বন্দুকযুদ্ধ’ অব্যাহত, টেকনাফের কাউন্সিলরসহ নিহত ১১

ডেস্ক: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে আজও দেশের বিভিন্ন স্থানে কথিত বন্দুকযুদ্ধে টেকনাফ পৌর কাউন্সিলরসহ ১১জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার দিবাগত রাতে মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ, খুলনা, ঠাকুরগাঁও, চাঁদপুর, টেকনাফ, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও ঝিনাইদহে এসব বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।
নোয়াখালী: নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে শনিবার দিবাগত রাতে পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মো. হাছান প্রকাশ ইয়াবা হাছান (৩৫) নিহত হয়েছেন। এসময় ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গুলি ও ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপজেলার পৌর এলাকার বগাদিয়া ইজতেমা মাঠে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। নিহত হাছান সোনাইমুড়ি পৌরসভার বগাদিয়া মিয়া বাড়ীর হানিফ মিয়ার ছেলে।
পুলিশ জানায়, সোনাইমুড়ি বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা হাছানকে আটক করে শনিবার রাতে হাসানের দেওয়া তথ্য মতে তাকে সাথে নিয়ে অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধারের জন্য বগাদিয়া ইজতেমা মাঠ এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় আগে থেকে ওৎপেতে থাকা হাছানের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুঁড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে কয়েক রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। একপর্যায় ইয়াবা হাছান গুলিবিদ্ধ ও তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাছানকে উদ্ধার করে সোনাইমুড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমেপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মাদক সম্রাট হাছানের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে ৩টিসহ থানায় মোট ২১টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতের মরদেহ সোনাইমুড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে।
মেহেরপুর: মেহেরপুরের গাংনীতে দু’দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ হাফিজুল ইসলাম ওরফে হাফি (৪৫) নামের এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে গাংনী উপজেলার কাথুলি ইউনিয়নের গাঁড়াবাড়িয়া বাথান মাঠ এলাকার এ বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি দেশি পিস্তল ও ১১২ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে।
নিহত হাফিজুল ইসলাম গাংনী ডিগ্রি কলেজপাড়া এলাকার শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হারেজ উদ্দীনের ছেলে।
গাংনী থানার ওসি হরেন্দনাথ সরকার জানান, রাত আনুমানিক ১ টা ৩৫ মিনিটের সময় গাঁড়াবাড়িয়া গ্রামের বাথান মাঠ এলাকায় দু’দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। প্রায় আধাঘণ্টা বন্দুকযুদ্ধের ঘটনার পর পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে গুলিবিদ্ধ হাফিজুল ইসলামকে উদ্ধার করা হয়। পরে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. এমকে রেজা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চাঁদপুর: চাঁদপুরের মতলবে আজ ভোরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সেলিম (৩৭) নামের এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলার হাজীর ডোন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মাদক ব্যবসায়ী সেলিমের বাড়ি মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাদী ইউনিয়নে।

বাগেরহাট: বাগেরহাটের চিতলমারীতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মিঠুন বিশ্বাস (৪৫) নামে এক মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন।নিহত মিঠুন উপজেলার ওই এলাকার খোকা বিশ্বাসের ছেলে। শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার চিংগুরি মোচন্দপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে একটি শাটারগান, দুই রাউন্ড গুলি, দুই কেজি গাঁজা ও ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।
মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ জানায়, থানা ও ডিবি পুলিশ ৭ মাদক মামলার আসামি সেলিমকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় তার সহযোগীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে সেলিম গুলিবিদ্ধ হন। আহত অবস্থায় মতলব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।আজ দুপুরে তার মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে জানিয়ে মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ কুতুবউদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ৪ রাউন্ড গুলি, ৬ রাউন্ড কার্তুজ, ১শ’ ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ২টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। সেলিমের বিরুদ্ধে থানায় ৭ মাদক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় ৪ পুলিশ আহত হয়েছেন।
কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ায় পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শনিবার দিবাগত রাতে মাদক ব্যবসায়ী হালিম মন্ডল (৩৫) নিহত হয়েছেন। শহরের হাউসিং ডি ব্লক মাঠে এ ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ অস্ত্র, গুলি ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে। পুলিশের দাবি এ ঘটনায় তাদের ৪ সদস্য আহত হয়েছেন।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি নাসির উদ্দিন জানান, একদল মাদক ব্যবসায়ী মাদক দ্রব্য ক্রয় বিক্রয়ের উদ্দেশে শহরের হাউসিং ডি ব্লক মাঠে অবস্থান করছে এমন গোপন সংবাদ পেয়ে মডেল থানা পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। জবাবে পুলিশ ও পাল্টা গুলি চালায়। বন্দুকযুদ্ধে একজন গুলিবিদ্ধ হলে তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে।

পুলিশ জানায়, বন্দুকযুদ্ধে নিহত হালিম মন্ডল এলাকার তালিকাভূক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৪ পুলিশ সদস্য আহত হলে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহ নগরীর মরাখলা এলাকায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক যুবক নিহত হয়েছে। নিহতের পরিচয় সনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ।
বন্দুকযুদ্ধ শেষে মাদকও উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, নিহত ওই যুবকসহ আরো কয়েকজন মাদক ভাগাভাগি করছিল।
ডিবি ওসি আশিকুর রহমান জানান, নগরীর মরাখলা এলাকায় কিছু মাদক ব্যাবসায়ী মাদক ভাগাভাগি করছে। এমন খবরে রাত দেড়টার দিকে ডিবি পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এসময় মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপসহ এলোপাথারী গুলি ছুঁরে। এসময় পুলিশও আতœরক্ষার্থে গুলি ছুঁড়ে। পরে বেতারে খবর পেয়ে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের ডিউটিরত মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে এসে গুঁলি ছোড়ে।

এক পর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে গেলে অজ্ঞাত (২৬) এক মাদক ব্যবসায়ীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বন্ধুকযুদ্ধে ডিবির কনস্টেবল হুমায়ুন এবং কনেস্টবল আমীর হামজা আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে ১০০ গ্রাম হেরোইন, ৪টি গুলির খোসা, ২টি রামদা ও ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয় বলেও জানান ডিবি’র ওসি আশিকুর।
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডে পুলিশের সাথে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে উপজেলার মুরাদপুর ইউপি’র গুলিয়াখালী সন্দ্বীপ ফেরী ঘাটে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে।
নিহত মাদক ব্যবসায়ীর  মো. রায়হান  উদ্দিন রেহান (২৮)।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) মোজাম্মেল হক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
টেকনাফ: কক্সবাজারের টেকনাফে র‌্যাবের সাথে বন্ধুকযুদ্ধে একরামুল হক নামের এক শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। তিনি টেকনাফ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর।

শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে টেকনাফ উপজেলা সদর ইউনিয়নের নোয়াখালী পাড়া এলাকার মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে এ ঘটনা ঘটে। নিহত একরাম টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি বলে জানা গেছে।
র‌্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. রুহুল আমিন বলেন, টেকনাফে ইয়াবা পাচারের খবর পেয়ে নোয়াখালী পাড়ায় একব্যক্তির গতিরোধ করে র‌্যাব। এসময় র‌্যাবকে লক্ষ্য করে ওই ইয়াবা ব্যবসায়ী গুলি ছুঁড়ে। র‌্যাব আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান ওই ইয়াবা ব্যবসায়ী।
তিনি আরো বলেন, এসময় তার কাছ থেকে ১০হাজার পিছ ইয়াবা, একটি দেশীয় তৈরি অস্ত্র ও একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।
টেকনাফ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রণজিৎ কুমার বড়ুয়া বলেন, নিহত একরামুল হক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী এবং টেকনাফ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর। রাত ১টার দিকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে রফিকুল ইসলাম তালেবান নামে ৫১ বছর বয়সী এক মাদক কারবারি নিহত হয়েছেন।  নিহত রফিকুল রানীশংকৈল উপজেলার ভরনিয়া (শিয়ালডাম্গী) গ্রামের হুমাউন কবিরের ছেলে।
শনিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার দুর্লভপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
বন্দুকযুদ্ধের পর ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র, এক শ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীটি। দেশব্যাপী চলমান মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ঠাকুরগাঁও জেলায় এটি তৃতীয় বন্দকযুদ্ধের ঘটনা।
ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদ বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহতের সত্যতা  নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, রাতে রাণীংশকৈল উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালাতে যায় পুলিশ। মহারাজাগামী রাস্তা দিয়ে দুর্লভপুর গ্রাম এলাকায় যাওয়ার পর মাদক কারবারি রফিকুলসহ ১০/১২ জন চোরাকারবারি পুলিশের ওপর হামলা চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়।
১০/১৫ মিনিট ধরে চলা বন্দুকযুদ্ধের পর চোরাকারবারিরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় জনতার সহায়তায় ধানক্ষেত থেকে রফিকুলকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রফিকুলকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, বন্দুকযুদ্ধের পর  ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান,কিছু ধারালে অস্ত্র ও এক শ বোতল ফেন্সিডিল জব্দ করা হয়।
নিহত রফিকুলের বিরুদ্ধে বালিয়াডাঙ্গী ও রানীশংকৈল থানায় মাদকদ্রব্য আইনে আটটি মামলা আছে বলে ওসি আব্দুল মান্নান জানান।
এর আগে গত ২৩ মে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে বালিয়াডাঙ্গীর পারুয়া গ্রামের ভেলসা মোহাম্মদের ছেলে আপতাফুল (৩৮) নিহত হয়। এছাড়া গত ২৬ মে আরেক বন্দুকযুদ্ধে ঠাকুরগাঁও সদরের ছিট ছিলারং গ্রামের শফির উদ্দীনের ছেলে মোবারক হোসেন ওরফে কুট্রি (৪৪) নিহত হয়। দুজনই মাদক চোরাকারবারে জড়িত ছিল বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছিল।

 ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বড়দা জামতালা নামক স্থানে মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে ‘সংঘর্ষে’ অজ্ঞাত এক যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া গেছে। তার নাম পরিচয় পুলিশ জানাতে না পারলেও সে শৈলকুপার শেখপাড়া এলাকার মোল্লাপাড়ার সাকিম মোল্লার ছেলে রফিকুল ইসলাম লিটন (৩৬) বলে এলাকাবাসী সনাক্ত করেছে।
শনিবার দিনগত রাত ২টার দিকে শৈলকুপা উপজেলার বড়দা জামতালা গোরস্থানের পাশে কথিত এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
শৈলকুপা থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানান, রাত ২টার দিকে মাদক ব্যবসার টাকা ভাগাভাগী নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়। এতে অজ্ঞাত ওই যুবক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। তিনি বলেন মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে গুলি বিনিময়ের পর ঘটনাস্থলে একটি লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখতে পায় ১ টি ওয়ান শুটারগান, ইয়াবা ও ফেনসিডিল পড়ে আছে। নিহত যুবক মাদক ব্যবসায়ী বলে পুলিশ জানায়। তবে নিহতর নাম পরিচয় এখনো পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি বলেও ওসি জানান।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, রাত ১টার পর থেকেই বড়দা জামতলা এলাকায় গুলির শব্দ শুনতে পারেন তারা। পরে একজনের লাশ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ে। তথ্য নিয়ে জানা গেছে গুলিবিদ্ধ লাশটি মাদক ব্যবসায়ী লিটনের। সে এলাকা ছেড়ে শান্তিডাঙ্গা এলাকায় পালিয়ে ছিল। এদিকে মাদক বিরোধী অভিযানের পর পুলিশের তালিকা ভুক্ত শেখপাড়া বাজারের সবচে বড় মাদক ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন, বকুল জোয়ারদার ও শিকদার হোসেন গা ঢাকা দিয়েছে। তারাই মুলত ওই এলাকার বড় ব্যবসায়ী বলে অভিযোগ রয়েছে।

খুলনা: খুলনায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আবুল কালাম (৪০) নামে এক মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। নিহত কালাম যশোরের অভয়নগরের ইছামতি গ্রামের মো. কাইয়ুম মোল্লা ছেলে।

আজ শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে জেলার দীঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর সিদ্দিকপাশা খেয়া ঘাটে এ ঘটনা ঘটে।

রোববার সকালে খুলনা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এসএম শফিউল্লাহ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহত কালামের কাছে ১০০ পিস ইয়াবা পাওয়া গেছে। তিনি মাদকের পাইকারী বিক্রেতা ছিলেন।

আবুল কালামের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৫টি মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

Facebook Comments
Please follow and like us: