সাবেক এমপি শামসুল ইসলাম জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমিরঃ সারাদেশে জামায়াতের বিক্ষোভ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি মাওলানা আ. ন. ম. শামসুল ইসলামকে দলটির ভারপ্রাপ্ত আমির করা হয়েছে। গত ১২ মার্চ দলটির ভারপ্রাপ্ত আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমানকে পুলিশ গ্রেফতার করার পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনের গঠনতন্ত্র মোতাবেক গতকাল শামসুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত আমির নিযুক্ত করা হয় বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

রাজধানীসহ সারাদেশে জামায়াতের বিক্ষোভ

রাজধানীসহ সারাদেশে বিক্ষোভ করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির ভারপ্রাপ্ত আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমানসহ ১০ নেতাকর্মীকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে ও অবিলম্বে তাদের মুক্তির দাবিতে এ বিক্ষোভ করে দলটি।

রাজধানীতে বিক্ষোভ : কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল সকাল ৯টায় কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াত। মিছিলটি সাইন্সল্যাব বাটা সিগন্যাল মোড় থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ধানমন্ডি সিটি কলেজের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

মিছিলপরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ড. হেলাল বলেন, সরকার পরিকল্পিত ভাবে দেশে ফ্যাসিবাদী বাকশালী রাজত্ব কায়েম করছে। এরই ধারাবাহিকতায় সরকার জামায়াত নেতৃবৃন্দ সহ বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদেরকে গনগ্রেফতার, খুন, গুম, অপহরণ পথ বেছে নিয়েছে। সরকারকে অবিলম্বে এসব অপতৎপরতা ও ষড়যন্ত্র বন্ধ করে অধ্যাপক মুজিব সহ গ্রেফতারকৃত জামায়াত নেতাকর্মীকে মুক্তি দিতে হবে এবং সকল ধরনের পুলিশি হয়রানি বন্ধ করতে হবে অন্যথায় ভবিষ্যতে এর জন্য তাদেরকে চরম মূল্য দিতে হবে।

বিক্ষোভ মিছিলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য মুকাররম হোসাইন, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য শামসুর রহমান, কামাল হোসেন, মহানগরী মজলিশে শূরা সদস্য আমিনুর রহমান, সগির বিন সাইদ, অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন তালুকদার, মোঃ আহসান উল্লাহ, মহিব্বুল হক ফরিদ, ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগরী পূর্বের সভাপতি সোহেল রানা মিঠু, ঢাকা কলেজ সভাপতি মেহেদী হাসান সানি, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ সেক্রেটারি তারিক মাসুম, জামায়াত নেতা আব্দুস সাত্তার সুমন, শাহিন আহমেদ খান, ছাত্রনেতা আব্দুল্লাহ আল মারুফ, হাফিজুর রহমান, মাইনুল ইসলাম প্রমূখ।

জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের উদ্যোগে আরেকটি বিক্ষোভ মিছিল উত্তর বাড্ডা থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী
সেক্রেটারি লস্কর মোহাম্মদ তসলিম, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন ও নাজিম উদ্দীন মোল্লা, শ্রমিক নেতা মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ, ঢাকা মহানগরী মজলিশে শুরা সদস্য ডা. ফখরুদ্দীন মানিক, আতাউর রহমান সরকার, অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম খলিল, হোসাইন আহমদ, কুতুবুদ্দীন, ডা. শফিউর রহমান ও আব্দুল আউয়াল আজম প্রমুখ।

 

 

অধ্যাপক মুজিবের মুক্তির দাবীতে রাজধানীতে জামায়াতের বিক্ষোভ

  ভারপ্রাপ্ত আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমানসহ নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আজ মঙ্গলবার রাজধানীতে বিক্ষোভ করেছে জামায়াতে ইসলামী। এতে কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারি সেক্রটারি লস্কর মোহাম্মদ তসলিম বলেছেন, সরকার গণবিচ্ছিন্ন হয়ে ক্ষমতা হারানোর আতঙ্কে হয়ে ওঠেছে। তারা অবৈধ ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত  করতেই জামায়াত সহ বিরোধী দলের ওপর দলন-পীড়নের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। সে ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় তারা ভারপ্রাপ্ত আমীরে  জামায়াত ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এবং রাজশাহী মহানগরী আমীর প্রফেসর ড. আবুল হাশেম সহ নেতৃবৃন্দকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে জুলুম-নির্যাতন চালাচ্ছে । কিন্তু এসব করে  স্বৈরাচারি ও ফ্যাসীবাদী সরকারের শেষ রক্ষা হবে না। তিনি সরকারকে হঠকারিতা পরিহার করে অবিলম্বে ভারপ্রাপ্ত আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমানসহ আটক সকল রাজবন্দীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।

জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত এক বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। মিছিলটি উত্তর বাড্ডা থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন ও নাজিম উদ্দীন মোল্লা, শ্রমিক নেতা মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ,  ঢাকা মহানগরী মজলিশে শুরা সদস্য ডা. ফখরুদ্দীন মানিক, আতাউর রহমান সরকার, এডভোকেট ইব্রাহিম খলিল, হোসাইন আহমদ, কুতুবুদ্দীন, ডা. শফিউর রহমান ও আব্দুল আউয়াল আজম প্রমূখ।

লস্কর তসলিম বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসতে পারবে না বলেই দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধবংস করে দিয়েছে। গণতন্ত্রের রক্ষাকবজ জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতি বাতিল করা হয়েছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। তারা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে পারছে না। দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা না বাড়লেও দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। ক্ষমতাসীন দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বেপরোয়া লুটপাট, চাঁদাবাজী ও দুর্নীতিতে রাষ্ট্রের সকল পর্যায়েই স্থবিরতা নেমে এসেছে। এমতাবস্থায় জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহের জন্যই সরকার ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ভারপ্রাপ্ত আমীরে জামায়াত সহ নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করে নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এর আগে আমীরে জামায়াত মকবুল আহমাদ সহ শীর্ষনেতাদের গ্রেফতার করে কথিত রিমান্ডের নামে হয়রানী চালিয়ে দীর্ঘদিন কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। তিনি বর্ষীয়ান আমীরে জামায়াত মকবুল আহমাদ সকল জাতীয় নেতৃবৃন্দের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি আহবান জানান। অন্যথায় সরকারকে একদিন জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

Facebook Comments
Please follow and like us: