প্রাণ ফিরে পেয়েছে সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত ২ মাসে ৩ শতাধিক মামলা নিষ্পত্তি

ক্রাইমবার্তা রিপোর্ট:দীর্ঘ প্রায় ১৭ মাস বিচারক না থকায় সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতে সৃষ্টি হয়েছিল মামলা জটের। বর্তমানে ওই আদালতে মামলার সংখ্যাও প্রায় ৩ হাজারের কাছাকাছি। সম্প্রতি এ আদালতে বিচারক হিসেবে যোগদান করেছেন হোসনে আরা আক্তার। তিনি যোগদানের পর থেকে গত দুই মাসে নিষ্পত্তি হয়েছে প্রায় ৩ শতাধিক মামলা। শুধু তাই নয়, ৩ শতাধিক স্বাক্ষীর সাক্ষ্যও গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে জেলার ২২ লক্ষ্য মানুষের জন্য একমাত্র এই আদালতটি প্রাণ ফিরে পেয়েছে। আশার সৃষ্টি হয়েছে বিচারপ্রর্থী সাধারণ মানুষের মধ্যে। আদালত সংশ্লিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ১২ জুলাই ওই আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক জিয়াউল হক অন্যত্র বদলী হন। সেই সময় থেকেই মূলত: বিচারক শুণ্যতার সৃস্টি হয়। অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবে সেসময়ের জেলা ও দায়রা জজ জোয়ার্দ্দার মো. আমিরুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে গত বছর ১১ জুলাই সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বেশ কিছুদিন এ আদালতের দায়িত্ব পালন করেন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মো. আশরাফুল ইসলাম। কিন্তু উভয় আদালতের বিচারকই নিজ নিজ আদালতের দায়িত্ব পালন শেষে এ আদালতে সময় দিতে না পারায় কেবল মাত্র জামিন শুনানী সহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু মামলার কর্যক্রম করা সম্ভব হত। ফলে ধীরে ধীরে সৃস্টি হয় মামলা জটের। ২০১৭ সাল শেষে এ আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় ২ হাজার ৮৪৫টিতে। সে সময় সাতক্ষীরার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় এ আদালতের মামলা জটসহ বিচার প্রার্থীদের সমস্যার বিষয় নিয়ে একাধিক খবর ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ২৯ নভেম্বর সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে নিয়োগ দেয়া হয় হোসনে আরা আক্তারকে। তিনি দায়িত্ব নেয়ার একদিন পরেই শুরু হয় এক মাসের অবকাশকালীন ছুটি। ফলে ২০১৮ সালের জানুয়রী মাস থেকেই মূলত: এ আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। গত ২ মাসে নিষ্পত্তি করা হয়েছে ৩৩৮টি মামলা। এছাড়া সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে ৩১৪ জনের। সব মিলিয়ে দীর্ঘ দিন পর হলেও প্রাণ ফিরে পেয়েছে আদালতের বিচারিক কার্যক্রমে। ফলে স্বস্তি ফিরে এসেছে বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের মধ্যে।

Please follow and like us:
Facebook Comments