তাসমান সাগরপাড়ে রানবন্যা

এইটাই যেন পুড়াচ্ছে এই নাম্বার ওয়ান অলরাউন্ডার’কে।
স্পোর্টস ডেস্ক : একদিন আগেই নিজেদের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ইতিহাসে দলীয় সর্বোচ্চ ১৯৩ রান তুলেও লঙ্কানদের রেকর্ড চেজের শিকার হয়ে ম্যাচ হেরেছিল বাংলাদেশ। আর গতকাল দ্বিতীয়বারের মত ২৪৩ রানের সংগ্রহ পেলেও অস্ট্রলিয়ার সাথে পেরে উঠেনি নিউজিল্যান্ড। কিউইরা আগের ম্যাচটা উইন্ডিজের সাথে জিতলেও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ইতিহাসে সব থেকে বড় রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড গড়ে ম্যাচটা নিজেদের করে নিলো অজিরা। ট্রান্স-তাসমান সিরিজের প্রাথমিক পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে ৫ উইকেটে জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। টুর্নামেন্টে এটি তাদের টানা চতুর্থ জয়। নিউ জিল্যান্ডের ২৪৩ রান ৭ বল বাকি থাকতে পেরিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।
এর আগে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করে সর্বোচ্চ সংগ্রহ ছিল ভারতের। উইন্ডিজের ২৪৫ রান তাড়া করে ২৪৪ তুলতে পেরেছিল ভারত। সেদিন ভারতীদের ১ রানের আক্ষেপে পুড়তে হলেও এদিন ঠিকই রেকর্ড গড়ে ম্যাচ জিতে নিলো সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। আর টি-টোয়েন্টিতে এটাই সবচেয়ে বড় লক্ষ্য তাড়া করে জয়। আগের রেকর্ড ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ২০১৫ সালে জোহানেসবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৩২ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৪ উইকেটে জিতেছিল তারা।
গতকাল অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে কলিন মানরোর সঙ্গে ১৩২ রানের জুটিতে দলকে অসাধারণ সূচনা এনে দেন গাপটিল। ২৭ বলে ফিফটি ছোঁয়া মানরোকে ফিরিয়ে ১০.৪ ওভার স্থায়ী উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন অ্যান্ড্রু টাই। ৩৩ বলে খেলা মানরোর ৭৬ রানের ইনিংসটি গড়া ছয়টি করে ছক্কা-চারে। দলকে দুইশ রানে নিয়ে ফিরে যান ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিং করা গাপটিল। ৫৪ বলে ১০৫ রান করতে ৯টি ছক্কা ও ৬টি চার হাঁকান মারকুটে এই ব্যাটস্যমান। এই সংস্করণে তার আগের সেরা ছিল অপরাজিত ১০১। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পাওয়ার পথে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েন গাপটিল। ৭০ ইনিংসে ২ হাজার ১৪০ রান করে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান ছিল নিউ জিল্যান্ডেরই ব্রেন্ডন ম্যাককালামের। ৭১ ইনিংসে তাকে ছাড়িয়ে গাপটিলের রান ২ হাজার ১৮৮। শেষের দিকে দুটি ছক্কায় রস টেইলরের অপরাজিত ১৭ রানে আড়াইশ রানের কাছাকাছি যায় নিউ জিল্যান্ডের সংগ্রহ। ঝড় বয়ে গেছে যেন টাইয়ের ওপর দিয়ে। ৪ ওভারে ৬৪ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন এই পেসার। টি-টোয়েন্টিতে ৪ ওভার বোলিং করে এর চেয়ে বেশি রান দেওয়ার নজির আছে মাত্র দুটি।
বড় রান তাড়ায় ওয়ার্নারের টর্নেডো ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা হয় দুর্দান্ত। ত্রয়োদশ ফিফটি পাওয়া ওপেনারকে বোল্ড করে ফেরান ইশ সোধি। ৪টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৫৯ রান করে ফিরেন ওয়ার্নার। শুরুর জুটিতে ৮.৩ ওভারে ১২১ রান তুলে ফেলা অস্ট্রেলিয়াকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। আরেক ওপেনার শর্ট নিজের প্রথম ফিফটি ছুঁয়ে ফিরেন ৭৬ রান করে। ম্যাচ সেরা এই ব্যাটসম্যানের ৪৪ বলের ইনিংসটি সাজানো ৮টি চার ও তিনটি ছক্কায়। দ্রæত ফেরেন ক্রিস লিন। মাত্র ১৪ বলে ৩১ রান করে বিদায় নেন ছন্দে থাকা গেøন ম্যাক্সওয়েল। বাকিটা সারেন অ্যারন ফিঞ্চ। মাত্র ১৪ বলে তিনটি করে ছক্কা চারে ৩৬ রানে অপরাজিত থাকেন বিস্ফোরক এই ব্যাটসম্যান।
ঝড়ের সবচেয়ে অংশটা গেছে বেন হুইলারের ওপর দিয়ে। ৩.১ ওভারে ৬৪ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন তিনি। দুটি বিমার ছোড়ায় বোলিং থেকে সরতে না হলে হয়তো টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি রান খরচের রেকর্ড হয়ে যেত তার। দুই ইনিংস মিলিয়ে ম্যাচে ছক্কা ৩২টি। স্পর্শ করল ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। ২০১৬ সালের অগাস্টে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৩২ ছক্কা হাঁকিয়েছিল দল দুটি।
আগামীকাল হ্যামিল্টনে প্রাথমিক পর্বের শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে নিউ জিল্যান্ড। চার ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া। ৩ ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে নিউ জিল্যান্ড। তিন ম্যাচেই হারা ইংল্যান্ডের পয়েন্ট শূন্য।
সংক্ষিপ্ত স্কোর

নিউ জিল্যান্ড : ২০ ওভারে ২৪৩/৬ (গাপটিল ১০৫, মানরো ৭৬, সাইফার্ট ১২, চ্যাপম্যান ১৬, টেইলর ১৭*,; রিচার্ডসন ২/৪০, স্ট্যানলেক ১/৪৩, টাই ২/৬৪, অ্যাগার ১/২৪)।
অস্ট্রেলিয়া : ১৮.৫ ওভারে ২৪৫/৫ (ওয়ার্নার ৫৯, শর্ট ৭৬, ম্যাক্সওয়েল ৩১, ফিঞ্চ ৩৬*; বোল্ট ১/৪২, হুইলার ০/৬৪, সাউদি ১/৪৮, সোধি ১/৩৫, ডি গ্র্যান্ডহোম ১/৫৬)।
ফল : অস্ট্রেলিয়া ৫ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ : ডার্চি শর্ট (অস্ট্রেলিয়া)।

Please follow and like us:
Facebook Comments