১৭ দিনে ক্রসফায়ারে ২৭ নিহত ॥ সোমবার নিহত ৯

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের বিভিন্ন স্থানে র‌্যাব ও পুলিশের সঙ্গে কথিত ক্রসফায়ারে র‌্যাব-পুলিশের অভিযানে গত ১৭ দিনে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২৭ এবং গতকাল সোমবারও কথিত ক্রসফায়ারে ৯ জন নিহত হয়েছেন। এর ফলে মাদক বিরোধী অভিযান শুরু হবার পর সোমবার পর্যন্ত মোট ২৭ জন নিহত হবার কথা নিশ্চিত করেছেন নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা। নিহতদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ১০ থেকে ১১টি করে মামলা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে যশোরের চৌগাছায় তিনজন, চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে একজন, রাজশাহীর পুটিয়ায় মাদক ব্যবসায়ী যুবলীগ নেতা এবং গাজীপুরে একজন নিহত হয়েছেন। হঠাৎ করে পুলিশ ও র‌্যাবের কথিত ক্রসফায়ারে ২৭ জন নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে দৈনিক সংগ্রামের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর এখানে তুলে ধরা হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, নিহতরা সবাই মাদকব্যবসা এবং পাচারের সাথে জড়িত এবং চিহ্নিত অপরাধী। তাদের নামে মামলাও রয়েছে বলে জানান তারা। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিটি ক্ষেত্রেই অভিযান চালানোর সময় মাদকব্যবসায়ী বা পাচারকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর পাল্টা গুলী ছুঁড়েছে। এর পর আত্মরক্ষার জন্য নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা গুলী চালালে তারা নিহত হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, মাদকব্যবসার সাথে সন্ত্রাসী-অস্ত্রবাজরা জড়িত হয়ে পড়েছে এবং যেখানেই তাদের চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে সেখানেই তারা আক্রমণ করে বসছে। “আক্রমণ করলে তো পাল্টা আক্রমণ হবেই, সেই কাউন্টার এ্যাটাকেই এ ঘটনাগুলো ঘটছে”- বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইয়াবাসহ অবৈধ মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে। আসাদুজ্জামান খান বলেন, যেভাবে মাদক বিশেষ করে ইয়াবা সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে তা ঠেকাতে তারা বহুভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রোববার মাদকবিরোধী প্রচার অভিযানের অংশ হিসেবে মানুষকে সচেতন করতে গতকাল সোমবার নিরাপত্তা বাহিনী ঢাকায় স্টিকার বিতরণ কর্মসূচি পালন করে। গত রোববার রাতে রাজশাহী, টাঙ্গাইল, চুয়াডাঙ্গা, নরসিংদী, যশোর ও ঝিনাইদহে এসব বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

যশোর: রোববার দিনগত রাতে যশোরে আরো তিনটি লাশ পড়েছে। এরা সবাই মাথায় গুলীবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। পুলিশের ভাষ্য, মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে গোলাগুলীতে এই তিনজন নিহত হন। ঘটনাস্থল সদর উপজেলার খোলাডাঙ্গা ও ম-লগাতির মাঝামাঝি স্থান এবং তরফনওয়াপাড়া।

চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা : রোববার দিবাগত রাতে যশোরে আরো তিনটি লাশ পড়েছে। এরা গুলীবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। পুলিশের ভাষ্য, মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে গোলাগুলীতে এই তিনজন নিহত হয়। ঘটনাস্থল সদর উপজেলার খোলাডাঙ্গা ও ম-লগাতির মাঝামাঝি স্থান এবং তরফনওয়াপাড়া। এর আগে শনিবার দিনগত রাতে গুলীতে নিহত হন এক যুবক। আর শুক্রবার দিনগত রাতে অভয়নগরে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন তিন মাদক ব্যবসায়ী। এর আগে শনিবার দিনগত রাতে গুলীতে নিহত হন এক যুবক। আর শুক্রবার দিনগত রাতে অভয়নগরে র‌্যাবের সঙ্গে  বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন তিন মাদক ব্যবসায়ী। কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজমল হুদা, এসআই অরুণকুমার দাস এবং উপশহর ক্যাম্পের ইনচার্জ আবদুর রহিমের ভাষ্যমতে, গভীর রাতে সদর উপজেলার খোলাডাঙ্গা ও ম-লগাতির মাঝামাঝি ফাঁকা জায়গায় দুই দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের খবর পায় পুলিশ। ঘটনাস্থলে পুলিশ ফোর্স গেলে অস্ত্রধারীরা পালিয়ে যায়। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ আর দুটি শাটারগান ও দুই রাউন্ড গুলীর খোসা।
অন্যদিকে, একই ধরনের কাহিনি ঘটে সদর উপজেলার তরফ নওয়াপাড়া গ্রামের জনৈক নওয়াব আলীর মেহগনি বাগানে। সেখানে হাজির হয়ে পুলিশ দুটি লাশ দুটি পিস্তল, দুই রাউন্ড তাজা গুলী, গুলীর খোসা এবং ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। লাশ তিনটি গতকাল সোমবার ভোর চারটা থেকে সাড়ে চারটার মধ্যে জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত ডাক্তার কল্লোলকুমার সাহা  বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের সবার মাথায় গুলীবিদ্ধ হয়।
হাসপাতালের কর্মচারীরা জানিয়েছেন, গুলীতে নিহত তিন ব্যক্তির বয়সই ৩৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। এদের একজনের গায়ে লাল স্যান্ডো গেনজি ও চেক লুঙি, একজনের গায়ে জাম রঙের হাফ হাতা গেনজি ও সাদা থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট এবং অন্যজনের খালি গা ও পরনে চেক লুঙি রয়েছে।

ঝিনাইদহঃ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নরেন্দ্রপুর এলাকার র‌্যাবের সঙ্গে “বন্দুকযুদ্ধে” ছব্দুল মন্ডল (৪৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। তিনি নরেন্দ্রপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। এসময় র‌্যাব ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি নাইন এমএম পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলী, ১০০ বোতল ফেনসিডিল, ১৫০ পিস ইয়াবা ও একটি হেলমেট উদ্ধার করেছে। ঝিনাইদহ র‌্যাব-৬ এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক এএসপি গোলাম মোর্শেদের ভাষ্যমতে, রোববার দিনগত রাত ১.৩০টার সময় র‌্যাব-৬ এর একটি টহল দল নরেন্দ্রপুর গ্রামের মাঠে চেকপোষ্ট বসিয়ে টহলে ছিল। এ সময় মাদকের চালান নিয়ে ছব্দুল ম-ল ও তার সহযোগিরা মটরসাইকেল নিয়ে যাচ্ছিল। র‌্যাব সদস্যরা এ সময় তাদের চ্যালেঞ্জ করলে মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলী চালায়। র‌্যাব ও পাল্টা গুলী ছোড়ে। উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলীতে ছব্দুল ম-ল নিহত হন। বাকি ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। এসময় র‌্যাব ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি নাইন এমএম পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলী, ১০০ বোতল ফেনসিডিল, ১৫০ পিস ইয়াবা ও একটি হেলমেট উদ্ধার করে।
কালীগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান খান বলেন, বন্দুকযুদ্ধে নিহতের লাশ কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। তিনি আরো জানান, গতকাল সোমবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

রাজশাহী: রাজশাহীতে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ লিয়াকত আলী মন্ডল (৩৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন, দুই রাউন্ড গুলী, একটি মোটরসাইকেল এবং ৮২৩ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার দিবাগত মধ্যরাতে বেলপুকুর থানার ক্ষুদ্র জামিরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত লিয়াকত পুঠিয়া উপজেলার নামাজগ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম জাব্বার আলী। র‌্যাব-৫, রাজশাহীর উপঅধিনায়ক মেজর এএম আশরাফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ক্ষুদ্র জামিরা গ্রামের একটি আম বাগানে মাদকদ্রব্য বিক্রি হচ্ছে এ তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি বিশেষ দল সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ীরা র‌্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলীবর্ষণ করে।
আত্মরক্ষার্থে র‌্যাব সদস্যরাও এ সময় পাল্টা গুলী ছুড়লে মাদক ব্যবসায়ীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে লিয়াকতকে আহত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মেজর আশরাফ জানান, লিয়াকতের বিরুদ্ধে রাজশাহী এবং নাটোরের বিভিন্ন থানায় ৮ থেকে ১০টি মামলা রয়েছে। র‌্যাবের ওপর হামলা এবং অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের হবে বলেও জানান তিনি।

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা : চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলীতে পুলিশের কথিত বন্দুক যুদ্ধে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী জুনাব আলী নিহত হয়েছে। রোববার রাত ১টার দিকে জীবননগর উপজেলার উথলীতে এ বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদে জীবননগর থানার টহল দল জানতে পারে উপজেলার উথলী মোল্লাবাড়ি সন্ন্যাসীতলা দিয়ে চোরাকারবারীরা বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিলের চালান পাচার করছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে জীবননগর থানার এএসআই মিলন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে রোববার দিবাগত রাতে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকে। রাত ১ টার দিকে মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক পাচার করে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্যকরে উপর্যপুরি গুলী বর্ষণ করে।
এসময় পুলিশ নিজেদেরকে রক্ষা করতে পাল্টা গুলী ছোড়ে। দু’পক্ষের প্রায় ১৫ রাউন্ড গুলী বিনিময়ের এক পর্যায় এক মাদক ব্যবসায়ী গুলীবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে বাকিরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ গুলীবিদ্ধ মাদক ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। পরে পুলিশ তার পরিচয় জানতে পারে গুলীবিদ্ধ নিহত মাদক ব্যবসায়ী উপজেলার উথলী ইউনিয়নের উথলী আমতলা পাড়ার মহাসিন আলীর ছেলে এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী জুনাব আলী (২৫)। এসময় জীবননগর থানার এএসআই মিলন, কনস্টেবল ওয়ালিদ ও জুয়েল আহত হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল হতে একটি ওয়ান শুটার বন্দুক, ২ রাউন্ড কার্তুজের খালি খোসা ও তিনটি রামদা উদ্ধার করে।
হতদরিদ্র জুনাব আলী এক সময় দিনমজুরের কাজ করতো। ২০১৪ সালে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতার ছত্রছায়ায় সে বেপরোওয়া হয়ে ওঠে এবং মাদক ব্যবসায় নেমে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যায়। মাত্র ২ বছরে জেলার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর কাতারে চলে আসে। এরপর বেশ কয়েকবার পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাবের হাতে আটক হলেও সে পার পেয়ে যায়। তার নামে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন থানায় ১১ টি মাদক ও মারামারির মামলা রয়েছে।

রাজশাহী অফিস : রাজশাহীর পুঠিয়ায় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও ওয়ার্ড যুবলীগের নেতা লিয়াকত শিকদার নিহত হয়েছেন। শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার বেলপুকুর ইউনিয়নের ক্ষুদ্র জামিরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত লিয়াকত শিকদার (৪৫) উপজেলার বানেশ্বর ইউনিয়নের নামাজগ্রামের জাক্কার ম-লের ছেলে ও স্থানীয় ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আটটি মামলা ছিল। তিনি ‘রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কর্মকা-ে জড়িত ছিলেন না’ বলে তাকে প্রত্যায়নপত্র দিয়েছিলেন পুঠিয়া পৌর যুবলীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র রবিউল ইসলাম রবি। র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি দল পুঠিয়ার বেলপুুুকুরে মাদকবিরোধী অভিযান চালায়। এসময় মাদক ব্যবসায়ীরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলী ছুড়তে থাকে। র‌্যাবও পাল্টা গুলী ছুড়ে।

এতে মাদক ব্যবসায়ী লিয়াকত শিকদার নিহত হন। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, এক রাউন্ড তাজা ও এক রাউন্ড গুলীর খোসা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, রোববার দিবাগত রাতে ক্ষুদ্র জামিরা গ্রামে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত মাদক ব্যবসায়ী লিয়াকতের পরিচয় সনাক্ত করে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় র‌্যাব। নিহত লিয়াকতের পরিবার জানায়, গতকাল দুপুরের আগ লিয়াকত নিখোঁজ ছিলো। পরে রাতে তারা খবর পান লিয়াকত বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে।

গাজীপুর সংবাদদাতা : গাজীপুরের টঙ্গীতে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। এসময় আহত হন পুলিশের দুই সহকারী উপপরিদর্শক। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। নিহত মাদক ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলাম ওরফে বেসতি রনি টঙ্গীর এরশাদনগর এলাকার হাফিজুল ইসলামের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ১৪-১৫টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

টঙ্গী মডেল থানার ওসি কামাল হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে পুলিশের একটি দল টঙ্গীর নিমতলী এলাকায় মাদক উদ্ধারের অভিযানে যায়। এসময় মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলী ছুঁড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলী ছুঁড়লে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলীবিদ্ধ রনির লাশ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এসময় সেখান থেকে কয়েক পুঁড়িয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়। গোলাগুলীতে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক ওমর ফারুক ও আনোয়ার হোসেন আহত হন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। নিহত রনির বিরুদ্ধে থানায় মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৪-১৫টি মামলা রয়েছে বলে জানান তিনি।

পলাশ (নরসিংদী) সংবাদদাতা : নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল খালিশারটেক এলাকায় র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে ইমাম আলী (৩৪) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে ঘোড়াশাল খালিশারটেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইমাম আলী ঘোড়াশাল এলাকার খালিশারটেক গ্রামের মিলন মিয়ার ছেলে। এদিকে নরসিংদী জেলায় আরও একজন পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহত ব্যক্তির বিস্তারিত পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।
র‌্যাব-১১ এর সিপিএসসি, আদমজীনগন জানান, ইমাম আলী ঘোড়াশাল খালিশারটেক এলাকায় তার বাড়ির পাশে ইয়াবার চালান আদান-প্রদান করছে-এমন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১ এর একটি অভিযানিক দল গতকাল সকালে ঐ এলাকায় পৌঁছিলে মাদক ব্যবসায়ীরা র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলী চালায়। র‌্যাব ও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলী চালায়। এসময় র‌্যাবের গুলীতে মাদক ব্যবসায়ী ইমাম আলী গুলীবিদ্ধ হয় এবং বাকিরা পালিয়ে যায়। পরে র‌্যাব তাকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে র‌্যাব একটি বিদেশী পিস্তল, গুলী, বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে। বাংলাদেশের পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক ব্যবসা ও পাচারের সাথে জড়িত ৬ জন লোক নিহত হয়েছে।
শনিবার থেকে রোববারের মধ্যে টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, দিনাজপুর, যশোর, বরিশাল ও ফেনী জেলায় পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানের সময় এ ঘটনাগুলো ঘটেছে। কর্মকর্তারা বলছেন, এ মাসের চার তারিখ থেকেই পুলিশ ও র‌্যাব মিলে সারা দেশে মাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে।

Please follow and like us:
Facebook Comments