদল সভাপতি সাদিদ ,ছাত্রদল নেতা মাবুদ সরকার প্রমুখ । বক্তাগণ বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সহ এই আন্দোলনে সকল বিরোধী দলের নেতা ও কর্মীদের মুক্তি দাবি করেন । অন্যদিকে পৌর বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম রতনের সভাপতিত্বে চুয়াডাঙ্গা বড় বাজার সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে অনসন কর্মসুচি পালিত হয় । প্রধান অতিথি ছিলেন ,  জেলা যগ্ম আহবায়ক মজিবুল হক মজু ,আবু জাফর মন্টু, প্রফেসর আতিয়ার রহমান, ছাত্রদলের জেলা সভাপতি শরিফুজ্জামান সিজার ,ছাত্রদলে র আবু তালহা জুবায়ের ,জাহিদ, প্রমুখ।
সখীপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা : টাঙ্গাইলের সখীপুরে বিএনপির দুই অংশ আলাদা ভাবে অনশন কর্মসূচি পালন করেছে। বিএনপির কেন্দ্রিয় ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান সমর্থিত অংশ উপজেলা রোডে প্রেসক্লাবের সামনে সকাল ১১ টা থেকে ২টা পর্যন্ত  অনশন কর্মর্সচি পালন করেন । উপজেলা বিএনপি সভাপতি ( প্রস্তাবিত) শাহজাহান সাজুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাধারন সম্পাদক নাসির উদ্দিন, পৌর বিএনপির সভাপতি (প্রস্তাবিত) নাজিম উদ্দিন আহমেদ, সম্পাদক মীর আবুল হাশেম আজাদ, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সবুর রেজা, যুবদল সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন, সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল, ছাত্রদল সভাপতি নুর-ই আজম, কায়সার কাশেম প্রমূখ। অপরদিকে  উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শেখ মোহাম্মদ হাবিব সমর্থিত অংশ ঢাকা-সখীপুর রোডে পোস্ট অফিসের সামনে অনশন কর্মর্সচি পালন করেন। এতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি (প্রস্তাবিত) শরীফ হোসেন পাপ্পুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মোহাম্মদ হাবিব, সম্পাদক ফকির মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক আ: বাছেদ সিকদার, আসলাম মাসুদ রিপন, সাদেক সিকদার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Please follow and like us:
Facebook Comments