মালয়েশিয়ায় নির্বাচনে এগিয়ে বিরোধি দলের নাজিব রাজাক

ক্রাইমবার্তা ডেস্করিপোট: মালয়েশিয়ায় ক্ষমতার পালা বদলে চলছে ভোট গণনা। এগিয়ে রয়েছেন নাজিব রাজাক। বুধবার সকাল ৮টা থেকে ৮,৮৯৮টি পোলিং বুথে একযোগে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ।

নির্বাচন কমিশন আশা করছে, অন্তত ৮৫ শতাংশ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। নির্বাচনে ২,৩৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

এদিকে বুধবার ভোটগ্রহণের সময় জোহর বারু সিকোলাহ মেনেনগাহ জোহর জায়া ১ এ পোলিং কেন্দ্রে দুজনকে মারধর করার অপরাধে পুলিশ ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে।

বুধবার দুপুরে দিকে ঘটনাটি ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক মোহাম্মদ খলিল কাদের।

কেন্দ্রীয় পার্লামেন্টের ২২২ আসনে এবং ১৩ রাজ্যের মধ্যে ১২ রাজ্যের ৫০৫টি আসনে প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

একটি রাজ্যে বুধবারই ন্যাশনাল ফ্রন্ট বিজয়ী ঘোষিত হয়েছে। মালয়েশিয়াতে ভোটার দেড় কোটি। এর মধ্যে তিন লাখ পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য। ৫ মে তাদের ভোট প্রদান করেছেন।

এখন পর্যন্ত এগিয়ে রয়েছে নাজিব রাজাকের বারিসান ন্যাশনাল ৪৫টি। আর মাহাথির মোহাম্মদের পাকাতান হারাপান পেয়েছে ৩৬টি আসন।

মালয়েশিয়ায় বুধবার অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের সমর্থন নিয়ে জয়ের প্রত্যাশা করছে বিরোধী দল।

মালয়েশিয়ার সাবেক শক্তিশালী নেতা মাহাথির মোহাম্মদ প্রধানমন্ত্রী পদে বিরোধী দলের হয়ে লড়াই করায় এই প্রত্যাশা আরও জোরালো হচ্ছে।

এর আগে মাহাথির মোহাম্মদকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তার একসময়ের শত্রু কারারুদ্ধ বিরোধীদলীয় নেতা আনোয়ার ইব্রাহিম। নাজিবের আর্থিক কেলেঙ্কারি দিন দিন বেড়ে চলায় অবসরে চলে যাওয়া তার একসময়ের গুরু মাহাথির মোহাম্মদ বিরোধী জোটে ভিড়েছেন। হাত মিলিয়েছেন পুরনো শত্রু আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে।

মালয়েশিয়ার ৩ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে মালয় জনগোষ্ঠীর ৬০ শতাংশ, যাদের বেশির ভাগই মুসলিম।

তারা নির্বাচনে বড় প্রভাবকের ভূমিকা পালন করে থাকেন। এই মালয়রাই নাজিবের জোট বারসিয়ান ন্যাশনালের (বিএন) সমর্থনের মূল ভিত্তি।

বিএন দেশটির আদিবাসী চীনা ও আদিবাসী ভারতীয়দের চেয়ে মালয়দের বেশি সুবিধা দেয়াসহ সরকারি চাকরিতে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে।

কিন্তু টানা ২২ বছর মালয়েশিয়া শাসন করা মাহাথির বিরোধী জোটে ভেড়ায় নাজিবের সমর্থনের ঘাঁটিতে বড়সড় একটা ধাক্কা দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

কারণ প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের আর্থিক কেলেঙ্কারি ও দেশে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকারের ওপর এমনিতেও ক্ষোভ জন্মেছে জনগণের।

গত মাসে প্রকাশিত এক জরিপে বলা হয়েছে, বিএন ৮ শতাংশ মালয় সমর্থন হারিয়েছে। কিন্তু মালয়দের সমর্থনে পরিবর্তন আসা সত্ত্বেও বিরোধী দল জয়ী হবে, এমন নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না অনেক বিশ্লেষকই।

উল্লেখ্য, ১৯৫৭ সালে যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে মালয়েশিয়ায় ইউএমএনও নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনে কখনোই হারেনি।

ইউনিভার্সিটি অব তাসমানিয়ার মালয়েশিয়াবিষয়ক বিশেষজ্ঞ জেমস চিন বলেন, সমর্থন পরিবর্তন করা অনেক ক্ষেত্রই কঠিন ঠেকতে পারে অনেক মালয়ের কাছে।

এদিকে গত সোমবার কুয়ালালামপুরের এক হাসপাতাল থেকে এক বিবৃতিতে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘পরিবর্তনের জন্য জনগণের আন্দোলনে শামিল হতে আমি আপনাদের আহ্বান জানাচ্ছি।’ তিনি মাহাথিরকে ভোট দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

সম্প্রতি তার কাধের অপারেশন হয়েছে। কারারুদ্ধ হলেও বিগত কয়েক মাস ধরে হাসপাতালেই আছেন আনোয়ার। এদিকে সোমবার রাতে সরকারপন্থী টেলিভিশনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন নাজিব রাজাক।

তিনি বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক ঘাঁটি এখনো শক্তিশালী ও অক্ষত। এ কারণে আমি আশাবাদী। কারণ আমাদের সেই সামর্থ্য আছে।’

স্বাধীনতা লাভের পর মালয়েশিয়ায় এটি ১৪তম নির্বাচন। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের সব আসনে নির্বাচন হবে। নিম্নকক্ষের আসন সংখ্যা ২২২। যদিও দেশটির উচ্চকক্ষের ৭০টি আসনের সব নিয়োগপ্রাপ্ত, নির্বাচিত নয়।

পাঁচ বছর আগে ২০১৩ সালের সাধারণ নির্বাচনে নাজিবের ক্ষমতাসীন জোট ১৩৩ আসন পেয়েছিল। বিরোধী দলটি আশা করছে, তারা বিএনের আসন কমাতে পারবে এবং অন্তত ১১২ আসন পাবে। আর তাহলে সরকার গঠন করতে পারবে বিরোধী দল।

Facebook Comments
Please follow and like us: