‘ইসি নিস্ক্রীয়, ভোট ডাকাতির মূখ্য ভূমিকা পালন করেছে পুলিশ’

ক্রাইমবার্তা রিপোট :  খুলনা :খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে (ধানের শীষ) বিপুল ভোটে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী (নৌকা) তালুকদার আবদুল খালেক।

মঙ্গলবার রাতে নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকার বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে স্থাপিত নির্বাচনী ফলাফল সংগ্রহ ও ঘোষণা কেন্দ্র থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেককে বেসরকারিভাবে জয়ী ঘোষণা করা হয়।

সর্বশেষ বিভিন্ন উৎস থেকে কেন্দ্রভিত্তিক ভোটের প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী খালেককে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলী।

ফলাফলে দেখা যায়, ২৮৬ কেন্দ্রের সবগুলো কেন্দ্রের ফলাফলে এগিয়ে আছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক। অপরদিকে তার থেকে অর্ধেক পিছিয়ে আছেন বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ২৮৯টি। এর মধ্যে তিনটি কেন্দ্র স্থগিত করা হয়। বাকি ২৮৬ কেন্দ্রের ফলাফলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক পেয়েছেন ১৭৬৯০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু পেয়েছেন ১০৮৯৫৬ ভোট।

২৮৬ কেন্দ্রের মধ্যে দুটি কেন্দ্রে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে একটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী অপরটিতে বিএনপি প্রার্থী জয়ী হন।

খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ২৮৯টি। এর মধ্যে তিনটি কেন্দ্র স্থগিত করা হয়।

এদিকে, কয়েকটি কেন্দ্রে অনিয়ম, অভিযোগ, ব্যালট পেপারে জোরপূর্বক সিল মারার ঘটনা ঘটেছে। আবার ভালো ভোটও হয়েছে অনেক কেন্দ্রে। খুলনা ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী বলেছেন, ভোট ভালো হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী বলেছেন, অন্তত ৪০টি কেন্দ্রে অনিয়ম হয়েছে।

অপরদিকে, রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলী বলেছেন, দুই একটি ঘটনা ছাড়া ভোট সুষ্ঠু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বিএনপির অভিযোগ সুস্পষ্ট নয় বলে উল্লেখ করেছেন।

যদিও অনিয়ম ও জাল ভোটের অভিযোগে একটি কেন্দ্রে ভোট বাতিল, দুটি কেন্দ্র এবং একটি বুথে ভোট স্থগিত করা হয়েছে। এর বাইরে একটি কেন্দ্রের অদূরে বিএনপির নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করা হয়েছে।

২৪ নং ওয়ার্ডের সরকারী ইকবাল নগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট বন্ধ করে দেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আনিসুর রহমান।

এছাড়া নৌকা প্রতীকে সিল মারার ঘটনায় রূপসা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও রূপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেও ভোট স্থগিত হয়।

পাশাপাশি ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের লবণচোরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৌকা মার্কায় সিল মারার অভিযোগে কেন্দ্রটিতে ভোট স্থগিত রাখা হয়।

২২ নম্বর ওয়ার্ডের ফাতিমা উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি বুথে স্থগিত করা হয় ভোট। সেখানেও নৌকা মার্কায় সিল মারা হচ্ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

খুলনার নির্বাচনে মেয়র পদে এবার পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেক নৌকা এবং বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন।

পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুজ্জাম্মিল হক হাতপাখা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মিজানুর রহমান বাবু (কাস্তে) এবং জাতীয় পার্টির এস এম শফিকুর রহমান (লাঙ্গল) নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

–00–

‘ইসি নিস্ক্রীয়, ভোট ডাকাতির মূখ্য ভূমিকা পালন করেছে পুলিশ’

খুলনা : ‘খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট ডাকাতি হয়েছে। এক্ষেত্রে নিস্ক্রীয় ছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোট ডাকাতিতে মূখ্য ভূমিকা পালন করেছে পুলিশ। আর তালুকদার আব্দুল খালেকের ক্যাডাররা বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রবেশ করে ব্যালট বই ছিনতাই করে সিল মেরে বাক্সে ঢুকিয়েছে।’
মঙ্গলবার দুপুর ২টায় গণমাধ্যমকে একথা বলেছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
এসময় বিএনপির পোলিং এজেন্টদের মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের দেয়া হয়। নারী এজেন্টদের লাঞ্ছিত করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়।
এদিকে সকাল সাড়ে ১১টার পর নগরীর রূপসা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পুলিশের সহযোগিতায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ওই কেন্দ্রে প্রবেশ করে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়। পাঁচটি বুথে ঢুকে ব্যালট নিয়ে সীল মারা শুরু করে।
পরে খবর পেয়ে সাংবাদিকরা সেখানে যান। বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুও আসেন এই কেন্দ্রে। সাংবাদিকরা আসার পর পুলিশের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা এসে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেন। ওই সময় ভোট গ্রহণ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। এরপর সাংবাদিকরা চলে গেলে পুনরায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রে প্রবেশ করে ব্যালটে সীল মারে। এদিকে ৩১ নং ওয়ার্ডের লবণচরা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের পাশাপাশি প্রিসাইডিং অফিসারদেরও বের করে দিয়েছে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেকের সমর্থকরা। তারা বুথের ভেতরে ঢুকে যখন সীল মারছিলো তখন প্রিসাইডিং অফিসাররা বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন। তারা সাংবাদিকদের বলেন, তাদের বুথ থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। এদিকে ২০ নং ওয়ার্ডে এইচ আর এইচ প্রিন্স আগাখান উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে পুলিশের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগ সমর্থকরা ভোটারদেরকে বের করে দিয়ে নৌকা মার্কায় সীল মারে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৪ নং ওয়ার্ডে দেয়ানা উত্তর পাড়া কেন্দ্রে বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর হামলা এবং বিএনপি কর্মী মিশুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১৯ নং ওয়ার্ড ইসলামাবাদ ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্টকে মারধর করে প্রশাসনের সামনেই বের করে দেয় সরকার সমর্থকরা। পাইওনিয়ার স্কুল ভোটকেন্দ্র থেকেও প্রশাসনের সামনেই বের করে দেয়া হয়েছে বিএনপির পোলিং এজেন্টদেরকে। গল্ডামারি লায়ন্স স্কুল ও নিরালয় স্কুল কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের এজেন্টকে প্রশাসনের সামনে মারধর করে বের করে দেয়া হয়েছে।
শীর্ষনিউজ/এইচএস

Please follow and like us:
Facebook Comments