বিএনপি নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে:তোফায়েল#সরকারকে শুধু দেশ নয়, এই উপমহাদেশ ছাড়তে হবে:ফখরুল

ক্রাইমবার্তা ডেস্করিপোর্ট:    বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বিএনপিকে হুশিয়ারি দিয়ে বলছেন, বাংলাদেশের মাটিতে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা যাবে না। নির্বাচন হবেই। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকেই নির্বাচন দেবে। নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। সে নির্বাচন কেউ বানচাল করতে পারবে না।

বাণিজ্যমন্ত্রী এ সময় ভোলার সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নে বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের নামের মহাবিদ্যালয়টি সরকারি করার আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, ইউনিয়নের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টিনের ঘরগুলো বহুতল ভবন করা হবে। ২০১৮ সালের মধ্যে ইউনিয়নের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া হবে। সব রাস্তাঘাট, সেতু-কালভার্ট নির্মাণ হবে।

আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি বশির আহমেদের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মমিন ট্রলু, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আজিজুল ইসলাম প্রমুখ।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভোলা হবে বাংলাদেশের মডেল জেলা, বাংলাদেশের সিঙ্গাপুর। গ্যাসসমৃদ্ধ এ জেলা শিল্পনগরীতে রূপ নিচ্ছে, শিল্পপতিরা এ জেলার জমি কেনায় জমির দাম কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

সমাবেশে দেখা যায়, বিকাল ৩টা বাজতেই বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা, কর্মী-সমর্থক মিছিল নিয়ে মাঠে জমায়েত হয়। মিছিলে তোফায়েল আহমেদকে শুভেচ্ছা জানিয়ে, নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে স্লোগান দেয়া হয়। সমাবেশে বিএনপির ও বিজেপির ৫০ জন নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালে এ আসন থেকে যিনি নির্বাচিত হয়েছেন, তিনি আপনাদের বিপদের সময় খোঁজ নেননি। আমি ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন-দৌলতখান) আসনের সাংসদ হয়েও আপনাদের ভাঙন প্রতিরোধে কাজ করেছি। আপনাদের সুখ-দুঃখের খোঁজ নিয়েছি। ভাঙন মোকাবেলায় আওয়ামী লীগ সরকার সফল হয়েছে। এখন বাস্তবায়ন হবে ভোলা-বরিশাল সংযোগ সেতু। এ স্বপ্নটি বাস্তবায়ন হলে আপনারা ৫ ঘণ্টায় ঢাকা যেতে পারবেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমি মন্ত্রী হই বা না হই, সংসদ সদস্য হলেই ভোলার উন্নয়ন হবে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে সমাদৃত করেছেন। আর বেগম খালেদা জিয়া এতিমের টাকা আত্মসাতের দায়ে জেল খাটছেন। এখন তারা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছেন।

————0————–

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন,অবিলম্বে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেয়া হোক। যে নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করতে পারবে। জোর করে কেউ ভোট নিতে পারবে না। অবৈধ সরকার ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য একের পর এক অবৈধ কর্মকাণ্ড করছে। এর বিরুদ্ধে খুলনার সভা থেকে নতুন সংগ্রামের সূচনা হলো।

শনিবার বিকালে স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়ের সামনে দলীয়প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের তৃতীয় পর্যায়ের কর্মসূচির অংশ হিসেবে খুলনা বিভাগীয় জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এ সরকারের মন্ত্রী ও নেতারা বিদ্যুৎ, শেয়ারবাজার, ব্যাংক লুটপাট করে পুকুর চুরি করছে। তাদের প্রশ্ন করার কেউ নেই। সর্বশেষ ধ্বংস করেছে বিচার বিভাগকে। বন্দুকের মুখে প্রধান বিচারপতিকে দেশত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। সে সময় তার ঘোষণায় যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। দেশ স্বাধীন করেছিলাম। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, কিন্তু এ সরকার সেই গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে।

বেগম জিয়ার কারাজীবনের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ এক মাস একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে কারাগারের সব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তারপরও তার মনোবল হারায়নি। তিনি স্বৈরাচারকে বিদায় দিতে সব রাজনৈতিক শক্তির ঐক্যের জন্য কারাগার থেকে আহ্বান জানিয়েছেন। বেগম জিয়ার মুক্তির দাবির আন্দোলনে সারা দেশে এ পর্যন্ত ৫ হাজার কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হাজার হাজার নেতাকর্মী স্বেচ্ছায় কারাবরণ করতে প্রস্তুতের প্রতিশ্রুতি এ আন্দোলনের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ন্যূনতম আইনি অধিকার দেয়া হচ্ছে না। অবৈধ সরকারের মিথ্যা মামলায় নির্যাতনের শিকার হয়ে তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো মারা গেছে। বড় ছেলে তারেক রহমান এখনও বিদেশে চিকিৎসারত। তাকে বাড়ি থেকে উৎখাত করা হয়েছে। খালেদা জিয়া ‘গণতন্ত্রের মা’। খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখে নির্বাচন করতে তারা ভয় পাচ্ছে। স্বৈরাচারী, ফ্যাসিস্ট এই সরকারকে শুধু দেশ নয়, এই উপমহাদেশ ছাড়তে হবে।

ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালের বিনা ভোটে ১৫৪ জনকে নির্বাচিত করে সংসদকে কলুষিত, এ সংসদ জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি, সংসদে জবাবদিহি নেই, মন্ত্রীরা টাকা চুরি করলেও জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ নেই, জাতীয় পার্টিকে গৃহপালিত বিরোধী দলে বসিয়ে রেখে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় করা হচ্ছে।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও নগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এছাড়াও অতিথি ছিলেন জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সহসভাপতি বরকত উল্লাহ বুলু, সহসভাপতি অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, সাবেক হুইপ মশিউর রহমান, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সৈয়দ মেহেদী রুমি, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুজিবর রহমান সরোয়ার, প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক সোহরাব হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা মাসুদ অরুন, আমিরুজ্জামান খান শিমুল, অমলেন্দু দাস, কবির মুরাদ ও ড. ফরিদুল ইসলামসহ খুলনার ১০ জেলার নেতারা।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, খুলনার হাদিস পার্কে জনসভার অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। কিন্তু বিপুল জনস্রোত খুলনায় নজিরবিহীন জনসভা করেছে। খুলনার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছে। এই আন্দোলনের সূচনা শুধু খালেদা জিয়ার মুক্তি নয়, বাংলাদেশের মানুষকে মুক্তি এবং ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার সূচনা।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দুর্বার আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ধৈর্য হারানো যাবে না। গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলনের জন্য নেত্রীর নির্দেশ রয়েছে। অবৈধ সরকারের আমলে দেশে হত্যা, গুম বেড়েছে। নাশকতার নামে দেশে বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার নেতাকর্মীকে আটক করে কারাগারে রাখা হয়েছে। ১০ টাকার চাল আজ ৬০-৭০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। বিদ্যুতের দাম বেড়েছে ৮-৯ বার। সারের দাম বেড়েছে তিন গুণ।

এর আগে বিভাগীয় জনসভা ঘিরে কড়া অবস্থান নেয় পুলিশ। শনিবার ভোর থেকে নগরীর শহীদ হাদিস পার্ক, পুরাতন যশোর রোড, পিকচার প্যালেস মোড় ও কেডি ঘোষ রোডে বিএনপি’র কার্যালয়ের সামনে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সাঁজোয়া গাড়ি অবস্থান নেয়।

বিএনপি নেতারা জানান, পুলিশ দলীয় কার্যালয়ের সামনের কেডি ঘোষ রোডের পশ্চিম পাশে সমাবেশের অনুমতি দিলেও সকাল থেকে সেখানে মঞ্চ তৈরি ও মাইক টানাতে বাধা দেয়। তবে দুপুর ১টার পর থেকে মঞ্চ তৈরি ও মাইক টানানো শুরু হয়। তারা অভিযোগ করেন, শুক্রবার রাত ও শনিবার সকালে বিএনপির ২৫ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে।

এর আগে শহীদ হাদিস পার্কে একই দিন ও সময়ে বিএনপি ও মহিলা আওয়ামী লীগ জনসভা আহবান করায় উদ্ভূত পরিস্থিতি এড়াতে শুক্রবার শহীদ হাদিস পার্ক ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় জনসভার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করে শনিবার সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত শহীদ হাদিস পার্ক ও আশপাশের এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।

নগরজুড়ে তল্লাশি, জলকামানের টহল ও পুলিশ-প্রশাসনের ব্যাপক নিরাপত্তার মধ্যে বেলা আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বিভাগীয় জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।

Please follow and like us:
Facebook Comments