ব্লাস্টে মিলান সাতক্ষীরায় কৃষকের স্বপ্ন: ফলন ভাল হলেও চাষীদের মুখে হাঁসি নেই: বাড়ছে নারী-পুরুষ মজুরি বৈষম্য

আবু সাইদ বিশ্বাসঃসাতক্ষীরা: ধানের ফলন ভাল হলেও ব্লাস্ট নামক ছত্রাকের আক্রমণে সাতক্ষীরা কৃষকের মুখে হাসি নেই। হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এতে মিলান হয়ে গেছে কৃষকরে স্বপ্ন। ক্ষতি পুশিয়ে নিতে কম দামে নারী শ্রমিক দিয়ে ধানা কাটানো হচ্ছে। চলতি মৌসুমে জেলা জুড়ে পুরা-দমে ইরিধান কাটা শুরু হয়েছে। ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে কৃষকরা সব ধান কাটা শেষ হবে । কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে না পড়লে চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরায় বোরো ধানের উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। ধানের দাম বেশি পাওয়াতে দ্রুত ঘরে তুলতে মরিয়া চাষীরা। গতকাল জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে পুরুষের পাশা-পাশি নরী শ্রমিকরা ধান কাটায় ব্যস্থ সময় পার করছে। এদিকে নারী শ্রমিকদের অভিযোগ তারা মজুরি বৈষম্যের শিকার । যোগ্যতা অনুযায়ী পুরুষ ও নারীদের সমান মজুরি দেওয়ারও বিধান থাবলেও নারীদের মজুরির ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলার সাতটি উপজেলায় ৭৩ হাজার ৮৬২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয় ৩ লাখ ৬২৬ মেট্রিক টন চাল। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৯৭ হাজার ৫১৭ েেমট্রিক টন, কলারোয়ায় ৪৮ হাজার ৪৮৫ মেট্রিক টন, তালায় ৭৩ হাজার ৭৮ মেট্রিক টন, দেবহাটায় ২৫ হাজার ১৮৯ মেট্রিক টন, কালিগঞ্জে ২১ হাজার ৭৯৬ মেট্রিক টন, অশাশুনিতে ২৭ হাজার ৫৪৪ মেট্রিক টন এবং শ্যামনগরে ৬ হাজার ৭১৭ মেট্রিক টন । আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষকরা নিজেদের উদ্যোগে জলাবদ্ধ ও অনাবাদি জমিতে চাষাবাদ করায় এবার জেলায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৭৬ হাজার ৩‘শ ৪৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সবকিছু ঠিক থাকলে বোর ধানের বাম্পার ফলন হবে এবং সুষ্ঠ ভাবে ফসল ঘরে তুলতে পারলে এবার জেলায় ৭ লাখ ৩০ হাজার ৪‘শ ২০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন সম্ভব হবে বলে জানান কৃষি কর্মকর্তারা। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে বিঘা প্রতি ১৮ থেকে ২০ মণ ধান পাবে বলে আশা করছেন চাষীরা।
এদিকে ধান পাঁকারমুখে ব্লাষ্ট রোগ দেখা দেয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। এই রোগ আক্রান্ত হওয়ায় আধাপাকা ধান চিটা হয়ে যাচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, জেলায় এ পর্যন্ত সাড়ে ৭ হাজার হেক্টর জমিতে ব্লাষ্ট রোগ দেখা দিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে মূলত জেলার কয়েকটি স্থানে এই ব্লাষ্ট রোগ দেখা দিয়েছে। দিনে গরম ও রাতে ঠান্ডা পড়ায় বোরো ধানে এই রোগের প্রাদুর্ভাব ছড়াচ্ছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। 
এদিকে শ্রমিকের চাহিদা বেড়ে যাওয়াতে শ্রমিকের মজুরে বেড়েছে দ্বিগুণ। একজন শ্রমিক দৈনিক আট ঘণ্টা প্ররিশ্রম করে যেখানে ২শ থেকে ২শ ৫০ টাকা মজুরি পেতে সেখানে এখন সাড়ে তিনশ থেকে সাড়ে ৪শ টাকা মজুরি দিতে হচ্ছে। বিকেলে ৪ ঘণ্টা পরিশ্রম করে একশ থেকে একশ ৫০ টাকার পরিবর্তে ২শ থেকে ২শ ৫০টাকা পারিশ্রমিক দিতে হচ্ছে। এর পরও জেলা ব্যাপি ধান কাটা শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।
ফলে জেলা ব্যাপি ধান কাটতে পুরুষের পাশা পাশি নারীদের দেখা যাচ্ছে। নাল
নারী শ্রমিকদের অভিযোগ তারা ন্যর্য শ্রম মূল্য পাচ্ছে না। খলিষখালির প্রত্যন্ত অঞ্চল গাছা গ্রামে কয়েকজন নারী শ্রমিকের সাথে কথা হয়। কৃষœনগরেরে সন্ধারাণী জানান,তারা পুরুষের মত ধান কাটতে পারে। তবে মজুরি মাত্র একশ থেকে দেড়শ টাকার মধ্যে । তার এক ছেলে বিএ পড়ছে। অন্যের ক্ষেতে কাজ করে তিনি সংসার চালান। একই ক্ষেতে ধান কাটার সময় কথা হয়,সুধারানী,কুমারানী,তারামনি ও চিত্তরা সরকারের সাথে। তাদের প্রত্যেকের অভিযোগ তারা মজুরি বৈষম্যের শিকার। অভাব গ্রস্থ হয়ে এবছর তারা অনেকে অন্যের জমিতে শ্রম দিচ্ছে। তাদের ছেলে মেয়েদের পড়া লেখা করানোর জন্যে তারা শ্রম দিচ্ছে।তবে পুরুষ শ্রমিকদের দাবী নারীরা ঝুকিপূর্ণ বোঝা বহন করতে পারে না তাই শ্রমমূল্য কম।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ কাজী মো. আব্দুল মান্নান বোরা ধানের ব্লাস্ট রোগ আক্রান্ত হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, এবছর জেলায় ৭৬ হাজার ৩৪৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ হাজার হেক্টর বেশী। সম্প্রতি প্রতিকুল আবহাওয়া যেমন দিনে গরম, রাতে ঠান্ডা, মেঘলা আবহাওয়া, গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি এবং বাতাসের কারনে কিছু কিছু এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে বোরো ফসলে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে।আক্রান্ত এলাকায় কৃষি বিভাগ থেকে সার্বক্ষনিক বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। অনুমোদিত মাত্রায় ছত্রাকনাশক ওষুধ প্রয়োগ করার জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। নতুন করে এই রোগ আর দেখা দেবেনা বলে আশ^াস এই কর্মকর্তার। সার্বক্ষণিকভাবে এ রোগ নিরাময়ে বিভিন্ন প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে তিনি জানান।

Please follow and like us:
Facebook Comments