বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর করলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রশান্ত

দেবহাটা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা দেবহাটায় সহকারী শিক্ষা অফিসারকে ফাঁসাতে যেয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর করলেন টিকেট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রশান্ত কুমার মল্লিক। নিজেকে বাঁচাতে এবং বিষয়টি ভিন্ন খাতে নিতে সহকারী শিক্ষা অফিসার মঞ্জুরুল আলমের বিরুদ্ধে উল্টো অভিযোগ দায়ের করেছেন দেবহাটা থানায়। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের টিকেট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, উত্তর পারুলিয়া গ্রামের সন্তোষ মল্লিকের ছেলে প্রশান্ত মল্লিক ৮জুন ২০১০ সালে টিকেট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে নানা রকম দুর্নীতি অনিয়মের সাথে জড়িয়ে পড়ে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একাধীক বার শিক্ষা অফিসে বিভিন্ন অভিযোগ করা হয়। সম্প্রতিক একটি অভিযোগের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার মঞ্জুরুল আলম তদন্তে যায়। সহকারী শিক্ষা অফিসারের তদন্তে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রশান্তের দুর্নীতি অনিয়মের তথ্য বেরিয়ে আসে। প্রশান্ত কুমার মল্লিক তদন্ত প্রতিবেদন নিজের পক্ষে নেওয়ার জন্য অফিসারকে চাপ সৃষ্টি করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। কিন্তু অফিসারের পক্ষ থেকে সাড়া না পেয়ে প্রশান্ত মল্লিক নতুন কৌশল অবলম্বন করে। পরদিন বুধবার সকাল ৮.৪৫ এর দিকে বিদ্যালয়ে হাজির হয়। তখন বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা নাজমুন নাহার স্কুলে অবস্থান করছিলেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রশান্ত অফিস কক্ষে ঢুকলে সহকারী শিক্ষিকা অফিস কক্ষ থেকে বাহিরে চলে আসলে সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অফিস রুমে টানানো জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জননেত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর করে।

এ সময় ভাংচুরের শব্দ শুনে অফিসের দিকে দ্রুত ছুটে আসেন সহকারী শিক্ষিকা নাজমুন নাহার। এসে দেখেন মেঝেতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জননেত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর করে ফেলে রাখা হয়েছে। তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান গত কাল মঙ্গলবার বিকালে সহকারী শিক্ষা অফিসার এই ছবি ভেঙ্গে রেখে চলে গেছেন। এদিকে ৮.৫৮ মিনিটের দিকে হাজির হন অপর সহকারী শিক্ষক ধনঞ্জয় কুমার সরকার। তিনি অফিস কক্ষে প্রবেশ করেই এ দৃর্শ দেখে আতঙ্কে ওঠেন। কেননা তিনি মঙ্গলবার বিকালে সবার শেষে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ বন্ধ করে বাসায় যান। তখন পর্যন্ত ছবি দুইটি অক্ষত ভাবে দেয়ালে টানানো ছিল। তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রশান্ত কুমার মল্লিকের কাছে জানতে চাইলে বলেন, সহকারী শিক্ষা অফিসার মঞ্জুরুল আলম ভেঙ্গে গেছেন বলে জানান। ঘটনার দিন সকাল ৯.১৫ মিনিটের দিকে বিদ্যালয়ে হাজির হন সহকারী শিক্ষা অফিসার মঞ্জুরুল আলম। তিনি পৌছানো মাত্র সাজানো নাটক শুরু করে প্রশান্ত মল্লিক।

এ সময় তিনি বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, নির্বাহী অফিসারসহ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানালে প্রশান্ত নিজেকে বাঁচাতে স্কুল চলাকালে কাউকে কিছু না বলে বিদ্যালয় ত্যাগ করে দেবহাটা থানায় গিয়ে সহকারী শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে। এসময় নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশ মোতাবেক সহকারী শিক্ষা অফিসার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জননেত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুরের অভিযোগে ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চেয়ে দেবহাটা থানায় একটি ডায়েরী করে।
এ দিকে বিষয়টি চারিদিকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ, সংবাদকর্মীরা হাজির হন বিদ্যালয়ে।¬কিছু সময় পরেই তদন্তে আসে দেবহাটা থানা পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জননেত্রী শেখ হাসিনার ভাংচুর করা ছবি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এদিকে, জড়িত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি জোরদাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সহ সর্বস্তরের মানুষ।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নাজমুন নাহার জানান, ভাংচুরের শব্দ শুনে অফিসের দিকে দ্রুত ছুটে আসি। এসে দেখি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জননেত্রী শেখ হাসিনার ভাংচুর করা। আমি স্যারকে জিজ্ঞাসা করলে বলেন, গতকাল মঞ্জুরুল স্যার ভেঙ্গে রেখে গেছেন। তবে তিনি সকালে যে সময় অফিস কক্ষ খুলেছিলেন, তখনও ছবিটি টানানো ছিল।

এদিকে, সহকারী শিক্ষক ধনঞ্জয় কুমার সরকার জানান, আমি সবার শেষে মঙ্গলবার অফিস বন্ধ করে বাসায় যাওয়ার সময় ও ছবি দুটি অক্ষত ছিল। তাহলে মঞ্জুরুল স্যার কিভাবে ভাংচুর করল সেটাই তো আমার প্রশ্ন?

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিলিপ কুমার মন্ডল জানান, বিষয়টি সকালে আমাকে জানানো হয়েছে। মঞ্জুরুল স্যার যদি মঙ্গলবারে ভাংচুর করেন তাহলে তো আমি জানতে পারতাম। তাছাড়া আমি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতি অনিয়মের ব্যাপারে শিক্ষা অফিসে অভিযোগ দায়ের করেছি।

এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষা অফিসার মঞ্জুরুল আলম জানান, আমি কেন বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর করব। বরং প্রশান্ত মল্লিকের অনিয়মের ব্যাপারে তদন্ত প্রতিবেদন ভালো না দেওয়ায় আমাকে ফাঁসাতে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রণব কুমার মল্লিক জানান, বিষয়টি নিয়ে দেবহাটা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এঘটনায় জড়িত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ-আল-আসাদ জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর কারীর বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রশান্ত কুমার মল্লিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি কেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর করবো ।

Please follow and like us:
Facebook Comments