মানবতাবিরোধী অপরাধ:সাতক্ষীরা জামায়াতের সাবেক আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল খালেকসহ চারজনের বিচার শুরু

 ক্রাইমবার্তা রিপোট: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামী সাবেক  আমীর ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ  আবদুল খালেক মণ্ডলসহ চারজনের বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম সাক্ষী ইমাম বারীর (৬৬) সাক্ষ্য গ্রহণ হয়। পরবর্তী সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আজ দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম ও রেজিয়া সুলতানা চমন। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আবদুস সোবহান তরফদার, মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন, আবদুস সাত্তার পালোয়ান। পলাতক দুই আসামির পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী গাজী এমইএইচ তামিম।

আবদুস সাত্তার পালোয়ান  বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্যে দিয়ে মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর আগে ৫ মার্চ আবদুল খালেক মণ্ডলসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

গত বছরের ১৯ মার্চ এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। চার আসামির মধ্যে খালেক মণ্ডল গ্রেফতার, কমান্ডার আবদুল্লাহ হেল বাকী শর্তসাপেক্ষে জামিনে রয়েছে। বাকি দুই আসামি খান রোকনুজ্জামান ও জহিরুল ইসলাম পলাতক। আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, আটক, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- ছয়জনকে হত্যা, দু’জনকে ধর্ষণ, ১৪ জনকে শারীরিক নির্যাতন।

যশোরের ৫ জনের ফরমাল চার্জ দাখিল ১৭ জুন : মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যশোরের মনিরামপুরের সিদ্দিকুর রহমান গাজী ওরফে সিদ্দিকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ দাখিলের জন্য আগামী ১৭ জুন দিন নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ দাখিলের জন্য রাষ্ট্রপক্ষে ৩ মাসের সময় আবেদন করেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন। এর আগে ১০ এপ্রিল যশোরের মনিরামপুরের সিদ্দিকুর রহমান গাজী ওরফে সিদ্দিকসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে তদন্ত সংস্থা। আসামিদের বিরুদ্ধে একাত্তর সালে হত্যা, আটক, নির্যাতন, ধর্ষণসহ ছয়টি অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ মামলা তদন্ত করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক খান। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৩ আগস্ট এ মামলার তদন্ত শুরু হয়ে ২০১৮ সালের ১০ এপ্রিলে শেষ হয়। এতে সাক্ষী করা হয়েছে ৩৩ জনকে।যুগান্তর

Please follow and like us:
Facebook Comments