পাটকেলঘাটায় সরকার দলীয় প্রভাবশালী নেতার অত্যাচারে অতিষ্ঠ সংখ্যালঘু পরিবার

চলেন প্রাইভেট কার, থাকেন এসে লাগানো বাড়িতে, সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ
সেনেরগাঁতির অশোক মোড় চাঁদাবাজ ফারুক মাস্টারের দাপটে অতীষ্ঠ
স্টাফ রিপোর্টার। মো. ফারুক হোসেন পেশায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনি পাটকলেঘাটা থানার সেনেরগাঁতি গ্রামের আবদুল গফুর সানার ছেলে। এখন তার বিত্ত বৈভব এতো বেশি যে তিনি এই পাড়াগাঁয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাড়িতে বাস করেন । আর প্রাইভেট কারে চলাফেরা করেন। জমিয়েছেন সম্পদের পাহাড়।
এই ফারুক হোসেন এলাকার একজন ত্রাস। তার অত্যাচার , ভুয়া মামলা, চাঁদাবাজি, আতংক সৃষ্টি, হুমকি ধামকিতে ধানদিয়ার অশোক মোড় বাজার তটস্থ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সেখানকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন তার দাপটে অতীষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। ফারুক এখন এলাকার মুর্তিমান আতংকের নাম । সে একজন চাঁদাবাজ ও ধান্দাবাজ।
মঙ্গলবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এসে এক সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা বলেন পাটকেলঘাটার সেনেরগাঁতি গ্রামের কাশীনাথ সাহা। তিনি বলেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন জরুরি হয়ে পড়েছে।
কাশীনাথ তার লিখিত বক্তব্যে বলেন ফারুক হোসেন ধানদিয়া গ্রামের মিঠুন সাহার কাছ থেকে পল্লী বিদ্যুতের মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা ধাপ্পা দিয়ে আদায় করে। পরে অবশ্য সাবেক চেয়ারম্যান সন্তোষ কুমার দাসের মধ্যস্থতায় তা উদ্ধার হয়। একই গ্রামের গোকুল সাহা তার নিকট প্রতিবেশি । তার পরিবার ফারুকের দাপটে স্বাভাবিক ধর্মীয় কাজ করতে বাধাগ্রস্থ হয়ে আসছে। গোকুলের ঘরের চালে ফারুক ও তার বাহিনী রাতে ইটপাটকেল মারে। বলে তুই ভারতে চলে যা , না হলে বিপদ আছে। চাঁদাবাজ ফারুক গোকুল সাহাকে মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে এক লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ফারুক হোসেন তার মামাতো বোন রেহেনার কাছে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা চায় । না দেওয়ায় সে তাকে জাগরনী চক্রের এনায়েতপুর শাখার স্কুল থেকে চাকুরিচ্যুত করে। মিথ্যা মামলা দিয়ে সে তাকে জেল হাজত খাটিয়েছে। ফারুক তার মামাদের জমি নিয়ে বিভেদ সৃষ্টি করে মামলার জন্ম দিয়েছে । এমনকি মারামারি করে তার মামা আবদুল কাদেরের হাতও ভেঙ্গে দেয়। এর নেপথ্য ঘটনা হচ্ছে তার মামাতো বোনকে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দিয়ে সম্মত করতে না পারায় ফারুক ভিন্ন মুর্তি ধরে। ফারুক হোসেন পাটকেলঘাটা থানার কয়েকজন অসাধু পুলিশ সদস্যকে ম্যানেজ করে অশোক মোড়ের নিরীহ লোকদের আটক করিয়ে হয়রানি ও তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে। কাশীনাথ সাহা আরও বলেন তার ছেলে মিহির কুমার সাহার দোকানে মিটার লাগানোর কথা বলে ফারুক ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। কিন্তু যথাসময়ে মিটার দিতে না পারায় টাকা ফেরত চাইলে সে পুলিশ দিয়ে মিহিরকে গত ৩ মে তারিখে ধরিয়ে দেয়। একই গ্রামের সুকেশ মাষ্টারের কাছে চাঁদা চেয়ে না পেয়ে ফারুক তাকে গালাগাল করেছে এবং তাকে মিথ্যা মামলায় জেল খাটাবে বলেও হুমকি দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে কাশীনাথ সাহা বলেন ফারুকের বিরুদ্ধে অনেক কুকীর্তির অভিযোগ রয়েছে। এখনই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। ফারুক এলাকার মানুষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করে তাদের শান্তিময় জীবনে অশান্তির সৃষ্টি করছে । এমন কি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের ওপর সে ভিন্ন ধরনের টর্চারিং চালিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করছে। কাশীনাথ সাহা এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার এবং প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মিহির সাহা, দেবাশীষ সাহা, মিঠুন সাহা ও ইউপি সদস্য রমেশ চন্দ্র সাহা।

Please follow and like us:
Facebook Comments