‘ভোট তো কম, খরচ পাঠান ডিক্লারেশন দিয়ে দিচ্ছি’

ক্রাইমবার্তা ডেস্করিপোট: ভোটে বিজয়ী করার জন্য প্রার্থীর কাছ থেকে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নির্বাচন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। মো. আলিমদ্দিন নামে ওই কর্মকর্তা ৮৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে নির্বাচনে অংশ নেয়া এক নারী প্রার্থী সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন।

মঙ্গলবার আমতলী রিপোর্টার্স ইউনিটিতে শারিকখালী ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডের সদস্য মোসা. হালিমা খাতুন অভিযোগটি করেন।

এদিকে ভোট গণনার দিননির্বাচন কর্মকর্তা আলিমদ্দিন ও প্রার্থী হালিমার মধ্যে হওয়া কথোপকথনের বেশ কয়েকটি অডিও ক্লিপ যুগান্তরের হাতে এসেছে। অডিওতে হালিমাকে আলিমদ্দিনকে বলতে শোনা যায়, হালিমা বেগম? ডিক্লার তো দিয়ে দিব এখন। কিছু খরচ পাঠান না। আপনার তোএকটু ভোট কম দেখতেছি। তো একটা কাজ করেন, আমি একটা নাম্বার দিচ্ছিকিছু খরচ পাঠান,আমি ডিক্লারেশন দিয়ে দিচ্ছি।

নির্বাচন কর্মকর্তাকে আরও বলতে শোনা যায়, হালিমাকে তিনি বলছেন- অাপনি আজ চেয়ারে বসবেন এবং কাল সকালে আমার অফিসে চা খেয়ে যাবেন। আর দেখবেন কিন্তু আমাকে লজ্জা দেবেন না। খরচ একটু বাড়িয়ে আনবেন। আমার এখানেআরও তিনজন অফিসারআছে।

লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, গত ২৯ মার্চ শারিকখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আমি বক প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি। ওইদিন ভোট চলাকালীন সময়ে তালতলী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলিমদ্দিন সকাল ১১টার দিকে আমাকে বিজয়ী ঘোষণা করবেন বলে ৬০ হাজার টাকা ঘুষ নেন।

ওইদিন ভোট গণনা চলাকালীন নির্বাচন কর্মকর্তা হালিমা বেগমকে মোবাইল ফোনে বলেন, এই মুহূর্তে আরও ২৫ হাজার টাকা দিতে হবে। নইলে বিজয়ী ঘোষণা করা সম্ভব হবে না। এ সময় আলিমদ্দিন একটি বিকাশ নম্বর দিয়ে টাকা পাঠাতে বলেন। হালিমা তাৎক্ষণিক ২৫ হাজার টাকা বিকাশ নম্বরে পাঠিয়ে দেন।

হালিমা জানান,তাকে বিজয়ী ঘোষণার জন্য নির্বাচন কর্মকর্তা আলিমদ্দিনের টাকা চাওয়ার কথোপকথন মোবাইল ফোনে রেকর্ডকরা আছে। মোবাইলে আলিমদ্দিন হালিমাকে বলেন- আপনি অল্প কয়েকটি ভোট কম পেয়েছেন। টাকা পাঠালে আপনাকে বিজয়ী ঘোষণা করে দেব। এ সময় আলিমদ্দিন হালিমাকে আরও বলেন- টাকা বাড়িয়ে দিয়েন আমার ওপরে জেলা নির্বাচন অফিসার ও ইউএনও রয়েছে। তাদেরকে টাকা দিতে হবে।

এছাড়া বাছাই চলাকালীন সময়ে প্রার্থীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে ওই নির্বাচন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

তালতলী নির্বাচন কর্মকর্তার এমন কর্মকাণ্ডের বিষয় বরগুনা জেলা প্রশাসক ও জেলা নির্বাচন অফিসে অভিযোগ করেন হালিমা বেগম।

হালিমা আরও বলেন, আমার কাছ থেকে ৮৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে নির্বাচন কর্মকর্তা আলিমদ্দিন আমাকে বিজয়ী ঘোষণা না করে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সালমা বেগমের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে তাকে ১৯ ভোট বেশি দেখিয়ে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরে আমি নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে ঘুষের টাকা ফেরত চাই। তিনি আমাকে দুদিন পর টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু এরপর তিনি আমার মোবাইল ফোন রিসিভ করছেন না। টাকা না দেয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছেন।

শারিকখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৩নং ওয়ার্ডের সদস্যপ্রার্থী মো. জামাল মাতুব্বর বলেন, বাছাইকালে নির্বাচন কর্মকর্তা আলিমদ্দিন ভুল সংশোধনের নামে আমার কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা নিয়েছেন।

৬নং ওয়ার্ডের সদস্যপ্রার্থী আবুল পাহলান বলেন, আমার কাছ থেকে নির্বাচন কর্মকর্তা আলিমদ্দীন ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন। এভাবে সব প্রার্থীদের কাছ থেকে অন্তত ১০ লাখ টাকা ওই নির্বাচন কর্মকর্তা হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও জানান এ প্রার্থী।

তালতলী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলিমদ্দিন টাকা নিয়ে প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণার কথা অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

বরগুনা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, আমি সদ্য যোগদান করেছি। এখনও অভিযোগ হাতে পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Please follow and like us:
Facebook Comments